তেহরানের ওপর বাড়ছে মার্কিন চাপ, ইরানের পাশে স্পষ্ট হচ্ছে চীনের সমর্থন
প্রকাশিত : ১৩:৫৭, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১৩:৫৯, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তেহরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ক্রমেই বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী চীনের সমর্থনের সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। দীর্ঘদিন ধরে ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে আসা বেইজিংয়ের হাতে দেশটির অর্থনীতিকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপ থেকে কিছুটা সুরক্ষা দেওয়ার মতো সক্ষমতা থাকলেও, সেই সম্পর্কের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়ানোর সম্ভাবনা কম।
পর্যবেক্ষকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানবিরোধী চাপ ও কৌশলের সমালোচনা করলেও তেহরানকে রক্ষায় চীন তার বর্তমান সীমিত অর্থনৈতিক সহযোগিতার গণ্ডি পেরিয়ে বড় কোনো পদক্ষেপ নেবে—এমন সম্ভাবনা খুবই কম।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, ইরানকে লক্ষ্য করে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ ও নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা চীনের নীতির অংশ হলেও, বেইজিং-তেহরান সম্পর্ক চীনের বৃহত্তর পররাষ্ট্রনীতির একটি মাত্র দিক। যুক্তরাষ্ট্র, উপসাগরীয় দেশ এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য রাষ্ট্রের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার স্বার্থে ইরানের নেতৃত্বকে যেকোনো মূল্যে টিকিয়ে রাখার মতো অবস্থানে যেতে চায় না বেইজিং।
চীনের শাওক্সিং ইউনিভার্সিটির ‘চায়না-মিডল ইস্ট সেন্টার’-এর পরিচালক হংদা ফান বলেন, বৈশ্বিক পর্যায়ে চীনের ব্যাপক স্বার্থ রয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত কমাতে বেইজিং সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে ইরানের স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি ও তীব্র সংঘাতে জড়ানোর সম্ভাবনা নেই।
ফানের ভাষায়, শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকেই নিজেদের মধ্যকার সংঘাতের সমাধান করতে হবে।
চীন ও ইরানের মধ্যে বিশেষ করে জ্বালানি খাতে উল্লেখযোগ্য বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক আধিপত্য নিয়ে দুই দেশের মধ্যে অভিন্ন উদ্বেগও রয়েছে। তবে সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বড় অসমতা রয়েছে—চীনের ওপর ইরানের নির্ভরতা যতটা, ইরানের ওপর চীনের নির্ভরতা ততটা নয়।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানের অর্থনৈতিক বিকল্প সীমিত হয়ে পড়ায় চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক তেহরানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিপরীতে, চীনের অর্থনীতির আকার ও বৈশ্বিক বাণিজ্যিক সম্পর্কের কারণে ইরান বেইজিংয়ের জন্য তুলনামূলকভাবে সীমিত অংশীদার।
চীন-ইরান সম্পর্কের এই বাস্তবতা চলতি সপ্তাহে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) বার্ষিক সম্মেলনেও কিছুটা স্পষ্ট হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক প্রভাবের বিপরীতে ভারসাম্য তৈরির সম্ভাব্য শক্তি হিসেবে বিবেচিত ১০ সদস্যের এই জোটের সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ একাধিক অ-পশ্চিমা নেতার সঙ্গে অংশ নেন।
কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সম্মেলনের ফাঁকে শি জিনপিং ও পেজেশকিয়ানের মধ্যে একটি সংক্ষিপ্ত বৈঠক হয়েছে বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। তবে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে ওই বৈঠকের কোনো উল্লেখ পাওয়া যায়নি।
এরপর মঙ্গলবার এক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো মিসর সফরে যান শি জিনপিং। সেখানে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর প্রতি ‘বহিরাগত হস্তক্ষেপের’ বিরোধিতা করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ইরান-সংক্রান্ত সংকটের কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে চীনের অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত করেন।
সব মিলিয়ে, ইরানের প্রতি চীনের রাজনৈতিক সমর্থন অব্যাহত থাকলেও তেহরানের হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে যাওয়ার ক্ষেত্রে বেইজিংয়ের অনাগ্রহ ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। চীনের জন্য ইরান গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হলেও, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক স্বার্থের তুলনায় সেই সম্পর্কের গুরুত্ব এখনো সীমিত বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
সত্র: আল জাজিরা
আরও পড়ুন










