ঢাকা, রবিবার   ১৪ জুন ২০২৬

অপহরণ নয়, স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে ছিলেন ছাত্রশিবির নেতা জিসান: পুলিশ

কুমিল্লা প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ২১:০০, ১৩ জুন ২০২৬ | আপডেট: ২১:১৪, ১৩ জুন ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে নিখোঁজ হওয়া বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি জিসান মিয়া প্রধানকে কেউ অপহরণ করেনি; বরং একটি ধর্ষণ মামলার পরিণতি এড়াতে তিনি স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে ছিলেন বলে দাবি করেছে কুমিল্লা জেলা পুলিশ।

শনিবার (১৩ জুন) বিকেল ৩টায় কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান এ তথ্য জানান।

পুলিশ জানায়, গত ১২ জুন জিসানের চাচাতো ভাই মো. রাসেল আহম্মেদ দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এতে উল্লেখ করা হয়, ১১ জুন রাত সাড়ে ৮টার দিকে দাউদকান্দি বাজার এলাকা থেকে জিসান নিখোঁজ হন। জিডির ভিত্তিতে জেলা পুলিশের একাধিক টিম তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অনুসন্ধান শুরু করে।

তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, প্রায় পাঁচ-ছয় মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে ২৫ বছর বয়সী এক বিধবা নারীর সঙ্গে জিসানের পরিচয় হয় এবং পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

পুলিশের দাবি, গত ২০ মে দাউদকান্দিতে জিসানের ভাড়া বাসায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই নারীকে ধর্ষণ করা হয়। পরবর্তীতে একাধিকবার একই প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্কের ফলে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। পরে গর্ভপাতের জন্য চাপ দেওয়া হয় এবং ওষুধ সেবনের মাধ্যমে ভ্রূণ নষ্ট করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী নারী বিয়ের জন্য চাপ দিলে জিসান ১২ জুন বিয়ে করবেন বলে আশ্বাস দেন। তবে ১১ জুন রাতেই তিনি আত্মগোপনে যান। তদন্তে প্রাথমিকভাবে উঠে এসেছে, নিজের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি অপহরণ হিসেবে উপস্থাপন করতে চাচাতো ভাইয়ের মাধ্যমে থানায় সাধারণ ডায়েরি করানো হয়েছিল।

এদিকে শুক্রবার (১২ জুন) রাত পৌনে ১০টার দিকে কুমিল্লার লাকসাম জংশন রোড এলাকা থেকে স্থানীয়রা জিসানকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে লাকসাম থানা পুলিশ তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। 
উদ্ধার হওয়ার পর জিসান দাবি করেছিলেন, তাকে গাড়িযোগে অপহরণ করা হয়েছিল। তবে তদন্তে অপহরণের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জিসানকে উদ্ধারের পর ওই নারী দাউদকান্দি মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় জিসানকে প্রধান আসামি করে চারজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, ধর্ষণে সহযোগিতা, ভ্রূণ নষ্ট এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, মামলার ঘটনায় তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

এএইচ


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি