নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী
প্রকাশিত : ২০:৩৯, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ২২:১১, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার বা যে কোনো ধরনের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম
শুক্রবার (১১সেপ্টেম্বর) বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরের একটি পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, "যতক্ষণ পর্যন্ত এই দলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর বাংলাদেশে নির্বাচন করা তো দূরের কথা, কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার অধিকার নেই।"
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি তারা আইন অমান্য করে কোনো তৎপরতা চালায়, তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেবে।
আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে এই মুহূর্তে প্রশ্ন করা অনুচিত মন্তব্য করে মীর শাহে আলম বলেন, নিষিদ্ধঘোষিত একটি দল হওয়ায় তাদের দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অধিকার যেমন নেই, তেমনি কোনো সভা-সমাবেশ, মিছিল বা দলীয় কার্যালয় খুলে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনারও সুযোগ নেই।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করে প্রতিমন্ত্রী জানান, বিগত স্বৈরাচারী শাসনের সময় দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও নির্বাচনব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান ম্যান্ডেট হলো পাঁচটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে, যেকোনো মূল্যে এসব নির্বাচন মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে হবে। এ বাবদ বাজেটে প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে এবং নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে।
মীর শাহে আলম বলেন, সংশোধিত আইন অনুযায়ী এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন বা দলীয় প্রতীক ব্যবহারের সুযোগ থাকছে না। নির্বাচন হবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও সাধারণ প্রতীকে। তবে মাঠপর্যায়ে দলের ‘চেইন অব কমান্ড’ ঠিক রাখতে বিএনপি একক প্রার্থীকে সমর্থনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কোনো ইউনিয়নে একাধিক প্রার্থী থাকলে স্থানীয় পর্যায়ে সমঝোতার চেষ্টা করা হবে, অন্যথায় দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
বগুড়ার ইপিজেড (রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল), বিমানবন্দর ও বগুড়া–সিরাজগঞ্জ রেলপথসহ প্রধান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কাজ শুরু হওয়া নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "বর্তমান সরকারের মেয়াদ মাত্র ছয় মাস পার হয়েছে। বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে নিয়মমাফিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার জন্য কিছুটা সময় লাগে। তবে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই বগুড়াবাসী এসব প্রকল্পের দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে পাবেন।"এর আগে, ২০২৬–২৭ অর্থবছরে রাজস্ব খাতের আওতায় শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ পুকুরে পোনা মাছ অবমুক্ত করে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক–শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।পরে শিবগঞ্জ ও মোকামতলা এলাকায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রতিভা অন্বেষণ পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন তিনি।
এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে শিবগঞ্জ গ্রামার স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও বেতগাড়ী মীর শাহে আলম বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের অনুকূলে দুটি স্কুলবাস হস্তান্তর করেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী।
আরও পড়ুন










