ঢাকা, বুধবার   ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিখোঁজের ৭ দিন পর ডোবায় মিলল শিশু কলির বস্তাবন্দি মরদেহ

পাবনা প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১১:৩৮, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

পাবনায় নিখোঁজের সাতদিন পর মোছা. কামরুন্নাহার কলি (১০) নামে এক শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের দাবি, কলিকে হত্যা করে মরদেহ টুকরো টুকরো করে বস্তায় ভরে ডোবায় ফেলে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কুলোনিয়া গ্রামে বাড়ির পাশের ডোবায় বস্তাবন্দি অবস্থায় মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন স্থানীয়রা। 

পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। স্বজনরা মরদেহটি নিখোঁজ শিশু কলির বলে শনাক্ত করেন। 

পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

নিহত কলি কুলোনিয়া গ্রামের কামাল প্রামাণিকের মেয়ে। মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে স্থানীয় বাসিন্দাসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ ভিড় করেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর বুধবার সন্ধ্যায় বাবার সঙ্গে স্থানীয় শ্রীপুর বাজারে যায় কলি। বাজার শেষে বাবার সঙ্গে বাড়িতে ফিরে বাজারের ব্যাগ মায়ের হাতে দিয়ে বাড়ির পাশে যায় সে। সন্ধ্যা গড়িয়ে গেলেও বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

একপর্যায়ে বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরে কলির পরিহিত স্যান্ডেল পড়ে থাকতে দেখা যায়। এরপর আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ বিভিন্ন সম্ভাব্য স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান না পেয়ে পাবনা সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার বাবা।

নিখোঁজের পর পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে শিশুটির সন্ধান চেয়ে প্রচার চালানো হয়। গত মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) কলিকে উদ্ধারের দাবিতে পাবনা শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন তার স্বজন ও সহপাঠীরা।

এর একদিন পরই বাড়ির পাশের ডোবা থেকে উদ্ধার হলো তার বস্তাবন্দি মরদেহ।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, কলি নিখোঁজ হওয়ার পর তারা পুলিশকে বেশ কিছু তথ্য ও সম্ভাব্য সূত্র দিয়েছিলেন। কিন্তু সেসব তথ্য যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। তাদের ধারণা, স্থানীয় কেউ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। তবে কলির বাবা কামাল প্রামাণিকের সঙ্গে এলাকার কারও কোনো পূর্ববিরোধ ছিল না বলেও জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

কলির বাবা কামাল প্রামাণিক বলেন, ‘বুধবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ৪৫ মিনিটের দিকে আমার মেয়ে নিখোঁজ হয়। এরপর থেকেই আমরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমার মেয়েকে এভাবে দেখতে হবে, তা কখনো ভাবিনি। কারা আমার মেয়েকে হত্যা করেছে, কারা আমাদের এত বড় সর্বনাশ করল—আমি তা জানতে চাই। যারা জড়িত, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।’

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, বস্তাবন্দি অবস্থায় একটি শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহটি কলির বলে স্বজনরা শনাক্ত করেছেন। কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা তদন্ত করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।

এএইচ


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি