‘ভারত খুনি রাষ্ট্র ও বিএসএফ খুনি বাহিনী, তাদের বিচার হতে হবে’
প্রকাশিত : ১০:২২, ৪ জুন ২০২৬
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) ‘পুশইন’ চেষ্টার তীব্র প্রতিবাদ এবং বাংলাদেশি নাগরিকদের লাগাতার হত্যার বিচার দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
সীমান্ত হত্যার প্রতিটি ঘটনার জন্য ভারতকে আন্তর্জাতিক আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর জন্য বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
বুধবার (৩ জুন) দুপুরে যশোরের বেনাপোলের সাদিপুর সীমান্ত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে এ কথা বলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
উত্তেজনাপূর্ণ এই সীমান্ত পরিদর্শনে দলটির নেতাকর্মী ছাড়াও স্থানীয় শত শত সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। এ সময় ‘এ দিল্লি না ঢাকা? ঢাকা, ঢাকা’, ‘সীমান্ত হত্যা রুখে দিন, চলবে না চলবে না’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে সীমান্ত এলাকা।
তিনি বলেন, ‘ভারত খুনি রাষ্ট্র ও বিএসএফ খুনি বাহিনী। তাদের বিচার হতে হবে।’
এনসিপি নেতা বলেন, ‘সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্ট দেখার কেউ নেই। সেখানে পর্যাপ্ত হাসপাতাল, স্কুল কিংবা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নেই। জীবিকার তাগিদে সীমান্তবাসী কোনো চোরাচালানে জড়ায় না, বরং ভারতীয়রা এই অপকর্ম করে বাংলাদেশের ওপর দোষ চাপায়।’
সীমান্ত সুরক্ষায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিজিবির পেছনে দেশের ১৮ কোটি মানুষের সমর্থন রয়েছে। বিজিবির হাতে খেলনা পিস্তল দিয়ে সীমান্ত রক্ষা করা যাবে না। তাদের আধুনিক ভারী অস্ত্র, পেট্রোলিং কার দিতে হবে এবং তাদের সুযোগ-সুবিধা ও বেতন বাড়াতে হবে।’
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিগত দিনের বক্তব্যের সমালোচনা করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘কোনো বাংলাদেশি নাগরিক অপরাধ করলেও তাকে বিচার ছাড়া সীমান্তে গুলি করে হত্যা করা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। সীমান্ত হত্যার প্রতিটি ঘটনার জন্য ভারতকে আন্তর্জাতিক আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর জন্য বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সবশেষে দল-মত নির্বিশেষে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ৭১, ৯০ কিংবা ২৪-এর গণ-আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে বাংলাদেশের এক ইঞ্চি ভূখণ্ড বা সার্বভৌমত্বের ওপর কোনো আঘাত দেশের মানুষ মেনে নেবে না। রক্ত দিয়ে হলেও দেশের সীমান্ত রক্ষা করা হবে।’
তিনি সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের রাত জেগে পাহারা দেওয়ার পাশাপাশি যেকোনো প্রয়োজনে বিজিবি ও পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার আহ্বান জানান।
হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, প্রকৃত হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে জনগণের সামনে তাদের পরিচয় প্রকাশ করতে হবে। পাশাপাশি তারা কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত, তাও প্রকাশ করা উচিত। আমাদের সরকার ক্ষমতায় এলে হাদি হত্যার বিচার করা হবে। সীমান্ত এলাকায় আরও বেশি স্কুল-কলেজ নির্মাণ করা হবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
সীমান্ত নিরাপত্তা, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব এবং আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক রীতিনীতি মেনে সীমান্তসংক্রান্ত সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সফরের পরিকল্পনা অনুযায়ী সীমান্ত পরিদর্শন শেষে বেনাপোল পর্যটন মোটেলে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের কথা ছিল। তবে সীমান্তে তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি সেখানেই সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে কর্মসূচি শেষ করেন।
এএইচ
আরও পড়ুন










