ঢাকা, রবিবার   ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, || আশ্বিন ৮ ১৪২৬

Ekushey Television Ltd.

ইটিভি’তে সাংবাদিক মামুনের স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৯:৪৭ ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | আপডেট: ২১:২৫ ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকি বলেছেন, সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা। এ পেশায় এমন লোকই আসা উচিত, যারা দেশের মাঝে সর্বশ্রেষ্ঠ মন-মানসিকতার অধিকারী, সততার সাথে যারা তাদের দায়িত্ব পালন করেন। আমার ছাত্র মামুনুর রশিদ ছিল এমনই একজন সাংবাদিক। 

মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টায় একুশে টেলিভিশনের (ইটিভি) সিনিয়র রিপোর্টার মামুনুর রশিদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ইটিভি কার্যালয়ে আয়োজিত এক স্মরণ সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তরুণ এ সাংবাদিককে এভাবেই স্মরণ করেন সাবেক ঢাবি উপাচার্য।

তিনি বলেন, মামুন আমার ছাত্র ছিল। সেই প্রথম বর্ষেই আমি তার বুদ্ধিদীপ্ত চেহারা আর হাসিমুখ দেখেই বুঝতে পেরেছিলাম মামুন বড় কিছু হবে। তার মেধা, মনন ও সাহসিকতার প্রতি তার প্রতিষ্ঠানের যে আস্থা-বিশ্বাস ছিল, তার যথাযোগ্য মর্যাদাও সে রাখতে সক্ষম হয়। যার প্রমাণ- এত অল্প বয়সেই তার প্রধানমন্ত্রী বিট-এর মত একটা মোস্ট সিনিয়র পোস্টে রিপোর্টিং করা।

তিনি আরও বলেন, একজন সাংবাদিকই দেশের একজন দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদকে তুলে ধরেন। একজন সাংবাদিকের দায়িত্ব একজন অসৎ আমলার স্বরূপ উন্মোচন করা। একজন সাংবাদিকের দায়িত্ব শিক্ষকতার নামে যারা অনৈতিক কাজে লিপ্ত, তাদেরকে প্রকাশ্যে আনা, এগুলো প্রচার করা। 

কিন্তু এগুলো কে প্রচার করবে? এগুলো প্রচার করবে সেই, যার মাঝে সততা আছে, যার মাঝে মূল্যবোধ আছে, যার মাঝে সাংবাদিকতার বস্তুনিষ্ঠতাই সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হিসেবে কাজ করে। আর সেই ধরনেরই বেস্ট মাইন্ডের অধিকারী ছিল সাংবাদিক মামুন। কিন্তু সেই মামুনকেই আমরা হারিয়েছি, যোগ করেন আরেফিন সিদ্দিকি। 

এসময় সাংবাদিক মামুনের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে তিনি বলেন, মৃত্যু এক অমোঘ বিধান। যা থেকে কারও এড়ানোর কোনও উপায় নেই। কিন্তু এত অল্প বয়সে মামুনের বিদায়ে আমরা ব্যথিত, মর্মাহত। আজ হয়তো আমরা আনুষ্ঠানিকভাবেই তাকে স্মরণ করছি, কিন্তু আমরা আমাদের প্রিয় মামুনকে প্রতিদনই স্মরণ করব। তার মাগফেরাত কামনা করব।

একইসঙ্গে সাংবাদিক মামুনুর রশিদ তরুণ প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। 

এর আগে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইটিভির ব্যাবস্থাপনা পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আলী শিকদার বলেন, অপার সম্ভাবনাময় একজন তরুণ সাংবাদিকের নাম সাংবাদিক মামুনুর রশিদ। তিনি আমাদের পরিবারের একজন সদস্য ছিলেন। তিনি আজ আমাদের মাঝে নেই। আসলে সব কিছুই অমোঘ নিয়তিই বলতে হবে। এখানে মানুষের করার কিছুই নেই। কখন কার বিদায় হয়ে যাবে কেউই বলতে পারেনা। 

কিন্তু সমাজে কিছু মানুষ থাকে যাদের নিয়ে প্রত্যাশা থাকে, যাদের কাছে আমরা প্রত্যাশা করি। কিন্তু এই অমোঘ নিয়মেই তারা যখন অকালে চলে যান, তখন স্বাভাবিকভাবেই আমরা ব্যথিত হই, সবাই আমরা বেদনায় ভারাক্রান্ত হই। সেরকমই একটি ঘটনায় গত বছর আমরা আমাদের সিনিয়র রিপোর্টার মামুনুর রশিদ আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। 

তিনি আরও বলেন, এই একবছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আমরা তাকে স্মরণ করছি, তার জন্য দোয়া করছি, তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। আমরা সৃষ্টি কর্তার কাছে দোয়া করব, তিনি যেখানে যে অবস্থায় আছেন, আল্লাহ যেন তাকে নিজ হেফাজতে রাখেন। 

এসময় সাংবাদিক মামুনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ইটিভির পক্ষ থেকে গ্রামের বাড়ি নড়াইলে তার সমাধিতে পুস্পস্তবক অর্পণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব সাখাওয়াত মুন, সহকারী প্রেস সচিব ইমরুল কায়েস, বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) ডিডিজি (নিউজ) অনুপ খাস্তগীর, একুশে টেলিভিশনের (ইটিভি) বার্তা প্রধান মোহসীন আব্বাস, প্রধান বার্তা সম্পাদক রঞ্জন সেন, এসাইনমেন্ট এডিটর দেবাশীষ রায়, মহাব্যবস্থাপক মেজর (অব.) নাসিম হোসেন প্রমুখ।

উল্লেখ্য, নড়াইলের লোহাগড়ায় জন্মগ্রহণ করা মামুনুর রশিদ ২০১৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।

মৃত্যুর আগে পর্যন্ত মামুনুর রশিদ একুশে টেলিভিশনে কর্মরত ছিলেন এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সংগ্রহের দায়িত্বে ছিলেন। এর আগে তিনি এশিয়ান টিভি ও বাংলাভিশনে কর্মরত ছিলেন।

অপরদিকে এদিন সকাল ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর সি মজুমদার অডিটোরিয়ামে একটি স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। 

এনএস/

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি