পাকিস্তান-চীনের নতুন সীমান্ত কমিশন প্রত্যাখ্যান ভারতের
প্রকাশিত : ২২:৩৩, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে গঠিত নতুন সীমান্ত যৌথ কমিশনকে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ভারত। নয়াদিল্লির বক্তব্য, ভারত যে ভূখণ্ডকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে, তা নিয়ে পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে কোনো ধরনের সীমান্ত-সংক্রান্ত উদ্যোগ নেওয়ার বৈধতা নেই।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, ভারতীয় ভূখণ্ডকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান ও চীনের নেওয়া এই উদ্যোগ নয়াদিল্লির কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অবস্থান হলো, জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ ভারতের অংশ। এসব অঞ্চল নিয়ে অন্য কোনো দেশের মধ্যে চুক্তি বা সমঝোতা হলে তা ভারত মেনে নেবে না। নয়াদিল্লি আরও দাবি করে, পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণাধীন এসব ভূখণ্ড নিয়ে পাকিস্তানের কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি করার অধিকার নেই।
পাকিস্তান ও চীনের সীমান্ত নিয়ে ১৯৬৩ সালে একটি চুক্তি হয়েছিল। এর মাধ্যমে পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত গিলগিট-বালতিস্তান ও চীনের শিনজিয়াং অঞ্চলের মধ্যকার সীমান্ত নির্ধারণ করা হয়।
ভারত দীর্ঘদিন ধরে ওই চুক্তির বৈধতা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছে। নয়াদিল্লির দাবি, জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখের ভূখণ্ডসংক্রান্ত কোনো চুক্তি ভারতের সার্বভৌমত্বের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে না।
ভারত জানিয়েছে, এসব অঞ্চলের অবস্থান পরিবর্তন বা পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণকে স্বীকৃতি দেওয়ার যেকোনো উদ্যোগের বিরোধিতা করবে তারা।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এর আগে জানিয়েছিল, ইসলামাবাদে পাকিস্তান-চীন সীমান্ত যৌথ কমিশনের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। পাকিস্তানের দৃষ্টিতে, দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।
কমিশনের আওতায় সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, যৌথভাবে সীমান্ত জরিপ, বাণিজ্যিক যোগাযোগ এবং সীমান্তবর্তী মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানোর মতো বিষয়গুলোতে সহযোগিতার কথা জানিয়েছে পাকিস্তান।
অর্থাৎ ইসলামাবাদ এই কমিশনকে পাকিস্তান ও চীনের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার একটি কাঠামো হিসেবে দেখছে। তবে ভারত মনে করছে, তাদের দাবিকৃত ভূখণ্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে এ ধরনের কোনো ব্যবস্থা গ্রহণের আইনি ভিত্তি নেই।
পাকিস্তান ও চীনের সীমান্ত সহযোগিতা নিয়ে ভারতের আপত্তি অবশ্য নতুন নয়। জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে চীন ও পাকিস্তানের যৌথ বক্তব্যের ক্ষেত্রেও এর আগে একই ধরনের প্রতিবাদ জানিয়েছিল নয়াদিল্লি।
নতুন কমিশন গঠনের ফলে পাকিস্তান-চীন সীমান্ত সহযোগিতার পাশাপাশি জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখের ভূখণ্ডগত দাবি নিয়ে তিন দেশের পুরোনো মতবিরোধও আবার সামনে এসেছে।
সূত্র: এনডিটিভি
আরও পড়ুন










