ইউরোপে আশ্রয় বাংলাদেশিদের আবেদন বেড়েছে ১৩ শতাংশ
প্রকাশিত : ২১:০৮, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলোতে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে আশ্রয়ের আবেদন সামগ্রিকভাবে কমেছে। তবে এর বিপরীতে বাংলাদেশি নাগরিকদের আন্তর্জাতিক সুরক্ষার আবেদন বেড়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত বাংলাদেশিদের আবেদন প্রায় ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন এজেন্সি ফর অ্যাসাইলাম (ইইউএএ) বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। ইইউ সদস্যদেশের পাশাপাশি সুইজারল্যান্ড ও নরওয়েকে নিয়ে গঠিত ‘ইইউ+’ অঞ্চলের তথ্য এতে তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ইইউ+ অঞ্চলে মোট ৩ লাখ ৩২ হাজার আন্তর্জাতিক সুরক্ষার আবেদন জমা পড়েছে। ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা ১৭ শতাংশ কম। একই সঙ্গে ২০২১ সালের পর কোনো বছরের প্রথমার্ধে এটিই সর্বনিম্ন আবেদনসংখ্যা।
ইইউএএর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথমার্ধে সবচেয়ে বেশি আশ্রয় আবেদন করেছেন আফগানিস্তানের নাগরিকেরা। এরপর রয়েছেন ভেনেজুয়েলা ও বাংলাদেশি নাগরিকেরা।
২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশিদের আবেদনের সংখ্যা ছিল ১৭ হাজার ৩২৭। চলতি বছরের একই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৫২১-এ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশি আবেদনকারীর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১৩ শতাংশ।
ইইউএএ জানিয়েছে, সামগ্রিকভাবে আশ্রয় আবেদন কমার পেছনে ইউরোপের কঠোরতর অভিবাসন নীতি, বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন এবং উৎস ও ট্রানজিট দেশগুলোর সঙ্গে ইইউর সহযোগিতা ভূমিকা রেখেছে।
সিরিয়ায় রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দেশটির নাগরিকদের আশ্রয় আবেদনও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইইউর নতুন আশ্রয়-সংক্রান্ত ব্যবস্থার আওতায় কম স্বীকৃতির হার রয়েছে এমন দেশগুলোর নাগরিকদের আবেদন দ্রুত যাচাই করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যেসব দেশের আবেদন অনুমোদনের হার ২০ শতাংশের নিচে, অথবা যেসব দেশকে ‘নিরাপদ দেশ’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে, তাদের আবেদন দ্রুত প্রক্রিয়াকরণের আওতায় রাখা হচ্ছে।
ইইউএএর হিসাবে, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে জমা পড়া আবেদনের প্রায় ৫৬ শতাংশ এ ধরনের মানদণ্ডের মধ্যে পড়েছে। বাংলাদেশ, মিসর, ভেনেজুয়েলা ও তুরস্কের নাগরিকদের একটি বড় অংশ এ প্রক্রিয়ার আওতায় রয়েছে।
বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে প্রথম ধাপে আশ্রয় আবেদনের অনুমোদনের হার ৫ শতাংশের নিচে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে বাংলাদেশকে কম স্বীকৃতির হার থাকা দেশগুলোর তালিকায় রাখা হয়েছে।
আশ্রয়ের আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা মামলার সংখ্যার দিক থেকেও বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অবস্থানে রয়েছে। প্রথম ধাপের বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রায় ৩৬ হাজার বাংলাদেশি নাগরিকের মামলা এখনো নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
ইইউ+ অঞ্চলে জুনের শেষে প্রথম ধাপে মোট প্রায় ৭ লাখ ৭০ হাজার আশ্রয় মামলা প্রক্রিয়াধীন ছিল। এক বছর আগের তুলনায় এ সংখ্যা ৮ শতাংশ কমেছে। তবে প্রশাসনিক ও বিচারিক সব ধাপ মিলিয়ে অপেক্ষমাণ মামলার সংখ্যা প্রায় ১১ লাখ ৮০ হাজার।
প্রথম ধাপে অপেক্ষমাণ মামলার তালিকায় সবচেয়ে বেশি রয়েছে ভেনেজুয়েলার নাগরিকদের আবেদন। এরপর সিরিয়া, কলম্বিয়া, পেরু ও বাংলাদেশের অবস্থান।
নতুন আবেদন নিষ্পত্তির গতি বাড়লেও ছয় মাসের বেশি সময় ধরে ঝুলে থাকা পুরোনো মামলার সংখ্যা তেমন কমেনি। ফলে মোট প্রক্রিয়াধীন মামলার মধ্যে পুরোনো মামলার অংশ গত বছরের ৬৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭৩ শতাংশ হয়েছে।
ইইউভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে সবচেয়ে বেশি আশ্রয় আবেদন গ্রহণ করেছে ফ্রান্স—প্রায় ৬৯ হাজার। এরপর রয়েছে ইতালি, স্পেন ও জার্মানি। এসব চার দেশে ইইউ+ অঞ্চলের মোট আবেদনের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ জমা পড়েছে।
তবে জনসংখ্যার অনুপাতে সবচেয়ে বেশি আবেদন পড়েছে গ্রিসে। দেশটিতে প্রায় ২৩ হাজার আবেদন জমা হয়েছে।
ইইউএএর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাত সত্ত্বেও সেখানকার ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো থেকে আশ্রয় আবেদনের সংখ্যা প্রত্যাশার তুলনায় বড় ধরনের বৃদ্ধি পায়নি। পাশাপাশি উত্তর আফ্রিকার কয়েকটি দেশের সঙ্গে ইইউর অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতাও আবেদন কমার ধারায় প্রভাব ফেলেছে।
এমএইচ
আরও পড়ুন










