রাবিতে ছবি তোলা নিয়ে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ
প্রকাশিত : ১৮:৫৮, ১৯ মে ২০২৬
‘ছবি তোলা’ ও ‘ভুল শিক্ষাবর্ষের’ পরিচয় দেওয়াকে কেন্দ্র করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুর আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেটের আমতলা চত্বরে ফলিত রসায়ন ও রসায়ন প্রকৌশল বিভাগ এবং ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের শিক্ষার্থীরা হাতাহাতি ও মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার ডিনস কমপ্লেক্স ভবনের সামনে ইইই বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা তাদের জুনিয়রদের সঙ্গে বসেছিলেন। এ সময় র্যাগিং হচ্ছে কি না তা খতিয়ে দেখতে সেখানে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা। তবে কোনো ধরনের র্যাগিংয়ের আলামত না পাওয়ায় তারা ফিরে যান।
ওই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন ফলিত রসায়ন ও রসায়ন প্রকৌশল বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আল জাবিদ হাসান। পরে ইইই বিভাগের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, জাবিদ তাদের ছবি তুলে প্রশাসনকে পাঠিয়েছেন। একই সঙ্গে পরিচয় জানতে চাইলে তিনি নিজেকে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী বলে দাবি করেন। পরে দুই বিভাগের সিনিয়র শিক্ষার্থীরা বিষয়টি মীমাংসা করেন।
তবে মঙ্গলবার ওই ঘটনার জের ধরে আবারও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ইইই বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী জাবিদ ও তাঁর সহপাঠীদের কাছে আগের দিনের ঘটনার ব্যাখ্যা চান। পরে উভয় বিভাগের সিনিয়ররা বিষয়টি আবারও মীমাংসা করেন।
এরপর জাবিদ ও তাঁর কয়েকজন সহপাঠী পরিবহন মার্কেট এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় ইইই বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী জাবিদের এক নারী সহপাঠীকে উদ্দেশ্য করে মন্তব্য করেন। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয় এবং একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়।
ঘটনাস্থলে রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। তবে তাদের সামনেই উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, “ভুল বোঝাবুঝিকে কেন্দ্র করে গতকাল থেকে দুই বিভাগের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। আপাতত বিষয়টি সমাধান হয়েছে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মাহবুবর রহমান বলেন, “ছবি তোলা ও ভিন্ন শিক্ষাবর্ষের পরিচয় দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করেই এ বিরোধের সূত্রপাত। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়। পরে বিষয়টি দুই বিভাগের চেয়ারম্যানের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”
এমআর//
আরও পড়ুন










