ঢাকা, বুধবার   ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হুথিদের মোকাবিলায় যুক্তরাজ্যের সামরিক সহায়তা চায় সৌদি, ইতিবাচক লন

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৬:৪৪, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

ইরানের মদতপুষ্ট ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিদের মোকাবিলায় যুক্তরাজ্যের কাছে সামরিক সহযোগিতা চেয়েছে সৌদি আরব। লন্ডন এখনও এই বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক সম্মতি না দিলেও, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সৌদির এই অনুরোধটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন বলে জানা গেছে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত ঘোষণা না করলেও এই প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ। প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে সৌদি আরবকে পরামর্শ ও কৌশলগত সহযোগিতা দিতে রিয়াদে বেশ কয়েকজন সামরিক উপদেষ্টা পাঠাতে পারেন বার্নহ্যাম।

গত ১১ সেপ্টেম্বর কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য জলপথ 'বাব এল-মান্দেব' প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয় হুথি যোদ্ধারা। ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত এই ৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ সংকীর্ণ প্রণালিটি লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে যুক্ত করেছে, যা সুয়েজ খালের নৌযান চলাচলকেও নিয়ন্ত্রণ করে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি আগে থেকেই বন্ধ রয়েছে। ফলে তেল রপ্তানির জন্য গত সাত মাস ধরে বিকল্প পথ হিসেবে বাব এল-মান্দেব প্রণালিটি ব্যবহার করছিল সৌদি আরব। হুথিরা এই পথটি দখল করে নেওয়ায় রিয়াদ বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সংকটে পড়েছে। 

বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যে বাব আল-মান্দেব প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মধ্যপ্রাচ্যের তেলখনিগুলো থেকে উৎপাদিত মোট তেলের প্রায় ১২ শতাংশ এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পরিবহন করা হয়। হুথিদের এই অবরোধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে এবং যুক্তরাজ্যে জ্বালানির দাম দ্রুত বাড়ছে।

এই সংকটের কারণে অ্যান্ডি বার্নাহামের নেতৃত্বাধীন ব্রিটিশ সরকার তীব্র অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে দেশটির অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

হুথিরা প্রণালিটি দখল করার পরদিনই (১২ সেপ্টেম্বর) তাদের দমনে মার্কিন বিমান সহায়তার অনুরোধ জানিয়েছিলেন সৌদির ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে এই মুহূর্তে সরাসরি কোনো সামরিক অভিযানে জড়ানো ওয়াশিংটনের পক্ষে সম্ভব নয়।

তবে তারা সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করতে পারবে। যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সরাসরি সামরিক সহায়তা না পেয়েই সৌদি আরব এখন যুক্তরাজ্যের দ্বারস্থ হয়েছে, যার ফলশ্রুতিতে যুক্তরাজ্য এই অঞ্চলে নিজেদের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় সৌদির পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে।

এমএইচ 
 


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি