ঢাকা, মঙ্গলবার   ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, || অগ্রাহায়ণ ২৬ ১৪২৬

Ekushey Television Ltd.

গোতাবায়ার জয়ে অস্বস্তিতে দিল্লি 

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৩:০৭ ১৮ নভেম্বর ২০১৯

এক সময় তামিল টাইগারদের কড়া হাতে দমন করে শ্রীলকার মানুষের বিশ্বাস অর্জন করেছিলেন গোতাবায়া রাজাপাকসে। রোববার দেশটির মানুষ প্রমাণ করে দিলো, সেই বিশ্বাস হারায়নি। শ্রীলংকার নতুন প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হলেন দেশটির প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপকসের ভাই গোতাবায়া। তবে তার জয়ে অস্বস্তিতে রয়েছে দিল্লি। খবর আনন্দবাজার পত্রিকা’র। 

৫২ দশমিক ২৫ শতাংশ ভোট পেয়েছেন গোতাবায়া। আজ সোমবার গোতাবায়া দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে জানা যায়। শনিবার নির্বাচনের দিন একাধিক সহিংসতার ঘটনা ঘটলেও ৮০ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। তবে জয়ী হওয়ার পরেই শান্তি বজায় রাখার বার্তা দিয়েছেন সদ্য নির্বাচিত এ প্রেসিডেন্ট।

রাজাপাকসের জয়ের পিছনে তার সন্ত্রাসবিরোধী কড়া অবস্থানকে কৃতিত্ব দিচ্ছেন অনেকে। তিনি দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। চাকরি করেছেন সেনাবাহিনীতে। নব্বইয়ের দশকে এলটিটিই-র বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অবসান হয়েছিল তার হাত ধরেই। 
চলতি বছরের ২১ এপ্রিল শ্রীলংকার বাণিজ্যিক রাজধানী কলম্বোসহ কয়েকটি শহরের তিনটি গির্জা ও তিনটি হোটেলে একযোগে জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে। এতে প্রাণ হারান ২৫৯ জন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কয়েক মাস আগের ওই ঘটনাই রাজাপাকসের নির্বাচনী প্রচারণার মূল অস্ত্র হয়ে উঠে। তিনি ক্ষমতায় এলে সন্ত্রাসবাদ দমনে কাজ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। 

গোতাবায়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ, দুর্নীতি এবং চীনকে সমর্থনের অভিযোগ উঠলেও শ্রীলংকার মানুষ শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তার আশ্বাসেই আস্থা রেখেছেন বলে মনে করছেন রাজনীতিবিদরা। কট্টরপন্থী মনোভাবের জন্য সংখ্যালঘু মুসলিম ও তামিলরা গোতাবায়ার উপরে অসন্তুষ্ট হলেও সংখ্যাগুরু সিংহলিদের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা রয়েছে। বৌদ্ধদেরও সমর্থনও পেয়েছেন তিনি।

রোববার ভোটে জয়ী হওয়ার সংবাদ পেয়ে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ও ক্ষমতাসীন মন্ত্রী সাজিথ প্রেমাদাসা পরাজয় মেনে নিয়ে রাজাপাকসেকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এ দিন গোতাবায়াকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। টুইটারে তিনি লিখেছেন, ‘আপনাকে শুভেচ্ছা। দুই দেশের জন্য শান্তি, সমৃদ্ধি এবং গোটা উপমহাদেশের নিরাপত্তার জন্য আপনার সঙ্গে একজোট হয়ে কাজ করতে চাই।’ 

জবাবি টুইটে ধন্যবাদ জানিয়েছেন গোতাবায়া লিখেছেন, ‘উষ্ণ অভ্যর্থনার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ভারতের মানুষকে ধন্যবাদ। ইতিহাস আর বিশ্বাসের নিরিখে আমাদের দু’টি দেশ এক সুতোয় বাঁধা। এই বন্ধুত্ব আরও গাঢ় হবে আশা করি। আপনার সঙ্গে সাক্ষাতের অপেক্ষায় রইলাম।’   

তবে টুইট সম্ভাষণ যতই মধুর হোক না কেন, গোতাবায় শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় সামান্য হলেও অস্বস্তিতে ভারত। কারণ চীনের কাঁটা। চীন ও শ্রীলংকার মধ্যে বরাবর সেতু হিসেবে কাজ করেছে রাজাপাকসের পরিবার। 

অনেকের দাবি, ২০১৫ সালে মাহিন্দা রাজাপাকসের নির্বাচনী প্রচারে বেইজিং প্রচুর পরিমানে অর্থ ঢেলেছিল। ফলে গোতাবায়ার শাসনামলে ভারতের তুলনায় চীনকেই যে শ্রীলংকা বেশি গুরুত্ব দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

অন্যদিকে, আগামী বছরের শুরুতে দেশটিতে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ওই নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার চেষ্টা চালাবেন মাহিন্দা রাজাপাকসে। এতে রাজাপাকসে পরিবারের হাতে উঠবে শ্রীলংকা শাসনের ভার। মূলত এ নিয়েই দুশ্চিন্তায় পড়েছে ভারত।

এমএস/

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি