ঢাকা, রবিবার   ২৫ আগস্ট ২০১৯, || ভাদ্র ১০ ১৪২৬

Ekushey Television Ltd.

আবারও ‘বাঘের মুখে’ রোহিঙ্গারা !

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১২:২৩ ১৮ জানুয়ারি ২০১৮ | আপডেট: ১২:২৪ ১৮ জানুয়ারি ২০১৮

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নিধন অভিযান ও ধর্ষণ থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা আবারও কি সেনা-ফোবিয়ার মুখে পড়তে যাচ্ছেন ? রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সরকারের মধ্যে যে চুক্তি হয়েছে, তাতে রোহিঙ্গারা নিজ বাড়িতে নয়-বরং তারা থাকবেন সেনা তত্ত্বাবধানে। এ অবস্থায় রোহিঙ্গাদের মনে প্রশ্ন, তারা কি আবারও বাঘের মুখে পড়তে যাচ্ছেন? নারীদের আশঙ্কা, তারা কি আবারও সেনাদের দ্বারা ধর্ষণের শিকার হতে যাচ্ছেন?

এদিকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার একমত হলেও দেশটিতে এখনো রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতন বন্ধ হয়নি। গতকাল বুধবারও দেশটির রাখাইন প্রদেশে সেনা নির্যাতনে কমপক্ষে ৭ রোহিঙ্গা নাগরিক নিহত হয়েছেন। এতে রোহিঙ্গাদের মধ্যে সেনা আতঙ্ক থেকেই যাচ্ছে। বিশেষ করে যাদের হাত থেকে বাঁচতে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল, তাঁদের মুখেই আবার ফিরিয়ে দেওয়ায় তাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। কেউ কেউ রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে।

রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যে সহিংসতার ভয়ে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, তা এখনও বন্ধ হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে ঝুঁকি নিয়ে দেশে ফিরলেও রোহিঙ্গারা নিজ ঘরবাড়িতে ফিরতে পারবেন না তারা। বরং তাদের থাকতে হবে মিয়ানমার সেনবাহিনীর আশ্রয়ে। অথচ তাদের বিরুদ্ধেই রয়েছে রোহিঙ্গা গণহত্যা চালানোর অভিযোগ। এতে রোহিঙ্গাদের আশঙ্কা দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। তাদের আশঙ্কা, তারা কি আবারও বাঘের মুখে শিকার হয়ে পড়তে যাচ্ছেন ?

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে যে চুক্তি করেছে মিয়ানমার, তাতে সপ্তাহে ১৫০০ রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে দেশটি। আগামী ২৩ জানুয়ারি থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন শুরু হতে যাচ্ছে। আগামী দুই বছরের মধ্যে ৬ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত নেওয়া হবে বলে দুই দেশ চুক্তি করেছে।

এছাড়া কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে জরিপ চালিয়ে তৈরি করা রোহিঙ্গা নিবন্ধন অনুসারে, বাংলাদেশে নতুন পুরনো মিলিয়ে ১০ লাখ রোহিঙ্গা বাস করছে। কেবল গত বছরের আগস্টে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে ৭ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

এদিকে এ চুক্তির সমালোচনা করে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামেনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল চুক্তিটিকে অপরিপক্ক বলে অভিহিত করেছে। তারা বলছে, মিয়ানমারে অবস্থার উন্নতি না হলেও দেশটিতে তড়িঘড়ি করে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো হবে বাঘের মুখে শিকার তুলে দেওয়ার মতো ঘটনা।

জাতিসংঘের মহাসচিব এন্থনিও গুতেরেস রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন ইস্যুতে বলেন, রোহিঙ্গাদের দেশটিতে ফিরে যাওয়ার আগে অবশ্যই তাদের জীবনের নিরাপত্তা দিতে হবে। শুধু তাই নয়, তাদের নিজেদের বাড়িতেই তাদের ফিরিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। এছাড়া, যে ক্যাম্পের কথা বলা হচ্ছে, সেই বিশেষ ক্যাম্পেও আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীগুলোর প্রবেশাধিকার দেওয়ার তাগিদ দেন তিনি।

এদিকে সেইভ দ্য চিলড্রেন-এর প্রধান পল রুনাল্ডস বলেন, “বর্তমান অবস্থায় যদি রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়, এটি তাদের জন্য খুব মারাত্মক পরিণতি বয়ে আনবে। যুগ যুগ ধরে তাদের উপর যে অত্যাচার নির্যাতন হয়েছে, তা আর কখনো হবে না, এমন নিশ্চয়তা পাওয়ার আগ পর্যন্ত তাদের দেশটিতে ফিরিয়ে দেওয়া হবে মারাত্মক ভুল।”

এদিকে বেসরকারি একটি সংস্থার প্রধান মেঘনা গুহঠাকুরতা বলছেন, চুক্তি অনুযায়ী স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তনের কথা বলা হয়েছে, কিন্তু যারা যাবে তাদের তো সেখানে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর আশ্রয়েই থাকতে হবে। কক্সবাজারের রোহিঙ্গাদের নিয়ে গবেষণা করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মেঘনা গুহঠাকুরতা। এদিকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর উপর কোন ধরণের আস্থা রাখতে পারছেন না আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো।

এদিকে রোহিঙ্গাদের ফেরতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর তত্ত্বাবধান প্রয়োজন বলে মনে করেন জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীগুলো রোহিঙ্গাদের ফেরতে তত্ত্বাবধান করতে পারলে রোহিঙ্গাদের মধ্যে আস্থা ফিরে আসতে পারে।


সুত্র: সিএনএন, বিবিসি, গার্ডিয়ান
এমজে/

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি