ঢাকা, সোমবার   ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত ১১

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৯:৫০, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুজন শিশু ও দুজন চিকিৎসাকর্মী রয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

লেবাননের ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সির (এনএনএ) প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার (৭সেপ্টেম্বর) ভোরে নাবাতিয়েহ জেলার কাফার রেমান শহরের একটি আবাসিক ভবনে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান হামলা চালায়। এতে দুজন শিশুসহ নয়জন নিহত এবং আরও পাঁচজন আহত হন।

এ ছাড়া কাফার রেমানে একটি বেসামরিক গাড়িতে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় গাড়িতে থাকা দুজন চিকিৎসাকর্মী নিহত হন বলে জানিয়েছে এনএনএ। 

এর আগে গত রাতে দক্ষিণ লেবাননের দেইর আল-জাহরানি শহরের একটি আবাসিক এলাকাতেও হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়ার পর এ হামলা চালানো হয়।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, হিজবুল্লাহর একটি স্থাপনার কাছে থাকা একটি ভবনকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। তাদের ভাষ্য, ওই ভবন থেকে বিস্ফোরকবাহী ড্রোন উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। এর আগের দিন নাবাতিয়েহ জেলার আরব সালিম শহরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত সাতজন নিহত ও ২০ জন আহত হন।

গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে একটি কাঠামো চুক্তি হয়। এর আওতায় পরীক্ষামূলক বা ‘পাইলট জোন’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। এসব এলাকার উদ্দেশ্য ছিল লেবাননের সেনাবাহিনীর মাধ্যমে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা এবং দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা।

তবে আল-জাজিরার প্রতিবেদক জেইনা খোদরের মতে, ইসরায়েল এখনো দক্ষিণ লেবাননের বেশ কিছু গ্রাম নিয়ন্ত্রণে রেখেছে এবং আরও সেনা প্রত্যাহারে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ফলে কূটনৈতিক উদ্যোগটি কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

কাফার রেমান থেকে দেওয়া প্রতিবেদনে খোদর বলেন, দক্ষিণ লেবাননে এখন অনিশ্চয়তা ও ভীতি বিরাজ করছে। চুক্তির পর হামলা বন্ধ হবে—এমন আশায় অনেক মানুষ নিজেদের এলাকায় ফিরে ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণ শুরু করেছিল। সাম্প্রতিক হামলা সেই আশাকে আবারও অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে।

তিনি জানান, গত ৪৮ ঘণ্টায় ইসরায়েলি হামলার তীব্রতা বেড়েছে। এতে বেসামরিক মানুষ নিহত হওয়ার পাশাপাশি আবাসিক বাড়িঘরও ধ্বংস হচ্ছে। উদ্ধারকারী ও জরুরি সেবাকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে জীবিতদের উদ্ধারের বদলে এখন মৃতদেহ ও ধ্বংসাবশেষ উদ্ধারের কাজ চলছে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মার্চের শুরুতে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর ইসরায়েলি হামলায় দেশটিতে ৪ হাজার ৩৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং ১২ হাজার ৩০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।

মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২ মার্চ থেকে লেবাননের অ্যাম্বুলেন্স কর্মীদের লক্ষ্য করে ১৭৯টি ইসরায়েলি হামলা হয়েছে। এসব হামলায় ১৩৫ জন স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে চুক্তির পর সহিংসতা কিছুটা কমলেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনী তাদের ঘোষিত ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’-এর ভেতরের কয়েকটি গ্রাম ধ্বংস করার পাশাপাশি দক্ষিণ লেবানন ও এর উত্তরের বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

সূত্র: আল জাজিরা 


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি