ঢাকা, রবিবার   ৩১ মে ২০২০, || জ্যৈষ্ঠ ১৭ ১৪২৭

Ekushey Television Ltd.

কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি অনিয়ন্ত্রিত: পরিকল্পনামন্ত্রী

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ২২:৩৬ ২ ডিসেম্বর ২০১৯ | আপডেট: ২২:৩৯ ২ ডিসেম্বর ২০১৯

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, আমার মাঝে মাঝে ভয় হয় এই ভেবে যে, কেন বৈষম্য রয়ে যাচ্ছে, তা পরিষ্কার করতে না পারলে তা দেশের প্রবৃদ্ধির ওপর খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি ইতোমধ্যে লক্ষ্য করেছেন, দেশের প্রবৃদ্ধির যে ঢেউ, এটা বোধহয় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

আজ সোমবার (২ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর গুলশান-২ নম্বরে অবস্থিত লেকশোর হোটেলে ‘রিসার্চ এলামনেক-২০১৯’ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের উন্নয়ন কৌশল পর্যালোচনা করতে গিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। এসময় অন্য বক্তারা আশঙ্কা করেন, আগামীতে বাংলাদেশের জন্য বর্তমান প্রবৃদ্ধি ধরে রাখাটাই হবে মূল চ্যালেঞ্জ।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে এম এ মান্নান বলেন, ‘যদি অনিয়ন্ত্রিত কোনো প্রবৃদ্ধি হয়, তাহলে একটা আশঙ্কা অবশ্যই আছে। এখানে যে বিষয়টা বোঝাতে চাচ্ছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি অনিয়ন্ত্রিত পর্যায়ে যাচ্ছে। যেমন প্রবৃদ্ধির যে ফলটা আমাদের সকলের পাওয়ার কথা সামাজিকভাবে, সেই ফলটা পাচ্ছি না। শেষ বিচারে যাদের পরিশ্রমে এই প্রবৃদ্ধি হচ্ছে, তাদের কাছে কিন্তু যাচ্ছে না। অথচ আইনত তাদের কাছে যাওয়ার কথা। নানা ধরনের বিকৃতি এখানে আছে। ভর্তুকি বিকৃতি আছে, কর নেয়াতে বিকৃতি আছে। এই প্রবৃদ্ধি পালিয়ে যাচ্ছে। যেটাকে আপনারা বলেন, বিদেশ চলে যাচ্ছে বা বিভিন্ন জায়গায় সরে যাচ্ছে।’

এখানে সরকারের আরও বেশি করে কাজ করার অবকাশ আছে বলেও মনে করেন পরিকল্পনামন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমি কখনও আশা করি না, নরওয়ে, সুইডেন, জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড – ওদের কাতারে আমরা যাব। আমার জীবনে তো প্রশ্নই ওঠে না, এখানে তরুণ যারা আছেন, তাদের জীবনেও হয়তো সম্ভব না।’

এ সময় বিশ্ব ব্যাংকের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন নিজের বক্তব্য তুলে ধরে জানান, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হলে সুশাসন (গুড গভার্ন্যান্স) নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে দেশের বর্তমানে ইকোনমিক ট্রানজিশন কোন দিকে যাচ্ছে, এটা নিয়ে বর্তমানে হতাশাবাদী, আশাবাদী ও অর্থনীতিবিদ– এই তিন শ্রেণির মতামত আছে।

হতাশাবাদীদের বক্তব্য তুলে ধরে জাহিদ হোসেন বলেন, ‘হতাশাবাদীরা মনে করেন, বর্তমান সরকার ও যে দল সরকার চালাচ্ছে, তারা ব্যবস্থাপনাটা যেভাবে করছে, তাতে সেখানে অন্যান্যদের অংশগ্রহণের জায়গাটা সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। যার ফলে একটা অস্থিরতা, অনিশ্চয়তা এবং উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বিঘ্নিত হতে পারে।’

এর জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘বিশেষ করে আপনি বললেন, স্পেস (জায়গা) দিতে হবে। কে কাকে স্পেস দেবে? আমি তো আমার স্পেস নিয়ে বসে আছি। আপনি আমাকে আমার স্পেস থেকে সরান। ধাক্কা দিয়ে সরাতে পারেন, তবে এটা প্রত্যাশিত নয়। আইন অনুযায়ী সরান। কী আইন? এই স্পেসের আল্টিমেট মালিক জনগণ যখন আমাকে এই স্পেস থেকে সরাবে, তখন আপনি যদি স্পেসের কাছে থাকেন, চলে আসেন। না হলে আপনি কি আশা করেন, আমার স্পেস ছেড়ে আপনাকে আমি স্পেস দেব?’

অন্য দুই শ্রেণির বক্তব্য তুলে ধরে জাহিদ হোসেন বলেন, ‘আশাবাদীদের মতে, বর্তমানে যে রাজনৈতিক ব্যবস্থা আছে, একটা সরকার আছে, একটা দল সেখানে ডমিনেট করছে। সেখানে উন্নয়নের একটা বড় সুযোগ আছে। কারণ এই পলিটিক্যাল সেটেলমেন্টে যদি আমরা সংস্কারের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি ও অবকাঠামো তৈরি করতে পারি, তাহলে ভবিষ্যতে উন্নয়নের গতি ও নতুন নতুন দুয়ার খুলে যাবে।’

‘তৃতীয়ত, অর্থনীতিবিদদের মতে, আসলে কী হতে পারে, তা আমরা জানি না। তবে কিছু কন্ডিশনাল স্টেটমেন্ট করতে পারি। পলিটিক্যাল স্টেটমেন্ট যাই থাকুক না কেন, আমরা আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোকে উন্নয়নের প্রয়োজনে কতটা খাপ খাওয়াতে পারছি। কারণ উন্নয়নের প্রয়োজনগুলি বদলাচ্ছে। নতুন প্রযুক্তি আসছে। সেটার সঙ্গে আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো খাপ খাওয়াতে পারার ওপর নির্ভর করছে।’

তৃতীয় এই ক্যাটাগরির সঙ্গে তার নিজের মতের মিল রয়েছে বলে জানান বিশ্ব ব্যাংকের সাবেক এই লিড ইকোনমিস্ট।

এ সময় আরও কথা বলেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক ড. কে এ এস মুর্শিদ, আইএলও’র সাবেক বিশেষ উপদেষ্টা ড. রিজুয়ানুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. মো. আলী তসলিম, বিআইডিএসের গবেষণা পরিচালক ড. বিনায়েক সেন প্রমুখ।

আরকে//


New Bangla Dubbing TV Series Mu
New Bangla Dubbing TV Series Mu

© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি