ঢাকা, রবিবার   ০২ আগস্ট ২০২৬

ফেসবুকে প্রেম, চীন থেকে নেত্রকোনায় এসে তরুণীকে বিয়ে

নেত্রকোনা প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১৬:৫২, ২ আগস্ট ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

ফেসবুকে পরিচয়, এরপর প্রেম। সেই প্রেমের টানে চীন থেকে প্রায় আড়াই হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে এসেছেন এক চীনা যুবক। ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে বিয়ে করেছেন ফেসবুকে পরিচিত হওয়া তরুণী নাজমিন আক্তার লিজাকে (২০)। 

ধর্মান্তরের পর চীনা যুবক ওয়্যাং সুলিনের নতুন নাম রাখা হয়েছে মো. নুর উদ্দিন (৩০)।

গত ২১ জুলাই আইনজীবীর মাধ্যমে এফিডেভিট করে তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। শুক্রবার মোহনগঞ্জ পৌর শহরের দৌলতপুর এলাকায় কনের পরিবারের পক্ষ থেকে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার আয়োজন করা হয়েছে।

বিদেশি জামাইকে দেখতে কনের বাড়িতে ভিড় করছেন স্থানীয় লোকজন।

লিজা মোহনগঞ্জ সরকারি কলেজের স্নাতক (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁর বাবা মো. নাজিম উদ্দিন স্থানীয়ভাবে ফার্নিচারের ব্যবসা করেন। তাঁদের বাড়ি পাশের সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার ভাটগাঁও গ্রামে। তবে দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা মোহনগঞ্জ পৌর শহরের দৌলতপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন।

অন্যদিকে ওয়্যাং সুলিন চীনের লুবেই প্রদেশের লুরাং শহরের বাসিন্দা। তাঁর পেশা রেস্তোরাঁ ব্যবসা। ভাইয়ের সঙ্গে মিলে তিনি চীনে রেস্তোরাঁ পরিচালনা করেন।

লিজার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় দুই মাস আগে ফেসবুকে লিজার সঙ্গে ওয়্যাং সুলিনের পরিচয় হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত কথাবার্তার একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে তাঁরা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। বিষয়টি নিজ নিজ পরিবারকে জানালে উভয় পরিবারই এতে সম্মতি দেয়।

এরপর গত ১৮ জুলাই চীন থেকে বাংলাদেশে আসেন ওয়্যাং সুলিন। ঢাকার বিমানবন্দরে লিজার পরিবারের সদস্যরা তাঁকে স্বাগত জানান। পরে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় মোহনগঞ্জে।
গত ২১ জুলাই তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। এরপর আইনজীবীর মাধ্যমে এফিডেভিট করে লিজার সঙ্গে তাঁর বিয়ে সম্পন্ন হয়। 

বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে বিয়েকে কেন্দ্র করে প্রতারণার বিভিন্ন ঘটনা সামনে আসায় শুরু থেকেই সতর্ক ছিল লিজার পরিবার। চীনা যুবকের পরিচয় ও পারিবারিক তথ্য যাচাই করতে তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি চীনা দূতাবাসেও খোঁজ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন লিজার বাবা।

মো. নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘ছেলের বাবা-মা ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেছি। চীনা দূতাবাসেও গিয়ে প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নিয়েছি। সব তথ্য সঠিক পাওয়ার পর আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে পরামর্শ করে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিই।’

নাজিম উদ্দিন আরও বলেন, বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাঁর জামাই চীনে ফিরে যাবেন। সেখানে ভিসা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করে লিজাকে চীনে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

চীন থেকে জামাই আসার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই মোহনগঞ্জের দৌলতপুর এলাকায় কৌতূহল তৈরি হয়েছে। স্থানীয় লোকজনের অনেকে কনের বাড়িতে গিয়ে নুর উদ্দিনকে দেখছেন। কেউ কেউ তাঁর সঙ্গে ছবি তুলছেন এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল আরিফ বলেন, ‘পত্রপত্রিকায় বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে বিয়েকে কেন্দ্র করে প্রতারণার বিভিন্ন খবর পড়েছি। তাই প্রথমে কিছুটা চিন্তা ছিল। তবে মেয়ের বাবা চীনা দূতাবাস ও ছেলের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে খোঁজখবর নিয়েছেন। এখন সন্দেহের কোনো কারণ দেখছি না। আমরা নবদম্পতির সুখী জীবন কামনা করি।’

এএইচ


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি