ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ে দ্রুত নীতিমালা করবে সরকার: ডা. জাহেদ
প্রকাশিত : ১৫:০৯, ২৫ আগস্ট ২০২৬
ঢাকার প্রধান সড়ক ও মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে দ্রুত একটি নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরার সময় এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
প্রস্তাবিত নীতিমালায় ব্যাটারিচালিত রিকশা কোন কোন সড়কে চলতে পারবে এবং কী পরিমাণে চলাচলের অনুমতি পাবে, তা নির্ধারণ করা হবে। পাশাপাশি এসব যানবাহনের কারিগরি মান, নিরাপত্তা, সক্ষমতা এবং চালকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের বিষয়ও নীতিমালার আওতায় আনার কথা রয়েছে।
উপদেষ্টা জানান, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যা ও চলাচল বেড়েছে। একদিকে এসব যান সাধারণ মানুষের যাতায়াতে কিছুটা সুবিধা তৈরি করেছে, অন্যদিকে অপরিকল্পিত চলাচলের কারণে যানজটসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিয়েছে।
বিশেষ করে চালকদের প্রশিক্ষণের ঘাটতি এবং যানবাহনগুলোর কারিগরি নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলো নির্ধারিত মান পূরণ করছে কি না, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলে জানান তিনি।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, খুব শিগগিরই এ বিষয়ে একটি কার্যকর নীতিমালা তৈরি করা হবে। কোথায় এসব যান চলাচল করতে পারবে, কোন সড়কে তাদের প্রবেশ সীমিত থাকবে এবং যানবাহনের জন্য কী ধরনের মানদণ্ড প্রযোজ্য হবে—এসব বিষয় স্পষ্ট করা হবে। এর মাধ্যমে রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরবে বলে আশা করছে সরকার।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর দ্বিতীয় পর্যায়ের কার্যক্রম শুরুর কথাও জানানো হয়। কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিফাবাদ ইউনিয়নে ৪৫৭ জন উপকারভোগীর মধ্যে কার্ড বিতরণের মাধ্যমে নতুন পর্যায়ের কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানান উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরে দেশের মোট ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য সরকারের প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে।
এই বিপুল অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতের পাশাপাশি সমাজের সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা মানুষের জন্য সহায়তা নিশ্চিত করাও সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
তার মতে, দরিদ্র পরিবারের হাতে সরাসরি অর্থ পৌঁছালে তারা সেই অর্থের বড় একটি অংশ স্থানীয় বাজারে ব্যয় করবেন। এতে শুধু সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোই উপকৃত হবে না, অর্থনীতিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
তিনি আরও বলেন, মানুষের হাতে অর্থ যাওয়ার ফলে বাজারে পণ্যের চাহিদা বাড়বে। এর ধারাবাহিকতায় নতুন ব্যবসা ও শিল্পের বিকাশের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হতে পারে।
সরকারের এই উপদেষ্টার মতে, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিতে ব্যয় করা প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা অর্থনীতিতে বহুগুণ প্রভাব ফেলতে পারে। অর্থের এই প্রবাহ নিম্নআয়ের মানুষের জীবনযাত্রায় সহায়তার পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও গতি আনতে পারে।
এমএইচ
আরও পড়ুন










