দেশে ফিরে বিয়ে করার স্বপ্ন ছিল শরিফুলের, মালয়েশিয়ায় মাটিচাপায় সব শেষ
প্রকাশিত : ১৬:০৮, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১৬:১০, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মালয়েশিয়ায় মাটির নিচে চাপা পড়লো প্রবাসী শরিফুলের স্বপ্ন। পরিবারে চলছে শোকের মাতম, দ্রুত লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি স্বজনদের।
মালয়েশিয়ায় একটি কন্সট্রাকশন কোম্পানির নির্মাণাধীন প্রকল্পে কাজ করার সময় আকস্মিক মাটি ধসে গতকাল সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) মারা যান গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বর্নি গ্রামের যুবক শরিফুল ইসলাম ফকির নামের এক যুবক।
পরিবারের দারিদ্রতা দূর করতে ৪ বছর আগে প্রবাসে পাড়ি জমান ২৬ বছর বয়সী এই যুবক। চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে দেশে ফিরে বিয়ে করে সংসার শুরুর কথা থাকলেও, এখন তার মরদেহ ফেরার অপেক্ষায় রয়েছে স্বজনরা।
দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছে পরিবারটি।
পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরাতে ২০২৩ সালে বুক ভরা আশা নিয়ে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন টুঙ্গিপাড়ার বর্ণি গ্রামের মধ্যপাড়া এলাকার যুবক শরিফুল ইসলাম ফকির। ৪ ভাইয়ের মধ্যে বড় ভাই মানসিক প্রতিবন্ধী, তিন বছর আগে দুরারোগ্য ব্যাধিতে মারা যায় মেজ ভাই আর ছোট ভাইটি মাত্রই স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে ভর্তি হয়েছে কলেজে।
পুরো পরিবারের দায়িত্ব ছিল শরিফুলের কাঁধে। একমাত্র উপার্জন ক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে পরিবারের লোকজন।
আগামী ডিসেম্বরেই দেশে ফিরে বিয়ে করার কথা ছিল শরিফুলের। ইচ্ছা ছিল দীর্ঘদিনের প্রবাস জীবনের সঞ্চয় দিয়ে দেশে এসে ভালো একটি পাকা বাড়ি করবেন। কিন্তু সোমবার মালয়েশিয়ার একটি শহরে কাজ করার সময় আকস্মিক মাটিচাপা পড়ে নিঃশেষ হয়ে যায় তার সব স্বপ্ন।
সন্তানকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ মা। এখন একমাত্র দাবি, শেষবারের মতো সন্তানের মুখটা একটু দেখার।
ঘটনার পর থেকে শোকের ছায়া নেমে এসেছে আত্মীয়-স্বজন প্রতিবেশীসহ পুরো এলাকায়।
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপে শরিফুলের মরদেহ দ্রুত স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।
শোকে স্তব্ধ পরিবারটির এখন একটাই আকুতি দ্রুত যেন প্রিয়জনের মরদেহ পৌঁছে দেওয়া হয় প্রিয় মাতৃভূমিতে।
এএইচ
আরও পড়ুন










