এবার চীন সফরে যাচ্ছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ
প্রকাশিত : ২৩:৪১, ২১ মে ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং চলমান শান্তি প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিতে বেইজিংয়ে বৈঠকে বসছেন চীন ও পাকিস্তানের শীর্ষ নেতৃত্ব।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ২৩ মে থেকে ২৬ মে পর্যন্ত বেইজিং সফর করবেন। খবর বিবিসির
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন জানান, আগামী শনিবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত চলা এই সফরে দুই দেশের নেতা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং “পারস্পরিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু” নিয়ে আলোচনা করবেন।
যদিও পাকিস্তান সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সফরটি নিশ্চিত করেনি, তবে কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা— ইরান সংকট, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এই সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হতে পারে।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে ৮ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির ফলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি সতর্ক করে বলেছেন, কূটনৈতিক সমাধানের সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।
এ অবস্থায় পাকিস্তান ও চীন— দু’দেশই মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উঠে এসেছে। গত মাসে ইসলামাবাদে দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
এছাড়া পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি সম্প্রতি তেহরানে গিয়ে ইরানের প্রধান আলোচক ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফের সঙ্গে বৈঠক করেন।অন্যদিকে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরও বৃহস্পতিবার তেহরান সফরে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছে ইরানি গণমাধ্যম।
চীন তুলনামূলকভাবে নীরব কূটনীতি অনুসরণ করলেও উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ফোনালাপ ও বৈঠকের মাধ্যমে সক্রিয় যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে।
গত সপ্তাহে বেইজিংয়ে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে চীন সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুট আংশিকভাবে বাধাগ্রস্ত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চীন এখন শুধু অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবেই নয়, বরং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও বড় ভূমিকা রাখতে চাইছে। আর পাকিস্তানকে পাশে নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের প্রভাব আরও বাড়ানোর চেষ্টা করছে বেইজিং।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালে এটি হবে শাহবাজ শরিফের প্রথম চীন সফর। এর আগে তিনি গত বছর সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার বৈঠকে অংশ নিতে চীন গিয়েছিলেন।
এমআর//
আরও পড়ুন










