ঢাকা, বুধবার   ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইরানকে পূর্ণ সমর্থন পুতিনের, দাঁতভাঙা জবাব দেওয়ার ঘোষণা

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ২০:০০, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতে ইরানকে সমর্থন দেয়ার কথা জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একই সঙ্গে ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধ আরও তীব্র করার অঙ্গীকার করেছেন তিনি। 

কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) সম্মেলনে অংশ নিয়ে এসব কথা জানান পুতিন। খবর ওয়াশিংটন পোস্টের।

সম্প্রতি ইউক্রেন যুদ্ধ আরও বিপজ্জনক একপর্যায়ে প্রবেশ করেছে। দুই পক্ষই একে অপরের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আকাশপথে হামলা বাড়িয়েছে। এসব লক্ষ্যবস্তুর অনেকগুলোতেই হামলা ঠেকানোর মতো পর্যাপ্ত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নেই।

পুতিনের ভাষ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনের হামলায় ৪০ দিনে রাশিয়ার প্রায় ১০০টি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, এতে রাশিয়ার যে ক্ষতি হয়েছে, তা দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১ শতাংশের সমান।

বিশকেকে দেওয়া বক্তব্যে পুতিনও এ আগ্রাসী অবস্থানের পক্ষে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় ব্যাপক হামলা চালানোর নির্দেশ রুশ বাহিনীকে দেওয়া হয়েছে। তার দাবি, রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের কৃষিপণ্য রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং দেশটি আর্থিক সংকটের ঝুঁকিতে পড়ছে।

পুতিন বলেন, ‘আমি বলছি না যে আমরা সেখানকার অর্থনীতি ধসিয়ে দেব। তবে এটি তাদের জন্য একটি গুরুতর চ্যালেঞ্জ। তারাই আমাদের সঙ্গে আবার আলোচনা শুরু করতে চাইছে, ব্যক্তিগত বৈঠকের অনুরোধ করছে। তবে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে আলোচনা হয় না।’

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) এসসিও বৈঠকের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন পুতিন। ইরানের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় দেশটির জনগণের ‘সাহস ও দৃঢ়তার’ প্রতি তার সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

পুতিন বলেন, জুনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতির সমঝোতা স্বাক্ষরকে মস্কো স্বাগত জানিয়েছিল। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই যুদ্ধবিরতি অস্থিতিশীল এবং অত্যন্ত ভঙ্গুর প্রমাণিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘এই কঠিন সময়ে’ রাশিয়া ইরানকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছে। মস্কো ইতোমধ্যে তেহরানের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছে এবং প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করছে বলেও জানান রুশ প্রেসিডেন্ট।

বৈঠকে পুতিন ইরানের জনগণের সাহস ও নিজেদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার দৃঢ়তার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে রাশিয়া ও ইরানের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।

জবাবে পেজেশকিয়ান রাশিয়ার অবস্থানের জন্য পুতিনকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, মস্কো ও তেহরানের কৌশলগত সম্পর্ক ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের মোকাবিলায় সহায়তা করেছে। তাঁর ভাষায়, দুই দেশ একসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ‘একতরফাবাদ’ মোকাবিলা করতে পারে। 

এদিকে, সাংহাই সম্মেলনে যোগ দিতে যাওয়ার আগে রাশিয়ায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একটি বৈঠকে অংশ নেন পুতিন। সেখানে ইউক্রেনের সঙ্গে রাশিয়ার কেন যুদ্ধে জড়ানো প্রয়োজন, তা বোঝাতে মেরুভালুককে ‘ঘাতক তিমি’র খাওয়ার একটি উদাহরণ দেন তিনি।

বিশকেকে এ বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে পুতিন বলেন, ‘সোভিয়েত আমলে পশ্চিমা দেশগুলোকে সাম্রাজ্যবাদের হাঙর হিসেবে বর্ণনা করা হতো। কেউ যদি খাদ্যশৃঙ্খলে আমাদের নিচে নামিয়ে দিতে চায়, আমাদের গিলে খেতে বা গ্রাস করতে চায়, তাহলে তারা দাঁতভাঙা জবাব পেতে পারে।’

এএইচ


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি