নতুন রাষ্ট্রপতিকে কে শপথ পড়াবেন, মতামত দিল আইন মন্ত্রণালয়
প্রকাশিত : ১২:৫৫, ২০ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১২:৫৬, ২০ আগস্ট ২০২৬
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আজ। শুক্রবার সন্ধ্যায় নতুন রাষ্ট্রপতি শপথ নেবেন। তবে নতুন রাষ্ট্রপতিকে কে শপথ পড়াবেন, আইনমন্ত্রণালয়ের কাছে মতামত নিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো মতামতে সংবিধান অনুযায়ী স্পিকারের দায়িত্বে থাকা ব্যারিস্টার কায়সার কামাল রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়ানোর যথাযথ কর্তৃপক্ষ বলে মত দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়।
আইন মন্ত্রণালয় তাদের মতামতে বলেছে, ‘বর্তমান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, বীর বিক্রম সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করায়, সংবিধানের ৭৪(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুসারে স্পিকারের যাবতীয় দায়িত্ব ডেপুটি স্পিকার পালন করছেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সংবিধানের ৭৪(৩) অনুযায়ী ডেপুটি স্পিকার যেহেতু স্পিকারের সব দায়িত্ব পালন করে থাকেন, সে হিসাবে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ পাঠ করানোর জন্যও তিনি (ডেপুটি স্পিকার) সাংবিধানিকভাবে যথাযথ কর্তৃপক্ষ।’
বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদে এই ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
এর মধ্যদিয়ে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর ভোটের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। এর আগে ১৯৯১ সালে সর্বশেষ রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনে ভোটাভুটি হয়।
নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ, বীর বিক্রম।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য আজকের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার। এর মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের ৫০ জন সংসদ সদস্য রয়েছেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়ী হলেও চট্টগ্রাম-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা ও সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার সুযোগ বাতিল করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। ফলে এই আসনটি শূন্য রয়েছে।
সংসদে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় বিএনপির প্রার্থী ও দলটির সদ্য পদত্যাগী মহাসচিব মির্জা ফখরুলই যে বঙ্গভবনের নতুন বাসিন্দা হতে যাচ্ছেন– সেটা এক রকম নিশ্চিত। এরপরও একাধিক প্রার্থী থাকায় সংবিধানের বিধান অনুযায়ী ভোটের লড়াইয়ে যেতে হচ্ছে তাকে।
ভোট শেষে আগামীকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে অনুষ্ঠিত হবে রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠান। রাষ্ট্রপতি শপথ বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিত হলেও অনুষ্ঠান আয়োজনের সার্বিক দায়িত্ব পালন করছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
অনুষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, প্রধান বিচারপতিসহ রাষ্ট্র ও সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন।
এর আগে গত ২৪ জুলাই আওয়ামী লীগ আমলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। তাঁর পদত্যাগের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ কারণে ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
এএইচ
আরও পড়ুন










