ঢাকা, রবিবার   ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, || ভাদ্র ৩১ ১৪২৬

Ekushey Television Ltd.

মাশরাফির বিদায়ে ব্যয় কোটি টাকা!

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৭:৪৯ ৬ আগস্ট ২০১৯

হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি নিয়ে বল হাতে আগুন ঝরাতে পারেননি। যে কারণে বিশ্বকাপে আশানুরূপ সফলতা পায়নি বাংলাদেশ। এতেই নড়ে চড়ে ওঠেন দু'মুখোরা। তীর্যক মন্তব্য করে জানান, অনেক হয়েছে আর নয়,সময় এখন বিদায়ের!

কিন্তু একজন ক্রিকেটারের জীবনে বিশ্বকাপই কি শেষ কথা? বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফির বিশাল ক্যারিয়ারকে কি শুধু এবারের বিশ্বকাপ দিয়ে বিচার করলে চলবে? 

মাশরাফি বিন মর্তুজা। এক নামেই যার পরিচয়। ১৮ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার অনেক দীর্ঘ। যার পরতে পরতে রয়েছে অনবরত লড়াই-সংগ্রাম। মাশরাফি মানেই ইনজুরি, অপারেশন টেবিল আর অস্ত্রোপচারের সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকা। ছোট বড় মিলিয়ে সাত-আটবার অপারেশনের ধকল সামলেও মাঠে থাকা।

এ মুহূর্তে তার পরিচয় দুটি। প্রথমত, তিনি বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক। দ্বিতীয়ত, মাশরাফি বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ের চালিকাশক্তি। সবচেয়ে সফল পেসার। আরও বড় কথা, ৫০ ওভারের ফরম্যাটে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি উইকেট শিকারিও যে তিনিই।

অধিনায়ক হিসেবেও তার সাফল্য আকাশছোঁয়া। ইতিহাস-পরিসংখ্যান পরিষ্কার জানান দিচ্ছে- মাশরাফিই বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সফলতম অধিনায়ক। তার নেতৃত্বেই ঘরের মাঠে ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের মত চার চারটি বিশ্ব শক্তির বিপক্ষে সিরিজ জিতেছে টিম বাংলাদেশ।

শুধু সাফল্যের মানদন্ডে বিচারই শেষ কথা নয়। মাশরাফি মানেই সম্প্রীতি, ঐক্য ও পারষ্পরিক ভালবাসার প্রতীক। তার উপস্থিতি, প্রাণখোলা আচরণ আর উদ্দীপক কথাবার্তা টিম বাংলাদেশের বড় রসদ। তার হাত ধরেই সাকিব, তামিম, মুশফিক, মাহমুদউল্লাহ, সৌম্য, লিটন, সাব্বির, মিঠুন, মোস্তাফিজ, মিরাজ, মোস্তাফিজ ও রুবেলরা এক সুঁতোয় গাঁথা।

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ থেকে শুরু করে সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটার পর্যন্ত সবার সমান প্রিয় মানুষ ও অধিনায়ক 'মাশরাফি ভাই'। আর সহযোগি ক্রিকেটারদের কাছে মাশরাফি ভাই মানেই সবচেয়ে বড় নির্ভরতা। মোদ্দা কথা, মাশরাফিই টাইগারদের ভাল খেলার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। তার দল পরিচালনাই বড় রসদ।

কিন্তু সেই মাশরাফির অবসরের ঘোষণা ও দিনক্ষণ নিয়ে চলছে নানা কথা, জল্পনা-কল্পনা। কবে কোথায় কার সঙ্গে কিভাবে মাশরাফি বিদায়ের ঘোষণা দেবেন? তা নিয়েও চলছে রাজ্যের জল্পনা-কল্পনা। 

হ্যাঁ, বয়স যেহেতু হয়েছে, বিদায় তো নিতেই হবে। সেটা জানিয়েও দিয়েছেন মাশরাফি এবং বিসিবি সংশ্লিষ্টরা। তাইতো খুব স্বাভাবিকভাবেই এ সফল যোদ্ধা ও সফল সেনাপতির বিদায়টা হওয়া উচিৎ স্মরণীয় এবং বীরোচিতভাবেই।

বিষয়টি মাথায় রেখেই বিসিবি প্রধান নাজমুল হাসান পাপন বিশ্বকাপ শেষে লন্ডনে বসেই জানিয়ে দিয়েছেন, মাশরাফির বিদায়টা হবে স্মরণীয়। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে সে সফলতম ও এক নম্বর অধিনায়ক। তাই তার আনুষ্ঠানিক বিদায়ের দিনটিকে রঙিন করে রাখতে যা যা করণীয় তা করবে বোর্ড।

বিসিবির প্রধান আরও জানিয়েছেন, মাশরাফির আনুষ্ঠানিক বিদায়ী ম্যাচ হবে দেশের মাটিতে। যাতে করে নিজ দেশ, জাতি, চেনা-জানা পরিবেশ আর ভক্ত, সমর্থক, সুহৃদ-শুভানুধ্যায়ী সবার সামনেই আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানাতে পারেন তিনি। তার মানে ধরেই নেয়া যায় অধিনায়ক মাশরাফির বিদায় হবে বীরের মতই। একটা জাকজমকপূর্ণ আয়োজন ও উৎসব মুখর পরিবেশে।

কিন্তু বোর্ড প্রধানের কন্ঠে অমন আশ্বস্ত হবার মত খবর শোনার পরও কারও কারও মনে আছে সংশয়-সন্দেহ। অনেকের মুখেই প্রশ্ন, অদূর ভবিষ্যতে দেশের মাটিতে টাইগারদের কোনও ওয়ানডে নেই। তাহলে কবে শেষ ম্যাচ খেলবেন মাশরাফি? আর সেটা কি আদৌ এ বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালেই হবে?

এ প্রশ্নের ইতিবাচক উত্তরও জানিয়েছে বিসিবি। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ বা অক্টোবরের প্রথম ভাগে দেশের মাটিতেই শেষ ওয়ান ডে খেলবেন মাশরাফি। নিজের অভিষেক ম্যাচের মতো জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই শেষ ম্যাচ বা সিরিজ খেলতে যাচ্ছেন বাংলাদেশ ওয়ান ডে  অধিনায়ক।

আর সে কারণেই জিম্বাবুয়েকে ঢাকায় আনতে বদ্ধ পরিকর বিসিবি। সোমবারই বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বেশ আস্থা ও দৃঢ়তার সাথে জানিয়েছেন জিম্বাবুয়ে আসবে। আইসিসির নিষেধাজ্ঞা তাদের বাংলাদেশের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে খেলতে আসায় কোন বাধা হবে না।

কিন্তু ঠিক কবে আসছে জিম্বাবুয়ে? তা নিয়ে বোর্ডের কোন শীর্ষকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ না খুললেও বিসিবির দায়িত্বশীল সূত্রের খবর, আগামী সেপ্টেম্বর মাসের শেষ ভাগে, না হয় অক্টোবরের শুরুতেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ বা সিরিজটি খেলবেন মাশরাফি।

সবার জানা একটি টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলার জন্য আফগানিস্তান আসছে বাংলাদেশে। তার দিনক্ষণ সফরসূচি চুড়ান্ত না হলেও, একটা সম্ভাব্য সফরসূচি তৈরি হয়েছে। তা হলো- চলতি আগস্ট মাসের ৩১ তারিখ থেকে সেপ্টেম্বরের ১০ তারিখের মধ্যে বাংলাদেশে আসবে আফগানরা।

একটি টেস্ট খেলে বাংলাদেশ আর জিম্বাবুয়ের সঙ্গে একটি তিন জাতি টি-টোয়েন্টি সিরিজও খেলবে আফগানিস্তান। সেই ত্রিদেশীয় সিরিজের সম্ভাব্য সময় ১০ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর। 

আর এরপরই জিম্বাবুয়ের সঙ্গে দুই বা তিন ম্যাচের একটি ওয়ানডে সিরিজ আয়েজনের চিন্তা ভাবনা চলেছে। ইতোমধ্যেই বিসিবির পক্ষ থেকে জিম্বাবুয়েকে সে ওয়ানডে সিরিজ খেলার প্রস্তাবও দেয়া হয়েছে।

শুধু তাই নয়, বাড়তি ওই তিন বা দুই ওয়ানডে ম্যাচ খেলার জন্য জিম্বাবুয়েকে কোটি টাকার অফারও করেছে বিসিবি। এখন আইসিসির আইনগত জটিলতা না থাকলে জিম্বাবুয়ে হয়ত ৭ থেকে ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ঢাকা চলে আসবে।

তারপর বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের সঙ্গে তিন জাতি টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলে আফগানরা চলে গেলেও জিম্বাবুয়ে থেকে যাবে। মাশরাফির নেতৃত্বে বাংলাদেশের সঙ্গে ওয়ানডে সিরিজ খেলে তারপর দেশে ফিরবে জিম্বাবুয়ানরা। আর সেটাই হবে দেশের মাটি তথা মাশরাফির বিদায়ী সিরিজ।

সুতরাং দেখে যাচ্ছে, টাইগার সেরা ক্যাপ্টেন মাশরাফিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় দিতেই কোটি টাকা ব্যয় করতে যাচ্চে বিসিবি। যদিও সেটা মাশরাফিরই প্রাপ্য বলে মনে করছেন ভক্ত-সমর্থকরা।

এনএস/কেআই

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি