ঢাকা, রবিবার   ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, || অগ্রাহায়ণ ২৪ ১৪২৬

Ekushey Television Ltd.

বাংলাদেশের ‘সেইফ জোন’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবে মিয়ানমারের না

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৮:৩৯ ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭ | আপডেট: ২৩:০৫ ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭

রোহিঙ্গাদের রক্ষায় একটি নিরাপদ এলাকা বা সেইফ জোন প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে মিয়ানমার। দেশটির রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি’র কার্যালয়ের মুখপাত্রের বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম মিয়ানমার টাইমস।

রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টার মুখপাত্র ইউ জ্য তে বলেছেন, ‘‘সরকার সেইফ জোন প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে। কারণ, একবার এটি প্রতিষ্ঠা হয়ে গেলে আন্তর্জাতিক কর্তারা এর নিয়ন্ত্রণ নেবেন।’’

বিদ্রোহী দমনের নামে নির্বিচারে গণহত্যা চালানোর প্রেক্ষাপটে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানরা জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসছে। এ প্রেক্ষাপটে মিয়ানমার সরকারকে সেইফ জোন প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করেছিল বাংলাদেশ।  

গত সপ্তাহে রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানায়, ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব রেড ক্রসের মাধ্যমে নিরাপদ অঞ্চল তৈরির জন্য মিয়ানমারকে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছিল বাংলাদেশ সরকার।

বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে রাজধানী নেই পি দোতে ইউ জ্য তে নিরাপদ অঞ্চল তৈরির প্রস্তাবের ব্যাখ্যা করেন। একইসঙ্গে দেশটির নেত্রী অং সান সু চি নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের আসন্ন অধিবেশনে কেন অংশ নেবেন না সে বিষয়েও কথা বলেন।

ইউ জ্য তে বলেন, রাখাইন রাজ্যের দুটি সম্প্রদায়ের পুনর্বাসন ও মানবিক সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা করার লক্ষ্যেই জাতিসংঘের সম্মেলনে অংশ নেয়ার পরিকল্পনা বাতিল করেছেন স্টেট কাউন্সেলর।

ইউ জ্য তে আরো বলেন, অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা রক্ষা, নিরাপত্তায় গুরুত্বারোপ ও পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য তিনি সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নেয়ার পরিকল্পনা বাতিল করেছেন। এছাড়া সু চির সফর বাতিলের পেছনে সন্ত্রাসীদের হামলা ও প্রেসিডেন্ট ইউ তিন কিয়াওয়ের অসুস্থতাও রয়েছে।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে জাতীয় ঐক্য এবং শান্তি প্রক্রিয়া সম্পর্কে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ভাষণ দেয়ার কথা ছিল সু চির। মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় এই উপদেষ্টা অধিবেশনে অংশ নেয়ার পরিকল্পনা বাতিল করলেও ভাইস প্রেসিডেন্ট ইউ হেনরি ভ্যান থিও অংশ নেবেন।

গত ২৪ আগস্ট রাতে মিয়ানমারের রাখাইনে ৩০টি পুলিশ তল্লাশি চৌকি ও একটি সেনাক্যাম্পে বিদ্রোহীদের হামলার জবাবে ব্যাপক অভিযানে নামে দেশটির সেনাবাহিনী। এ হামলার জেরে রাখাইনে দেশটির সেনাবাহিনীর রোহিঙ্গাবিরোধী ক্লিয়ারেন্স অপারেশনে ৩ লাখ ৭০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। এ প্রেক্ষাপটে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলেও তা প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটির সরকার।

ইউ জ্য তে বলেন, রোহিঙ্গাদের ৪৭১টি গ্রামের মধ্যে ১৭৬টি অর্থাৎ ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ গ্রাম এখন জনমানবশূন্য। এছাড়া ৩৪টি গ্রামে অল্প কিছুসংখ্যক মানুষ আছে। বর্তমান অভিযানকে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা বিদ্রোহী ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ বলে মিয়ানমার সরকার দাবি করেছে বলে জানান ইউ জ্য তে।

ডব্লিউএন

 

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি