ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৮ জানুয়ারি ২০২৬

রূপগঞ্জে ডিআইজি’র ভাতিজা পরিচয়ে সাংবাদিককে হুমকি

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ২০:৪৯, ৬ জানুয়ারি ২০২৬

হুমকিদাতা ইউপি সদস্য কাউসার মিয়া

হুমকিদাতা ইউপি সদস্য কাউসার মিয়া

Ekushey Television Ltd.

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ডিআইজি’র ভাতিজা পরিচয়ে দৈনিক মানবকণ্ঠের সাংবাদিক রাশেদুল ইসলামকে পুলিশ দিয়ে তুলে নিয়ে গুম করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ভোলাব ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কাউসার মিয়ার বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক।

সাংবাদিক রাশেদুল ইসলাম জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে দৈনিক মানবকণ্ঠে কর্মরত রয়েছেন। পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে তিনি বিভিন্ন সময় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের অনিয়ম, দুর্নীতি ও মাদক সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করে আসছেন। এসব সংবাদ প্রকাশের জেরে একাধিকবার তাকে হুমকি ও চাপের মুখে পড়তে হয়েছে।

তিনি আরও জানান, গত ২৮ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ১২টার দিকে ভোলাব ইউনিয়নের ইউপি সদস্য কাউসার মিয়া তাকে ফোন করে নিজেকে ডিআইজি নাজমুলের ভাতিজা পরিচয় দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। গালাগালাজ করতে নিষেধ করলে ক্ষিপ্ত হয়ে কাউসার মিয়া তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের পুলিশ দিয়ে তুলে নিয়ে গুম করার হুমকি দেন। 

এ ঘটনায় ওই  সাংবাদিক ও তার পরিবার বর্তমানে চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্ত কাউসার মিয়ার বাবা আব্দুর রশিদ ভোলাব ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। সেই সূত্রে কাউসার সাবেক পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং তার প্রভাব খাটিয়ে ইউপি সদস্য নির্বাচিত হন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, কাউসার ও তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে চারিতালুক এলাকায় অবৈধভাবে কৃষিজমিতে বালু ভরাট, অবৈধ ইটভাটা নিয়ন্ত্রণসহ নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন। তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পেত না।

স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, গত ৫ আগস্টের পর কাউসার মিয়া রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করে বিএনপিতে যোগ দেন। দল পরিবর্তনের পরও তার বেপরোয়া আচরণ বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় রূপগঞ্জে কর্মরত সাংবাদিকরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়া স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। তারা দ্রুত অভিযুক্ত ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্য কাউসার মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি ডিআইজি নাজমুলের ভাতিজা পরিচয়ে রাশেদুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলেছি। তবে তাকে কোনো হুমকি দিইনি বা গুম করার কথা বলিনি। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।”

এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সবজেল জানান, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এমআর// 


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি