নাটকীয় লড়াইয়ে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় রোনালদোর পর্তুগাল
প্রকাশিত : ১৭:১১, ৩ জুলাই ২০২৬
ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে শুরু থেকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল পর্তুগালের হাতেই। প্রথমার্ধে একের পর এক সুযোগ তৈরি করেও গোলের দেখা পায়নি রবার্তো মার্তিনেজের দল।
বিরতির পর ইভান পেরিসিচের গোলে পিছিয়ে পড়লেও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পেনাল্টি ও যোগ করা সময়ে গনসালো রামোসের দুর্দান্ত হেডে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে পর্তুগাল। ম্যাচের শেষদিকে ক্রোয়েশিয়ার একটি গোল ভিএআরে বাতিল হওয়ায় নাটকীয় জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে সেলেসাওরা।
টরন্টো স্টেডিয়ামে শুক্রবার (৩ জুলাই) ফুটবল বিশ্ব দেখেছে শ্বাসরুদ্ধকর এক লড়াই। পুরো ম্যাচে অফসাইডের কারণে বাতিল হয়েছে চারটি গোল, যার মধ্যে তিনটিই ক্রোয়েশিয়ার। শেষ পর্যন্ত সেই ভিএআর নাটকই নির্ধারণ করেছে ম্যাচের ভাগ্য।
প্রথমার্ধে পুরোপুরি ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করেছে পর্তুগাল। ব্রুনো ফার্নান্দেস, ভিতিনহা ও রাফায়েল লিওদের একের পর এক আক্রমণে ব্যস্ত সময় কাটাতে হয়েছে ক্রোয়াট গোলরক্ষক ডমিনিক লিভাকোভিচকে। রোনালদোর ফ্রি-কিক, রেনাতো ভেইগার হেড এবং ব্রুনোর কঠিন কোণের শট সবকিছুই রুখে দেন তিনি। অন্যদিকে, ক্রোয়েশিয়া নিজেদের অর্ধে গুটিয়ে থেকে মূলত রক্ষণ সামলাতেই ব্যস্ত ছিল। লিভাকোভিচের অসাধারণ দৃঢ়তায় গোলশূন্য ব্যবধানে বিরতিতে যায় দুই দল।
বিরতির পরই পাল্টে যায় ম্যাচের চিত্র। ৫৩ মিনিটে যোসিপ স্তানিসিচের ডান দিক থেকে ভেসে আসা ক্রস নিয়ন্ত্রণে এনে নিচু শটে পর্তুগালের জালে বল জড়ান ইভান পেরিসিচ। তাতে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া। গোল হজমের পর আক্রমণের তীব্রতা আরও বাড়ায় পর্তুগাল। ৫৮ মিনিটে রাফায়েল লিওর শট ক্রসবারে লেগে ফিরে এলে হতাশ হতে হয় পর্তুগিজদের। তবে অপেক্ষার অবসান ঘটে ৬৮ মিনিটে। বক্সের ভেতরে ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় পর্তুগাল। স্পটকিক থেকে কোনো ভুল না করে দলকে সমতায় ফেরান ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। আর এই গোলের মাধ্যমে নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে এসে নকআউট পর্বে ক্যারিয়ারের প্রথম গোলের দেখা পেলেন ৩৯ বছর বয়সী এই মহাতারকা।
ম্যাচের শেষদিকে দুই দলই জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। ৮৮ মিনিটে আনতে পাসালিচ ফাঁকা গোল পেয়েও হেড লক্ষ্যভ্রষ্ট করলে নির্ধারিত সময় শেষ হয় ১-১ সমতায়। এরপর যোগ করা সময়েই আসে ম্যাচের নিষ্পত্তি। ৯৪ মিনিটে রাফায়েল লিওর বাঁ দিক থেকে বাড়ানো ক্রসে বদলি ফরোয়ার্ড গনসালো রামোস দুর্দান্ত হেডে বল জালে জড়িয়ে পর্তুগালকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।
তবে নাটক তখনও শেষ হয়নি। যোগ করা সময়ের ১৩তম মিনিটে পেরিসিচের ক্রস থেকে গাভার্দিওল বল জালে পাঠাতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে ক্রোয়েশিয়ার সমর্থকেরা। কিন্তু ভিএআর রিভিউয়ে দেখা যায়, আক্রমণের শুরুতে পাসালিচ অফসাইডে ছিলেন। ফলে গোলটি বাতিল করেন রেফারি। মুহূর্তেই উৎসব বদলে যায় বিষাদে। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে মডরিচদের বিশ্বকাপ স্বপ্নেরও ইতি ঘটে।
রাউন্ড অব সিক্সটিনের ম্যাচে পর্তুগালের প্রতিপক্ষ স্পেন। তারা অস্ট্রিয়াকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে পরের রাউন্ডে জায়গা করে নিয়েছে। আগামী ৬ জুলাই কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিতের মিশনে শেষ ষোলোতে মুখোমুখি হবে পর্তুগাল-স্পেন।
এমআর//










