ঢাকা, মঙ্গলবার   ১১ আগস্ট ২০২৬

৩০ শিশুর পাশে দাঁড়ালো দুর্বার উন্নয়ন সংস্থা

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৯:৩৯, ৯ আগস্ট ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

বাগেরহাটের চিতলমারীতে বটগাছের ছায়ায় গড়ে ওঠা ৩০ দরিদ্র শিশুর স্বপ্নের পাঠশালার পাশে দাঁড়িয়েছে দুর্বার উন্নয়ন সংস্থা। গণমাধ্যমে পাঠশালাটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর শিশুদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসে সংগঠনটি।

রোববার (৯ আগস্ট) সকাল ১১টায় চিতলমারী উপজেলার চরবানিয়ারী রানাপাড়া গ্রামের ওই পাঠশালার প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের মাঝে খাতা, কলম, সাবান, ব্রাশ, পেস্টসহ বিভিন্ন শিক্ষা ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা হয়। নতুন সামগ্রী পেয়ে আনন্দে মেতে ওঠে শিশুরা।

পাকা ভবন বা বেঞ্চ-টেবিল নেই। মাথার ওপর ছোট্ট টিনের ছাউনি, পাশে বিশাল একটি বটগাছ। সেই গাছের ছায়াতেই প্রতিদিন বই-খাতা নিয়ে পড়তে বসে গ্রামের ৩০ দরিদ্র শিশু। তাদের শিক্ষার আলো দেখাচ্ছেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক জহরলাল সরকার।

সম্প্রতি ‘বটগাছের ছায়ায় স্বপ্নের পাঠশালা: অবসরজীবনেও দরিদ্র শিশুদের শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছেন জহরলাল সরকার’ শিরোনামে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি নজরে আসার পর শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেয় দুর্বার উন্নয়ন সংস্থা।

সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক জহরলাল সরকার, শিক্ষক সাথী বিশ্বাস, দুর্বার উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, সাংবাদিক অরুণ কুমার সরকার, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।

অভিভাবকরা জানান, গ্রামের দরিদ্র পরিবারের শিশুদের জন্য জহরলাল সরকারের উদ্যোগটি আশীর্বাদের মতো। কাছাকাছি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না থাকায় অনেক শিশু পড়াশোনা থেকে দূরে ছিল। বটগাছের নিচে হলেও এই পাঠশালা তাদের শিক্ষার সুযোগ তৈরি করেছে।

অভিভাবক সোনালী ঘরামি বলেন, “আমাদের সন্তানদের পড়াশোনার জন্য জহরলাল স্যার অনেক কষ্ট করেন। তাঁর কারণে আমাদের সন্তানরা ঘরের কাছেই পড়ার সুযোগ পাচ্ছে। দুর্বার সংস্থা পাশে এসে খাতা-কলমসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী দেওয়ায় আমরা খুবই আনন্দিত।”

অভিভাবক হ্যাপী রানা বলেন, “গরিব মানুষের সন্তানদের জন্য এ পাঠশালা অনেক বড় উপকার। আমরা চাই, এই সহযোগিতা যেন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকে।”

শিক্ষক সাথী বিশ্বাস বলেন, “জহরলাল স্যারের এই উদ্যোগ শুধু একটি পাঠশালা নয়, এটি দরিদ্র শিশুদের ভবিষ্যৎ গড়ার একটি চেষ্টা। সমাজের বিত্তবান মানুষ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এলে এই উদ্যোগ আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব।”

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক জহরলাল সরকার বলেন, “আমি চাই গ্রামের কোনো শিশুই যেন শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত না হয়। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী যতদিন পারি তাদের পাশে থাকতে চাই। গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর দুর্বার উন্নয়ন সংস্থা যেভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে, তাতে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ।”

স্থানীয়দের ভাষ্য, রানাপাড়া গ্রামের অধিকাংশ পরিবারই দরিদ্র। নিকটতম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে। এলাকায় দীর্ঘদিন কোনো পাঠশালা না থাকায় অনেক শিশু শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এই বাস্তবতা বদলাতে অবসর নেওয়ার পর নিজের উদ্যোগে ২০২৩ সালে পাঠশালাটি চালু করেন জহরলাল সরকার।

তবে পাঠশালাটির সামনে এখনো রয়েছে নানা সমস্যা। বটগাছের নিচে নির্মিত ছোট্ট টিনের ছাউনিতে সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি পড়ে। বর্ষাকালে কাঁচা রাস্তা কাদায় ভরে যাওয়ায় শিশুদের যাতায়াতও কঠিন হয়ে পড়ে। প্রয়োজন একটি স্থায়ী শ্রেণিকক্ষ, আসবাবপত্র ও আরও শিক্ষা উপকরণ।

শিক্ষাক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রবীণ দিবসে কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (কোডেক)-এর সহযোগিতায় শ্রেষ্ঠ শিক্ষক সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন জহরলাল সরকার।

একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের একক প্রচেষ্টায় বটগাছের ছায়ায় শুরু হওয়া এই পাঠশালা এখন ৩০ শিশুর স্বপ্নের ঠিকানা। গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর সেই শিশুদের পাশে দাঁড়িয়েছে দুর্বার উন্নয়ন সংস্থা। শিক্ষা উপকরণ বিতরণের এই উদ্যোগে নতুন আশার আলো দেখছে পাঠশালার শিশু ও অভিভাবকেরা।


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি