এক লাখ ইয়াবা গায়েবের অভিযোগ ওঠা সেই ওসি প্রত্যাহার
প্রকাশিত : ১০:৪৩, ১৮ জুন ২০২৬
কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামে আসার পথে এক পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে জব্দ করা এক লাখ ইয়াবা গায়েবের অভিযোগ ওঠা চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফতাব উদ্দিনকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।
বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী।
তিনি জানান, ইয়াবা সরিয়ে ফেলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত পুলিশ প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওসি আফতাবকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ সদরদপ্তর তদন্ত করছে।
একই ঘটনায় বাকলিয়া থানার সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) তানভীর হোসেনকে কিছুদিন আগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় জানিয়ে সিএমপি কমিশনার বলেন, কাজের গতি বাড়াতে কিছু নতুন পদায়নও করা হয়েছে।
এদিকে, পুলিশ পরিদর্শক জায়েদ নূরকে কোতোয়ালি থানার নতুন ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
২০২৫ সালের ৮ ডিসেম্বর রাতে নগরের বাকলিয়া নতুন ব্রিজ এলাকায় কক্সবাজার জেলা পুলিশের কনস্টেবল ইমতিয়াজ হোসেন সৌরভকে একটি বাস থেকে নামিয়ে তল্লাশি চালায় বাকলিয়া থানা পুলিশের একটি দল।
পরে অভিযোগ ওঠে, অভিযানের সময় কনস্টেবলের কাছে থাকা একটি ব্যাগ থেকে ৯০ হাজার থেকে এক লাখ ইয়াবা জব্দ করা হলেও তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। একইসঙ্গে জব্দ করা মাদক সরিয়ে ফেলার অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার সময় আফতাব উদ্দিন বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পরে তিনি কোতোয়ালি থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পান।
ইয়াবা গায়েবের অভিযোগ সামনে আসার পর সিএমপির গঠিত একটি অভ্যন্তরীণ কমিটি তদন্তে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে। ওই তদন্তের ভিত্তিতে চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি বাকলিয়া থানায় কর্মরত বিভিন্ন পদমর্যাদার আট পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
পরে আদালতের নির্দেশে পরিচালিত পৃথক তদন্তে সিএমপির দক্ষিণ বিভাগের উপ-কমিশনার হোসাইন কবির ভূঁইয়া তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ব্যাগ তল্লাশির ঘটনা ঘটলেও সেখান থেকে ইয়াবা জব্দের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ও অকাট্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তবে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা ও পেশাগত অদক্ষতার প্রমাণ পাওয়া যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এএইচ
আরও পড়ুন










