পণ্যের দাম সহনীয় রাখতে বাজার তদারকি করা হচ্ছে: বাণিজ্যমন্ত্রী
প্রকাশিত : ১৮:৪৬, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১৮:৪৮, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও সহনীয় পর্যায়ে রাখার লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশব্যাপী নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও তদারকি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “জেলা পর্যায়ে গঠিত ‘বিশেষ টাস্কফোর্স’ এবং জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে দেশব্যাপী প্রতিদিন বাজার অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। বাজারে অতিরিক্ত মূল্য আদায়, অবৈধ মজুতদারি, কৃত্রিম সংকট তৈরি, পণ্যের মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করা এবং অন্যান্য ভোক্তা-স্বার্থবিরোধী অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী জরিমানা আদায়সহ প্রয়োজনীয় কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”
পাশাপাশি, বাজারে পণ্যের স্বাভাবিক সরবরাহ ও মুক্ত প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন’-এর মাধ্যমে সিন্ডিকেট, কার্টেল ও যোগসাজশমূলক অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী।
জনস্বার্থে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ এবং দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখার স্বার্থে সরকারের এসব বাজার মনিটরিং, তদারকি ও তড়িৎ আইনি কার্যক্রম ভবিষ্যতেও প্রয়োজন অনুযায়ী অব্যাহত ও অধিকতর জোরদার করা হবে বলে সংসদে পুনর্ব্যক্ত করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বিশেষ কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য মন্ত্রী বলেন, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে বাংলাদেশের দেশভিত্তিক বড় দু’টি ঘাটতি রয়েছে ভারত ও চীনের সঙ্গে। তবে, বিষয়টি শুধু দেশভিত্তিকভাবে না দেখে সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।
রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে সরকার চামড়া, পাট, জাহাজ নির্মাণ, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ও সেমিকন্ডাক্টরসহ কয়েকটি খাত চিহ্নিত করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব খাতে আগামী দিনে রপ্তানি বৃদ্ধির ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। নীতি সহায়তা ও নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে এসব খাতের রপ্তানি সক্ষমতা আরো বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যেসব খাত এখনো সম্ভাবনার পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি, সেগুলোকে সক্ষম করে তোলার কাজ চলছে।
ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতির বিষয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আগের বছরের তুলনায় এ ঘাটতি আরো বেড়েছে। বর্তমানে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১২ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশ ভারতে প্রায় ১ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করে এবং বাকি অংশ ভারত থেকে আমদানি করা হয়।
এএইচ
আরও পড়ুন










