মা না হয়েও জন্ম সনদে নাম অন্তর্ভুক্তি, ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ
প্রকাশিত : ১৪:৩৩, ১ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১৫:০৮, ১ আগস্ট ২০২৬
জন্মদাতা মা না হয়েও অন্য এক নারীর নাম মা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে জন্ম নিবন্ধন সনদ ইস্যুর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট নিবন্ধক ও নিবন্ধন সহকারীর বিরুদ্ধে আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়।
স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় থেকে সম্প্রতি জারি করা এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
চিঠিতে বলা হয়েছে, জন্ম নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় দায়িত্বে অবহেলা এবং তথ্য যাচাই-বাছাইয়ে ব্যর্থতার কারণে এ অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে।
চিঠি অনুযায়ী, পপি আক্তার (জন্ম সনদ নম্বর-১৯৯৭৫১১৪৩২৫০৩৪৪২২) নামের এক নারীকে জন্মদাতা মা দেখিয়ে কাশপিয়া আক্তার (জন্ম সনদ নম্বর-২০২৫৫১১৪৩২৫১১৮৯৬০) নামে একটি জন্ম নিবন্ধন সনদ ইস্যু করা হয়।
পরবর্তীতে অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করে জানা যায়, পপি আক্তার কাশপিয়া আক্তারের জন্মদাতা মা নন। ফলে পপি আক্তারের প্রকৃত জৈবিক সন্তানের জন্ম নিবন্ধনের আবেদনও জটিলতার মধ্যে পড়ে এবং তা সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না।
বিডিআরআইএস (বিডিআরআইএস) সিস্টেম পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল চরশাহী ইউনিয়ন পরিষদ থেকে উক্ত জন্ম নিবন্ধন সনদটি ইস্যু করা হয়েছিল।
রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় জানিয়েছে, জন্ম নিবন্ধন সনদ ইস্যুর আগে আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া তথ্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সত্যতা যাচাই করা নিবন্ধক ও নিবন্ধন সহকারীর আইনগত দায়িত্ব। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যথাযথ যাচাই-বাছাই না করেই সনদ ইস্যু করায় ভুয়া তথ্য সরকারি নথিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, এ ধরনের অবহেলা জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪-এর ২১(১) ধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এটি দায়িত্ব পালনে গুরুতর গাফিলতির শামিল।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দুটি পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, জন্ম নিবন্ধনের জন্য মিথ্যা তথ্য প্রদানকারী ব্যক্তির বিরুদ্ধে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪-এর ২১(২) ধারা অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র যাচাই না করে জন্ম সনদ ইস্যু করায় সংশ্লিষ্ট নিবন্ধক ও নিবন্ধন সহকারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় নির্দেশনায় আরও বলেছে, বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি করে গৃহীত পদক্ষেপের বিস্তারিত প্রতিবেদন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দপ্তরে পাঠাতে হবে।
এএইচ
আরও পড়ুন










