যুক্তরাষ্ট্রে গুলিতে নোয়াখালীর যুবকের মৃত্যু, বাড়িতে আহাজারি
প্রকাশিত : ১৪:৪৯, ২৫ আগস্ট ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রে স্বপ্নের জীবন গড়তে গিয়ে বন্দুকধারীর গুলিতে প্রাণ গেল নোয়াখালীর এক প্রবাসীর। নিউইয়র্ক শহরের ব্রুকলিনে কর্মস্থলে গুলিতে নিহত হন সোনাইমুড়ীর মো. ইউসুফ রাজু। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন তার এক বাংলাদেশি সহকর্মী। রাজুর মৃত্যুর খবরে নোয়াখালীতে তার বাড়িতে চলছে স্বজনদের আহাজারি।
স্থানীয় সময় শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাউনসভিল এলাকার আমেরিকান বেস্ট উইংস অ্যান্ড পিজ্জা নামের একটি দোকানে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ইউসুফ রাজুর বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার আমিশাপাড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কংশনগর গ্রামে। তার মৃত্যুর খবর পৌঁছানোর পর থেকেই শোকে স্তব্ধ পুরো এলাকা।
বাড়িতে স্ত্রী, দুই শিশু কন্যা, বাবা-মা ও ভাই-বোনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। স্বজনরা জানান, কংশনগর গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ উল্লার তিন ছেলে ও তিন মেয়ের মধ্যে রাজু ছিলেন দ্বিতীয়। জীবনের স্বপ্ন পূরণে ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান তিনি। তখন তার স্ত্রী ছিল সন্তানসম্ভবা। পরিকল্পনা ছিল যুক্তরাষ্ট্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন করে একদিন দেশে ফিরবেন। পরে স্ত্রী-সন্তানদেরও সঙ্গে নিয়ে যাবেন নতুন জীবনের সন্ধানে। কিন্তু বন্দুকধারীর গুলিতে সেই স্বপ্নের পরিসমাপ্তি ঘটল অকালে।
স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য আবেদন করেছিলেন রাজু এবং সেখানে কাজ করার জন্য তার বৈধ কাগজপত্রও ছিল। তিনি ১২ বছর ও আড়াই বছর বয়সী দুই কন্যা সন্তানের বাবা। যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর জন্ম হয় তার ছোট মেয়ে রাইসার।
রাজুর মৃত্যুতে এখন সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তায় তার পরিবার। বিদেশ যাওয়ার সময় অনেক ঋণ করেছিলেন তিনি। পরিবারের জন্য স্থায়ীভাবে থাকার মতো ঘরও করে যেতে পারেননি। উপার্জনক্ষম রাজুর মৃত্যুতে দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে কীভাবে সামনের দিনগুলো চলবে, সেই চিন্তায় দিশেহারা স্ত্রী পলি আক্তার।
এদিকে, স্বজন ও এলাকাবাসীরা দ্রুত রাজুর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
এএইচ
আরও পড়ুন










