ঢাকা, সোমবার   ২৭ জুলাই ২০২৬

নিজেকে গড়ে তোলো, সুন্দর দেশ গড়বে তোমরাই: প্রধানমন্ত্রী

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ২১:২৫, ২৭ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ২১:২৭, ২৭ জুলাই ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, 'আজকের শিশুরা যদি আগামী দিনে নিজেদেরকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারে, তবেই ভবিষ্যতে একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।'

সোমবার বিকেলে বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে ‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত কিশোর-কিশোরীদের বৃহৎ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৫-২৬’-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত শিশু-কিশোর ও খেলোয়াড়দের উদ্দেশে বলেন, 'আমরা দেশকে সঠিকভাবে গড়ে তোলার কাজ করছি। কিন্তু এই কাজটি আমরা তখনই সফলভাবে করতে পারব, যখন তোমরা- আজকে যারা গ্যালারিতে বসে আছো এবং যারা খেলার মাঠে পুরস্কার পেয়েছ- তোমরা নিজেদেরকে আগামী দিনের উপযোগী করে গড়ে তুলবে। এখন পড়ার সময় মন দিয়ে পড়তে হবে, একইভাবে মন দিয়ে খেলতে হবে।'

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, 'ছোট্ট বন্ধুরা সঠিকভাবে নিজেদেরকে গড়ে তুলতে হবে। তোমাদের দিকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ তাকিয়ে আছে। বাংলাদেশ তোমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। তোমরা যদি নিজেদেরকে গড়ে তুলতে পারো, আমরা একটা সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব। এই কাজ আমরা হয়তো শুরু করেছি। কিন্তু বাংলাদেশ গড়ার কাজ তোমাদেরকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। তুমি যত শক্তভাবে নিজেকে গড়ে তুলতে পারবে তুমি তোমার বাংলাদেশকে তত সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে পারবে। '

এ সময় প্রধানমন্ত্রী গ্যালারি ও মাঠে উপস্থিত শিশুদের উদ্দেশ্য বলেন, কি হলো বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে কে কে কাজ করবে গ্যালারিতে যারা আছো তোমরা কারা আমার সাথে আছো তোমরা শুনতে পাও না, হাত তুলে দেখাও তাহলে বুঝবো আমার সাথে তোমরা আছো। সঙ্গে সঙ্গেই শিশুরা উচ্চস্বরে আনন্দে চিৎকার করে ওঠে ও হাত তুলে দাঁড়িয়ে যায়। প্রধানমন্ত্রী বলেন- 'থ্যাংক ইউ সো মাচ। '

প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় বিশ্বাস রোখে বলেন, 'আজ প্যান্ডেল ও গ্যালারিতে উপস্থিত হাজার হাজার শিশুদের মধ্য থেকেই আগামী দিনের সফল ডাক্তার, প্রকৌশলী, স্থপতি, আন্তর্জাতিকমানের ক্রিকেটার, সাঁতারু ও টেনিস খেলোয়াড় বেরিয়ে আসবে, যারা দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। এই শিশু ও তরুণ ক্রীড়াবিদরাই একদিন আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে দেশের জন্য ট্রফি ও সম্মান বয়ে আনবে। তাই ছোট্ট বন্ধুরা তোমরা শক্তভাবে নিজেদের আত্মগঠনে মনোযোগ দাও। '

ছোট্ট শিশুদের কাছে সহযোগিতা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'ছোট্ট বন্ধুরা তোমাদের সকলের কাছে আমি একটি সহযোগিতা চাই। এই দেশটা আমাদের সকলের দেশ। এই দেশের আলো, এই দেশের বাতাস, এই দেশের পরিবেশ আমরা সকলে মিলে যদি ঠিক রাখি তাহলে আমরা একটি সুন্দর পরিবেশে তে পারব। তোমরা নিশ্চয়ই দেখেছো রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় তোমার বাসার আশেপাশে অনেকে বিভিন্ন রকম ময়লা, প্লাস্টিকের বোতল ফেলে যায়। কেউ এগুলো ফেলছে- সেটি পুকুর হোক নদীনালা হোক বাসার আশেপাশে এখন থেকে যদি এরকম কোন দৃশ্য তোমাদের চোখে পড়ে প্লিজ তোমরা তাকে বারণ করবে। দরকার হলে সেই ময়লাটি তোমরা তুলে নিয়ে গিয়ে যেইখানে ময়লা ফেলার জায়গা নির্দিষ্ট সেই জায়গায় ময়লা ফেলতে হবে।’

তিনি বলেন, 'আরেকটি কাজ তোমাদেরকে করতে হবে কেউ যদি পুকুর নদী নালায় ময়লা ফেলে যদি তুমি পারো বন্ধুদেরকে সাথে নিয়ে সেই ময়লাটিকে পরিষ্কার করবে যাতে আমাদের পরিবেশটি আমাদের নদীর পানি পুকুরের পানি যাতে পরিষ্কার থাকে। যাতে সেখানে মানুষ সুন্দরভাবে হাঁটাচলা করতে পারে বা মানুষ সেখানে বসতে পারে। '

শিশুদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, 'প্রতিবছর চেষ্টা করবে তোমার বাড়ির আশেপাশে হোক তোমার স্কুলের আশেপাশে হোক অথবা যেখানে তুমি সুবিধা মনে করো সেইখানে একটি করে গাছ লাগাতে হবে। গাছ যদি আমরা লাগাতে পারি আমাদের পরিবেশটা সুন্দর হবে পরিষ্কার হবে আমরা সকলে মিলে বুক ভরে শ্বাস নিতে পারব। '

কিছু কিছু মানুষ আছে যারা প্রকৃতির প্রতি বিভিন্ন পশুপাখির প্রতি অত্যন্ত নির্দয় হয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আজকে আমার সকল ছোট বন্ধুদেরকে আমি অনুরোধ করব আসো আমাদের আশেপাশে যত কুকুর, বিড়াল, হাঁস, মুরগি, গরু, ছাগল যত রকম পশুপাখি আছে আমরা চেষ্টা করব। এগুলো আমাদের দেশের সম্পদ। আমরা চেষ্টা করব এই যে প্রকৃতির আল্লাহ দেওয়া বিভিন্ন জীব, পশুপাখি এদের যত্ন আমরা চেষ্টা করব যত্ন যদি নিতে পারে অন্তত আমরা চেষ্টা করব তাদের যাতে কোন প্রকার ক্ষতি হতে না পারে।'

বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামোগত সমস্যার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, 'সরকার শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। শিশুরা যে ক্ষেত্রে নিজেদের বিকশিত করতে চায়, তা পড়ালেখা, খেলাধুলা, গান বা ছবি আঁকা যাই হোক না কেন- সরকার তাতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।'

এর আগে, বিকেল ৪টায় বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর আগমন বার্তা ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে স্টেডিয়াম ভর্তি গ্যালারিতে বসা হাজার হাজার খেলাপ্রেমী শিশু-কিশোররা মুহুর্মুহু করতালি দিয়ে তাদের আনন্দ প্রকাশ করে।

প্রধানমন্ত্রী মাঠে বসে বালিকা বিভাগের ফুটবল ফাইনাল এবং বালিকা ও বালকদের ১০০ মিটার স্প্রিন্ট উপভোগ করেন।

পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন এবং ফটোসেশনে অংশ নেন।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব জনাব মো. মাহবুব-উল-আলম।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মহিলা ও শিশু এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

এএইচ


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি