ঢাকা, শুক্রবার   ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, || অগ্রাহায়ণ ২৯ ১৪২৬

Ekushey Television Ltd.

আজীবন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ করবে বাংলাদেশ প্রতিদিন

প্রকাশিত : ১৯:২৪ ২৩ মার্চ ২০১৯ | আপডেট: ২০:৪৯ ২৩ মার্চ ২০১৯

দশম বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে পাঁচ বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে সম্মাননা দিয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপের প্রতিষ্ঠান ইস্ট-ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের (ইডব্লিউএমজিএল) সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন। জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে সঙ্গে নিয়ে তাদের হাতে এ সম্মাননা তুলে দেন বিশিষ্ট শিল্পপতি ও বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান। এ সময় বাংলাদেশ প্রতিদিন আজীবন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ করবে বলে জানান আহমেদ আকবর সোবহান।

শনিবার রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরার (আইসিসিবি) নবরাত্রী হলে বাংলাদেশ প্রতিদিনের দশম বর্ষে পদার্পণের অনুষ্ঠানে এ সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। সম্মাননা প্রাপ্তরা হলেন কবি শামসুর রহমান (মরণোত্তর), কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন, খ্যাতিমান অভিনেত্রী কবরী সারোয়ার ও ববিতা এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হানিফ সংকেত।

অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মাহবুব তালুকদার, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম, দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ খোকন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান বিশিষ্ট শিল্পপতি আহমেদ আকবর সোবহান বলেছেন, ইস্ট-ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ আজীবন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে, স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করবে। এদেশের তরুণ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা এবং যুদ্ধের সময় স্বাধীনতাবিরোধীদের ভূমিকা কী ছিল- তা জানাতে আমাদের মিডিয়া কাজ করবে।

আহমেদ আকবর সোবহান বলেন, বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম, বাংলাদেশ প্রতিদিন, দৈনিক কালের কণ্ঠ, ডেইলি সান, নিউজটোয়েন্টিফোর টেলিভিশন ও রেডিও ক্যাপিটাল ইস্ট-ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের প্রতিষ্ঠান। আমি সব সময় একটি কথাই বলি- স্বাধীনতার স্বপক্ষে, মুক্তিযদ্ধের পক্ষে আমাদের মিডিয়া আজীবন কাজ করবে।

বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আরও বলেন, এদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতাকে আজীবন বাঁচিয়ে রাখতে হবে। আজকের তরুণদের জানাতে হবে এদেশ কিভাবে স্বাধীন হয়েছে। এদেশ কারা কিভাবে স্বাধীন করেছে। স্বাধীনতাবিরোধীদের ভূমিকা কী ছিল সেটাও তরুণ প্রজন্মকে জানাতে হবে। আশা করছি ইতোমধ্যে এ তরুণ প্রজন্ম সব কিছু জেনেছে। আমি মনে করি প্রথম শ্রেণি থেকে মাস্টার্স পর্যন্ত সব শ্রেণিতে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা বিষয়ে একটি পাঠ্যপুস্তক থাকা উচিত।

৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশের নাম কখনো ভোলার নয় উল্লেখ করে আহমেদ আকবর সোবহান বলেন, আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে আমাদের প্রধানমন্ত্রী নারী, স্পিকার নারী, অনেক বিশিষ্টজনও নারী। বাংলাদেশ প্রতিদিনে ১০ বছর ধরে নারীদের নিয়ে প্রতিদিন একটি করে লেখা প্রকাশিত হচ্ছে। নারীরা যেন সবকিছুতে অগ্রগামী থাকতে পারে। আজকে নারী-পুরুষে কোনো ভেদাভেদ নেই। বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় নারীরা এখন এগিয়ে।

বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান বলেন, আমি সম্পাদক নঈম নিজামসহ বাংলাদেশ প্রতিদিনের সবাইকে বলেছি- তোমরা বড় হয়েছো, বড়টা ধরে রাখা অনেক কঠিন। এটা ধরে রাখার জন্য আজীবন পরিশ্রম করতে হবে। প্রতিদিন সংগ্রাম করতে হবে। প্রতিদিন পরীক্ষা দিতে হবে। একদিন পত্রিকা খারাপ হলে সেখান থেকে সমালোচনা শুরু হয়। কোনো ভুল করা যাবে না। জনগণের পক্ষে আমরা আজীবন থাকবো। জনগণের পক্ষে থাকতে গিয়ে আমাদের সম্পাদকরা, প্রকাশক ও সংবাদকর্মীরা অনেক মামলা-মোকাদ্দমার শিকার হয়েছেন। আগামী দিনেও মামলা হতে পারে। কিন্তু আমরা সত্য থেকে বিচ্যুত হবো না।

দেশের অন্য সংবাদমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান বলেন, আপনারা বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রচার করুন। এটি মিডিয়ার সবচেয়ে বড় কাজ। সেই কাজটি আমরা চেষ্টা করছি, করে যাচ্ছি। সারাবিশ্বে ছড়িয়ে দিন, আসুন বাংলাদেশকে দেখুন। যতোদিন ইস্ট-ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের পত্রিকা থাকবে, ততোদিন আমরা বাংলাদেশকে ব্র্যান্ডিং করবো। কারণ বাংলাদেশ আজ আমাদের এখানে নিয়ে এসেছে। আমাদের মতো ব্যবসায়ী, নঈম নিজামের মতো সম্পাদক ও মেয়রদের কারণে মাথা উঁচু করে বলতে পারি- ‘আমরা বাংলাদেশি’।

অনুষ্ঠানে কেক কেটে শুভক্ষণের সূচনা করেন বসুন্ধরা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাফওয়ান সোবহান। এ সময় তিনি বলেন, বাংলাদেশ প্রতিদিনের ১০ বছর পূর্তি উদযাপন হচ্ছে। এতে আমি অনেক আনন্দিত। আমরা এখন শীর্ষে আছি। আগামীতেও আমরা শীর্ষে থাকবো।

এ সময় বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানের সবার ভালোবাসার কারণে বাংলাদেশ প্রতিদিন শীর্ষে এসেছে। বর্তমানে পত্রিকার সাফল্য ধরে রাখা অনেক কঠিন। তবে এই চ্যালেঞ্জ জয়ে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

কেক কাটা অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ইডব্লিউএমজিএলভুক্ত দৈনিক কালের কণ্ঠের সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, বাংলাদেশ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক পীর হাবিবুর রহমান, দৈনিক কালের কণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক মোস্তফা কামাল, ডেইলি সানের উপদেষ্টা সম্পাদক নাদীম কাদির, স্যাটেলাইট টেলিভিশন নিউজটোয়েন্টিফোরের নির্বাহী পরিচালক হাসনাইন খুরশেদ প্রমুখ।

আরকে//

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি