কানাডার ওপর ৫০% শুল্ক আরোপ স্থগিত করলেন ট্রাম্প
প্রকাশিত : ১০:৫২, ১৯ আগস্ট ২০২৬
কানাডীয় পণ্যের ওপর বিপুল পরিমাণ শুল্ক আরোপের বিষয়টি শেষ মুহূর্তে স্থগিত করতে সমঝোতায় পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা। এর ফলে দুই বাণিজ্যিক অংশীদারের মধ্যে সম্ভাব্য বাণিজ্য যুদ্ধ সাময়িকভাবে এড়ানো সম্ভব হলো এবং চরম উদ্বেগে থাকা কানাডীয় রপ্তানিকারকরা স্বস্তি পেলেন।
বাধ্যতামূলক ৫০ শতাংশ শুল্ক মধ্যরাতে কার্যকর হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই স্থগিতাদেশের ঘোষণা দেন। পরবর্তীতে কানাডার পক্ষ থেকেও নিশ্চিত করা হয় যে, আলোচনার সুবিধার্থে যুক্তরাষ্ট্র ২২ আগস্ট পর্যন্ত এই শুল্ক আরোপ স্থগিত রাখতে সম্মত হয়েছে।
কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা টানাপড়েনপূর্ণ বাণিজ্য আলোচনার পর শেষ মুহূর্তে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কানাডীয় প্রশাসনের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে এই অগ্রগতি অর্জিত হয়।
এই শুল্ক ব্যবস্থা কার্যকর হলে প্রায় ২০.২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের কানাডিয়ান পণ্য ক্ষতির মুখে পড়তো। এর আওতায় মূলত যেসব পণ্য ছিল: ইলেকট্রনিক্স ও শিল্প যন্ত্রপাতি, আসবাবপত্র, দুগ্ধজাত পণ্য এবং ওয়াইন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, "নথিপত্র চূড়ান্ত করার শর্তে" উভয় পক্ষ সমঝোতায় পৌঁছানোয় তিনি তিন দিনের জন্য শুল্ক স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ করা না হলেও, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন যে এই শুল্ক স্থগিতাদেশের বিষয়টির সাথে 'কিস্টোন এক্সএল পাইপলাইন' (Keystone XL Pipeline) প্রকল্প পুনরুজ্জীবিত করার সম্পর্ক রয়েছে।
২০০৮ সালে প্রস্তাবিত এই পাইপলাইনটি কানাডার আলবার্টা প্রদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নেব্রাস্কা অঙ্গরাজ্য পর্যন্ত প্রতিদিন প্রায় ৮ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবহনের জন্য ডিজাইন করা হয়েছিল। পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক উদ্বেগের কারণে ২০২১ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এর গুরুত্বপূর্ণ অনুমতি বাতিল করেন, ফলে প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে যায়।
ট্রাম্প তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, "সেই দুর্দান্ত কিস্টোন এক্সএল পাইপলাইন—যা অনেক আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল—তা হয়তো এখন আবার চালু হতে চলেছে!"
কানাডার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে আলোচনায় "উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি" হলেও "গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজ এখনও বাকি রয়েছে"। পাশাপাশি প্রক্রিয়াটি অব্যাহত রাখার পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে একটি শক্তিশালী, স্বাধীন ও প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতি গড়ে তোলার ওপর জোর দিচ্ছে দেশটি।
কানাডার মোট রপ্তানির প্রায় ৭০ শতাংশই যায় যুক্তরাষ্ট্রে। যুক্তরাষ্ট্রের মোট রপ্তানির প্রায় ৩০ শতাংশ যায় কানাডায়।
হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর থেকেই ট্রাম্প কানাডার বিরুদ্ধে একাধিক শাস্তিমূলক বাণিজ্য পদক্ষেপ নিয়েছেন। তবে এই ৫০% শুল্ক আরোপের পদক্ষেপটি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক ছিল, কারণ এটি মূলত 'যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা চুক্তি' (USMCA)-এর আওতায় শুল্কমুক্ত সুবিধার অন্তর্ভুক্ত থাকা পণ্যগুলোর ওপর প্রয়োগ করা হচ্ছিল। এই স্থগিতাদেশের ফলে সাময়িকভাবে দু দেশের রপ্তানিকারক ও ব্যবসায়ীরা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন।
আরও পড়ুন










