ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২০ আগস্ট ২০২৬

কেনিয়ায় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত ৭

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৮:৫৪, ২০ আগস্ট ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

পূর্ব আফ্রিকার দেশ কেনিয়ায় ভয়াবহ হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় ইকুয়েডরের গোয়েন্দাপ্রধান মিশেল সেনসি-কনটুজি ও তার স্ত্রীসহ ৭জন নিহত হয়েছেন।

 বুধবার (১৯ আগস্ট) সামবুরু কাউন্টিতে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হলে তারা নিহত হন। নিহত অন্য পাঁচজনই মার্কিন নাগরিক বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ১৩ মিনিটে কেনিয়ার সামবুরু কাউন্টিতে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনায় ইকুয়েডরের গোয়েন্দাপ্রধান ও তার স্ত্রীসহ হেলিকপ্টারে থাকা সাতজনই নিহত হন।

কেনিয়া সিভিল এভিয়েশন অথরিটি (কেসিএএ) জানিয়েছে, হেলিকপ্টারটি লইসাবার একটি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এলাকা থেকে ইওয়াসো নিয়িরো নদীর দিকে যাচ্ছিল। নদীটি দেশটির কয়েকটি জাতীয় উদ্যান ও সংরক্ষিত এলাকার পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। সামবুরু কাউন্টি কেনিয়ার জনপ্রিয় পর্যটন এলাকাগুলোর একটি। সেখানে বেশ কয়েকটি বেসরকারি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এলাকা রয়েছে। অঞ্চলটি মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্যের জন্যও পরিচিত।

দুর্ঘটনাস্থলের ছবিতে ওলোলোকওয়ে পর্বতের জঙ্গলের মধ্যে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার জায়গা থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। কেনিয়া রেড ক্রসের সদস্যরা তখনও জ্বলতে থাকা ধ্বংসাবশেষের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন।

এদিকে ৪৪ বছর বয়সী মিশেল সেনসি-কনটুজির মৃত্যুর বিষয়ে ইকুয়েডর সরকার বিস্তারিত কিছু জানায়নি। ২০২৪ সালে তাকে দেশটির স্ট্র্যাটেজিক ইন্টেলিজেন্স সেন্টারের মহাপরিচালক করা হয়েছিল।

অবশ্য ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় গোয়েন্দাপ্রধানের মৃত্যুতে সরকারের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ করেছে। দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট গিলের্মো লাসোও হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় সেনসি-কনটুজির মৃত্যুর বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।

অন্যদিকে দুর্ঘটনাকবলিত ইউরোকপ্টার ইসি১৩০ বি৪ হেলিকপ্টারটি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান লেডি লরি হেলিকপ্টারস এক বিবৃতিতে দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, নিহত অতিথি, ক্রু সদস্য, তাদের পরিবার ও স্বজন এবং এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সবার প্রতি আমরা গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।

বিবিসির মার্কিন অংশীদার সিবিএস নিউজের দেখা একটি মেমো অনুযায়ী, নিহত মার্কিন নাগরিকদের একজন হচ্ছেন এনবিসিইউনিভার্সালের সাংবাদিক হোসে আলবার্তো সুয়ারেজ। এনবিসিইউনিভার্সাল ওই মেমোতে সুয়ারেজকে ‘অত্যন্ত সম্মানিত নেতা এবং প্রিয় বন্ধু ও সহকর্মী’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

স্থানীয় ও মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে মিয়ামির রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী রজার দুয়ার্তেও রয়েছেন। তার মৃত্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে শোক প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রতিনিধি কার্লোস আন্তোনিও গিমেনেজ। তিনি লিখেছেন, ‘এই কঠিন সময়ে তাদের স্বজনদের জন্য আমাদের প্রার্থনা রইল। তাদের স্মৃতি আশীর্বাদ হয়ে থাকুক।’

বাকি মার্কিন নাগরিকদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। এর আগে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, দুর্ঘটনায় ছয় পর্যটক ও একজন পাইলটসহ মোট সাতজন নিহত হয়েছেন।

সূত্র: বিবিসি


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি