ঢাকা, সোমবার   ০৯ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্য সংকট, প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়াল

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১০:২৩, ৯ মার্চ ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের প্রভাব বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধাক্কা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েল বা জ্বালানি তেলের প্রতি ব্যারেলের দাম বেড়ে ১০৮ দশমিক ৭৭ ডলারে পৌঁছেছে।

২০২০ সালে করোনা মহামারি শুরুর পর একদিনে এটিই তেলের দামের সবচেয়ে বড় বৃদ্ধি। এর আগে গত সপ্তাহে দাম ২৮ শতাংশ বেড়েছিল।

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ায় প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল সরবরাহ বাজার থেকে কমে যাচ্ছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে— যা ২০২২ সালের পর প্রথমবার। 

সোমবার (৯ মার্চ) গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে সহিংসতা বাড়ার পর তেলের সরবরাহ সংকট নিয়ে উদ্বেগ দ্রুত বেড়েছে। এর জেরে চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে তেলের দাম এবং বিশ্ব শেয়ারবাজারেও বড় ধরনের দরপতন দেখা গেছে।

সপ্তাহান্তে ইরানের রাজধানী তেহরান ও আশপাশের অন্তত পাঁচটি জ্বালানি স্থাপনায় হামলার খবর পাওয়া গেছে। হামলার পর তেহরানে ‘ধ্বংসস্তূপের মতো পরিস্থিতি’ তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়। একই সময়ে সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক হামলার আশঙ্কায় কুয়েতের জাতীয় তেল কোম্পানিও সতর্কতামূলকভাবে উৎপাদন কমানোর ঘোষণা দিয়েছে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত এক সপ্তাহ ধরে বন্ধ রয়েছে। সাধারণত বিশ্বে সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়েই পরিবহন করা হয়। 

এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক বাজারের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এশিয়া–প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের লেনদেন শুরুতেই ১৬ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৮ দশমিক ১০ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দামও ১৯ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ১০৮ দশমিক ৭২ ডলারে পৌঁছায়।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছেন, তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি বিশ্বের নিরাপত্তা ও শান্তির জন্য খুবই সামান্য মূল্য এবং এটি যুদ্ধের স্বল্পমেয়াদি প্রভাব। তার মতে, ইরানের পারমাণবিক হুমকি ধ্বংস হলে তেলের দাম দ্রুত কমে আসবে।

তবে ইরান সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর এক মুখপাত্র বলেন, যদি ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলারের বেশি তেলের দাম মেনে নিতে পারেন, তাহলে এই যুদ্ধ চালিয়ে যান।

এদিকে তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক শেয়ারবাজারেও। গতকাল সোমবার টোকিওতে জাপানের নিক্কেই সূচক ৬ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক কমেছে ৫ দশমিক ৯ শতাংশ এবং অস্ট্রেলিয়ার এএসএক্স ২০০ সূচক নেমেছে প্রায় ৩ দশমিক ৯ শতাংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেলের ঘাটতি বৈশ্বিক বাজারে বড় চাপ তৈরি করেছে এবং পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার কোনো ইঙ্গিত নেই। বছরের শুরুতে যেখানে তেলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৬০ ডলার, সেখানে এখন তা প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বেড়ে গেছে।

কাতারের জ্বালানি মন্ত্রীও সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল রপ্তানিকারক দেশগুলো কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হতে পারে। সে ক্ষেত্রে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

এদিকে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী শত শত তেলবাহী জাহাজ এখন স্থবির হয়ে আছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী হুমকি দিয়েছে, এই পথ ব্যবহার করলে যেকোনো জাহাজে হামলা চালানো হতে পারে।

এএইচ


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি