ঢাকা, বুধবার   ২৬ আগস্ট ২০২৬

জামালপুরে গৃহবধূ হত্যার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ১

জামালপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১৫:১৬, ২৬ আগস্ট ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

জামালপুরে এক গৃহবধূ হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে শহরের বাগেরহাটা এলাকায় পিবিআই কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিবিআই জামালপুরে পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত। 

তিনি জানান, গত ২৩ আগস্ট শনিবার সকালে জামালপুর শহরের পাঁচরাস্তা মোড় এলাকার কলাবাগান গলিতে বাবুল মিয়ার বাড়ির ৫ম তলায় ইশরাত জাহান নামের এক মহিলার মরদেহ পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে জানা যায়, নিহত ইশরাত জাহান ও কাউসার আহমেদ খান স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ওই বাসায় ভাড়া থাকতেন এবং তাদের ঘরে দুটি সন্তান রয়েছে। 

এরপর নিহতের মা মুক্তা বেগম কাউসার আহমেদ খানসহ অজ্ঞাত দুই জনের বিরুদ্ধে জামালপুর সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটির তদন্ত শুরু করে পিবিআই। 

তদন্তে জানা যায়, ২০১৪ সালে ইশরাত জাহানের সাথে শাওন নামের এক ব্যক্তির বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে একজন মেয়ে ও একজন ছেলে সন্তান জন্ম নেয়। ইশরাতের স্বামী শাওন ২০২১ সালে মারা গেলে ইশরাত তার দুই সন্তানদের নিয়ে জামালপুর শহরে বসবাস করতে থাকেন। 

প্রায় ৩ বছর আগে কাউসার আহমেদ খানের মনোহারি দোকানে কেনা কাটা করার সুবাদে ইশরাতের সাথে পরিচয় হয়। এক সময় ইশরাত দোকানের বকেয়া টাকা পরিশোধ করার জন্য কাউসারকে তার বাসায় ডেকে নিয়ে যায়। কাউসার সেখানে গেলে পরিকল্পিতভাবে ইশরাতের সাথে শারীরিক সম্পর্কে জড়ায় কাউসার। তাদের শারীরিক সর্ম্পকের বিষয়টি গোপনে ভিডিও ধারণ করে রাখে ইশরাত। 

পরবর্তীতে সেই ভিডিও দিয়ে কাউসারকে ব্ল্যাকমেইল করে মোটা অংকের অর্থ আদায় করতে থাকে। এভাবে আসামি কাউসার তার সঞ্চিত অর্থ শেষ করার পর জামালপুর শহরে তার বাড়ির জমি বিক্রিসহ মা ও স্ত্রীর স্বর্ণালংকার বিক্রির অর্থ ইশরাতকে দেয়। এছাড়াও ইশরাত ব্ল্যাকমেইল করার জন্য বিভিন্ন লোকজনদেরকে টার্গেট করতো এবং কাউসারকে সেসব লোকজনদের ফাঁদে ফেলে বাসায় নিয়ে আসতে চাপ প্রয়োগ করতো। 

পিআইবি জানায়, আসামী কাউসার এসব কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে ইশরাত ও কাউসারের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়। ঘটনার দিন ইশরাত আসামী কাউসারকে ফোন করে তার ভাড়া বাসায় ডেকে নিয়ে যায় এবং কাউসারের কাছে মোটা অংকের টাকা দাবি করলে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ইশরাত আসামী কাউসারের স্ত্রীকে ফোন দিয়ে তাদের অবৈধ সর্ম্পকের কথা জানিয়ে দেয়। কাউসার তার সাথেই আছে বলে কাউসারের সাথে তার স্ত্রীকে কথা বলিয়ে দিতে গেলে কাউসার কথা বলতে না চাওয়ায় তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। 

একপর্যায়ে কাউসার ইশরাতের গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এরপর পিবিআই তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় কাউসার আহমেদ খানকে সোমবার বিকেল জামালপুর শহরের বাগেরহাটা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে।

এএইচ


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি