ঢাকা, শনিবার   ২০ জুন ২০২৬

মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা নিয়ে অর্থমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান বিনিয়োগকারীরা

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ২১:১৫, ২০ জুন ২০২৬ | আপডেট: ২১:১৮, ২০ জুন ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা-২০২৫ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মিউচুয়াল ফান্ড খাতের বিনিয়োগকারীরা। তারা দাবি করেছেন, বিধিমালাটি বাস্তবায়িত হলে দেশের ক্লোজড-এন্ড (মেয়াদি) মিউচুয়াল ফান্ড খাত এবং সামগ্রিক পুঁজিবাজারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এ পরিস্থিতিতে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য অর্থমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

শনিবার (২০ জুন) রাজধানীর বিজয়নগরে ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্ট ফোরাম (সিএমজেএফ) কার্যালয়ে বাংলাদেশ মিউচুয়াল ফান্ড বিনিয়োগকারী ঐক্য ফ্রন্ট আয়োজিত এক সেমিনারে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। 
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিনিয়োগকারী সংগঠনের প্রতিনিধি, বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীরা উপস্থিত ছিলেন।

সেমিনারে সংগঠনের সভাপতি ম. জহুরুল হক বলেন, গত সপ্তাহে বিএসইসি চেয়ারম্যানের আশ্বাসের পর ও রাশেদ মাকসুদের ইন্ধনপ্রাপ্ত বিএসইসির এক দল দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা মেয়াদী মিউচুয়াল ফান্ডগুলো বন্ধ করতে উঠে পড়ে লেগেছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের একাধিক অনুরোধও তারা কর্ণপাত করছে না। বাস্তবে বিধিমালাটি কার্যকর করার উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। তার অভিযোগ, বাজারসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষ ও বিশেষজ্ঞদের আপত্তি সত্ত্বেও বিষয়টি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিগত ২ সপ্তাহ আগে কয়েকজন বিনিয়োগকারী আদালতে বিধিমালার অধীনে পুঁজিবাজারে বিদ্যমান মেয়াদী মিউচ্যুয়াল ফান্ড অবসায়ন/রূপান্তরের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া স্থগিতের আবেদন করলে আদালত সাময়িক স্থগিতাদেশ দেন। তবে পরবর্তীতে বিএসইসির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চেম্বার কোর্ট সেই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে। এ ঘটনায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, নতুন মিউচ্যুয়াল ফান্ড আইন-২০২৫ এর ৬২(২) ধারা অনুযায়ী ট্রেডিং মূল্য/বাজার মূল্যের সাথে প্রকৃত সম্পদ মূল্যের তুলনার মাধ্যমে মেয়াদি ফান্ডকে অবসায়ন কিংবা বে-মেয়াদি ফান্ডে রূপান্তরের প্রক্রিয়ার নজির পৃথিবীর কোনো দেশে নেই। 

এ বিষয়ে একাধিক বিশেষজ্ঞ জানান, ট্রেডিং মূল্য/বাজার মূল্য কখনো সম্পদ ব্যবস্থাপক কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে থাকে না। সেক্ষেত্রে সম্পদ ব্যবস্থাপকের প্রকৃত পারফরমেন্স বিবেচিত হয় ফান্ডের ক্রয়মূল্য ও ফেয়ার ভ্যালুতে প্রকাশিত ইউনিট প্রতি নিট সম্পদের মূল্যের ওপর ভিত্তি করে। এক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনা করে প্রকৃত সম্পদ মূল্য বা এনএভির সাথে ওই ফান্ডের ফেস ভেল্যুর তুলনা করে মেয়াদি ফান্ডকে মূল্যায়ন করলে একদিকে খারাপ ফান্ডগুলো অবসায়ন কিংবা বে-মেয়াদি ফান্ডে রূপান্তর হবে, অন্যদিকে ভালো ফান্ডগুলো মেয়াদপূর্তিতে অবসায়ন কিংবা বে-মেয়াদি ফান্ডে রূপান্তর হবে। 

তাদের মতে রাশেদ মাকসুদ কমিশন একটি স্বার্থান্বেষী কুচক্রী মহল দ্বারা প্রভাবিত হয়ে নতুন মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা-২০২৫ এর মতো কালো আইন বাস্তবায়ন করেন।

সেমিনারে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশন এর সভাপতি এস এম ইকবাল হোসেন বলেন, “মেয়াদি ফান্ডগুলোর সম্পদ বিক্রি করে বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দিতে হলে বাজারে তাৎক্ষণিকভাবে কয়েক হাজার কোটি টাকার শেয়ার বিক্রির চাপ সৃষ্টি হতে পারে। এতে বাজারের সূচক নিম্নমুখী হওয়ার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

তিনি আরো বলেন, বিগত কয়েক বছরে পুঁজিবাজারে নেওয়া কিছু নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে বাজারসংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন রয়েছে। তার মতে, মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা-২০২৫ এবং মার্জিন রুলস-২০২৫ পুনর্বিবেচনা/ বাতিল করা প্রয়োজন। পুঁজিবাজারের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থে এসব বিধিমালার কার্যকারিতা ও সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের অংশগ্রহণে আলোচনা হওয়া উচিত।

সেমিনারে অংশ নেওয়া মিউচ্যুয়াল ফান্ড বিনিয়োগকারী ঐক্য ফ্রন্ট এর সাংগঠনিক সম্পাদক গনেশ রায় বলেন, ”অনেকেই বলেন বাংলাদেশে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের সম্পদ ব্যবস্থাপকরা বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো কিছু করেনি।” এটা একেবারেই ভিত্তিহীন কথা। কারণ সম্পদ ব্যবস্থাপক হিসেবে শুধু রেইস এ্যাসেট ম্যানেজমেন্টই তাদের ফান্ডের শুরু থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২০০০ হাজার কোটি টাকার উপরে লভ্যাংশ প্রদান করেছে। অন্যান্য বড় কোম্পানির তুলনায় প্রদানকৃত লভ্যাংশের ডিভিডেন্ড ইল্ড অনেক বেশি। তাহলে বোঝা যাচ্ছে একটা নির্দিষ্ট গোষ্ঠী মিউচ্যুয়াল ফান্ডের বাজারকে অস্থিতিশীল করার জন্য এ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে। 

তিনি আরো বলেন, এ ধরনের অপপ্রচার শুধু মিউচ্যুয়াল ফান্ডের জন্যই নয় সামগ্রিক পুঁজিবাজারের জন্য ক্ষতিকর। এ ধরনের অপপ্রচারে পা না দেওয়ার জন্য বিনিয়োগকারীদের তিনি অনুরোধ করেন। 

সেমিনারে কয়েকজন বিনিয়োগকারী বলেন, ক্লোজড-এন্ড ফান্ডগুলো দীর্ঘদিন ধরে বাজারে স্থিতিশীল বিনিয়োগ কাঠামো হিসেবে কাজ করছে। তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন তদন্ত ও তদারকির মাধ্যমে গত কয়েক বছরে সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অতিরিক্ত চাপের মধ্যে রাখা হয়েছে।

তারা আরও বলেন, ওপেন-এন্ড ফান্ডে রূপান্তরের পরও ইউনিটধারীরা অর্থ উত্তোলনের আবেদন করলে ফান্ডগুলোকে সম্পদ বিক্রি করেই অর্থ পরিশোধ করতে হবে। ফলে বাজার থেকে অর্থ বেরিয়ে যাবে এবং শেয়ার বিক্রির চাপ আরও বাড়বে।

তাই বিনিয়োগকারীদের বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনায় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) গত ১১ জুন ট্রাস্টিদের ক্লোজড-এন্ড ফান্ডগুলোর রূপান্তর বা অবসায়ন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা বাতিলসহ, অনতিবিলম্বে মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা-২০২৫ এর মতো কালো আইন বাতিল করার দাবি জানান।

এএইচ


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি