ঢাকা, শনিবার   ১১ এপ্রিল ২০২৬

পরীক্ষায় তুমি ফেল, ৬ মাস পর আমিও ফেল: শিক্ষামন্ত্রী

রাজশাহী প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১৫:৩১, ১১ এপ্রিল ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, সামনে পরীক্ষা। তাতে তুমি ফেল করলে, ছয়মাস পর আমিও ফেল। কারও বাঁচার উপায় নেই। 

শনিবার সকালে রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘আঞ্চলিক স্কিলস অ্যান্ড ইনোভেশন কম্পিটিশন’ সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নানা সমস্যা ও সংকটের কথা শোনেন। শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের নিয়মিত ক্লাস হয় না। নেই হাতে-কলমে শেখার মেশিনারিজ। ল্যাবের যন্ত্রপাতি সব পুরোনো।

শিক্ষামন্ত্রীকে এক শিক্ষক জানান, পলিটেকনিকের ৪৪ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে যাচ্ছে। এ ঝরে পড়া ঠেকাতে সরকারকে উদ্যোগ নিতে অনুরোধ জানান তিনি। পাশাপাশি সাত বছর ধরে চাকরি করলেও বেতন না পাওয়ার অভিযোগ করেন ১৯ জন শিক্ষক। 

এ সময় মন্ত্রী তাদের পুনরায় পরীক্ষা নিয়ে আত্তীকরণ করার আশ্বাস দেন।

এসময় আরেক শিক্ষক জানান, ১৯৬৩ সালে নির্মিত ভবনে ক্লাস ও ল্যাবের কাজ চালাতে হচ্ছে। মেশিনারিজ বলতে কিছুই নেই। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয় পড়ানোর জন্য যেসব সুবিধা দরকার, তার কিছুই নেই। ফলে শিক্ষকরা চাইলেও শেখাতে পারেন না।

প্রথমে শিক্ষার্থীদের সমস্যার কথা শুনে শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। এসময় এক শিক্ষক জানান, ১৯৬৩ সালে নির্মিত ভবনে ক্লাস ও ল্যাবের কাজ চালাতে হচ্ছে। মেশিনারিজ বলতে কিছুই নেই। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয় পড়ানোর জন্য যেসব সুবিধা দরকার, তার কিছুই নেই। ফলে শিক্ষকরা চাইলেও শেখাতে পারেন না।

কারিগরি শিক্ষার উন্নয়নে সরকার কাজ করবে জানিয়ে ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন কারিগরি শিক্ষায় যত টাকা লাগে, তা দেবেন। কিন্তু আমি তো নিতে পারছি না। কত নেবো, কীভাবে নেবো, কোথায় খরচ করবো? আমাকে তো প্রকল্প হাতে নিতে হবে। যেখানে যেখানে সমস্যা, সেখানে কাজ করবো। তা সমাধানে প্রকল্প হাতে নেবো। সেজন্য আমরা শিক্ষার্থীদের কথা শুনছি। ওরা কী চায়, সেটা জানার চেষ্টা করছি। সমস্যা ও সমাধানের উপর লিখিত দেয়ার জন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নির্দেশনা দেন শিক্ষামন্ত্রী।

তিনি বলেন, কারিগরি শিক্ষাকে কোনোভাবেই অবহেলা করা যাবে না। সরকার এ শিক্ষাখাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। দেশের উন্নয়নে পার্থক্য গড়ে তুলতে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই। শিল্পক্ষেত্রের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা প্রদান করতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে সময় অপচয়ের কোনো সুযোগ নেই।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে নিতে একটি অভিন্ন শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। সামাজিক বৈষম্যহীন একটি একক শিক্ষা কাঠামো প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যা দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে বিবেচিত।

তিনি বলেন, কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে হবে। এমন শিক্ষাব্যবস্থা প্রয়োজন, যেখানে শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে কাজ শেখার সুযোগ পাবে এবং সেই জ্ঞান দেশের উন্নয়নে সরাসরি কাজে লাগাতে পারবে। জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মতো দেশগুলো কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমেই বিশ্বে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করেছে। এ ধরনের শিক্ষা মানুষের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করে, যা তাদের জীবনমান পরিবর্তনে সহায়ক। একই সঙ্গে এটি দেশের উন্নয়ন, পরিবারের অগ্রগতি এবং সমাজসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

অনুষ্ঠানে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া ও কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল খায়ের মোঃ আক্কাস আলী বক্তব্য রাখেন। সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলূর রশীদ। 

পরে শিক্ষামন্ত্রীসহ অতিথিরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্টল পরিদর্শন করেন।

আয়োজকরা জানায়, আঞ্চলিক স্কিলস অ্যান্ড ইনোভেশন কম্পিটিশনে ২৮টি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। সেখানে এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা তাদের ৮৪টি উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করে। যার মধ্য থেকে ছয়টি উদ্ভাবনী আগামী ২৭ মে ঢাকায় অনুষ্ঠিত জাতীয় পর্বের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহনের জন্য মনোনীত করা হবে।

এএইচ


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি