ঢাকা, শুক্রবার   ১৪ আগস্ট ২০২৬

নিজের ২ শিশু সন্তানকে হাওরের পানিতে ফেলে হত্যা করেন পাষণ্ড পিতা

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১৬:০১, ১৩ আগস্ট ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

সুনামগঞ্জে পারিবারিক কলহের জেরে দুই শিশু সন্তানকে কলার সাথে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হাওরের পানিতে ফেলে হত্যা করেছেন এক কামরুল হাসান নামের এক পাষণ্ড পিতা। 

ঘটনাটি ঘটেছে দিরাই উপজেলার পেরুয়া মধুপুর গ্রামে। পরে স্থানীয়রা সন্দেহবশত নিহতদের বাবাকে আটক করে পুলিশে দিলে নিজ হাতে সন্তানদের হত্যার মর্মান্তিক বর্ণনা দেন তিনি।  

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার পেরুয়া মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা দিনমজুর কামরুল হাসান। অভাব অনটনের সংসারে পারিবারিক কলহে মানসিক অশান্তিতে ভোগেন তিনি। শিশুদের ঝগড়াকে কেন্দ্র করে তার স্ত্রী ও মায়ের ঝগড়ায় হাঁপিয়ে উঠেন তিনি। গত শুক্রবার নিজ সন্তানদের হত্যা করতে পরিবারের অগোচরে সিলেট শহরে নিয়ে যান ওই পাষণ্ড বাবা। 
এদিকে শিশু দুটির মা ও স্থানীয়রা অনেক খোঁজাখুঁজির পরও বাচ্চাদের সন্ধান পাননি। শিশু দুটির বাবাও নিখোঁজ থাকায় সবাই ধারণা করেন, হয়তো পিতার সাথেই রয়েছে সন্তান দুটি। তাই তাদের ফেরার অপেক্ষায় বুকভরা আশা নিয়ে থাকেন অভাগী ওই মা।

এদিকে সিলেটে দুই দিন অবস্থানের পর রোববার বিকালে গাড়িতে করে দিরাইয়ের দিকে ফেরার পথে ডাবর এলাকায় নেমে ছোট মেয়ে তুলনা আক্তারকে পানিতে ফেলে হত্যা করার পর বড় ছেলে মুহাদ্দিস মিয়াকে কলার সাথে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় দিরাইয়ের রাস্তার মোড়ে হাওরের পানিতে ফেলে হত্যা করে ওই ঘাতক পিতা। 

সোমবার বিকালে সন্তানদের ছাড়া একা বাড়িতে ফিরেই তাদের পাচ্ছেন না বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করে ঘাতক পিতা কামরুল। 

অপরদিকে সুনামগঞ্জের দেখার হাওর থেকে পুলিশের পর পর দুটি শিশুর লাশ উদ্ধার করার ঘটনা ও পাষণ্ড পিতার অস্বাভাবিক আচরণে স্থানীয়দের সন্দেহ জাগে। 

পরে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেন তারা। পুলিশের কাছে সন্তানদের হত্যার কথা স্বীকার করে ঘাতক বাবা কামরুল হাসান।

দুই শিশু সন্তানতে হত্যার ঘটনায় ঘাতক পিতা কামরুল হাসানকে আদালতে প্রেরণ করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি রতন শেখ।

এএইচ


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি