ঢাকা, শুক্রবার   ০৮ মে ২০২৬

দাপুটে ব্যাটিংয়ে ঢাকা টেস্টের প্রথম দিন বাংলাদেশের

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৯:৪১, ৮ মে ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের প্রথম দিনে নাজমুল হোসেন শান্ত, মুমিনুল হক ও মুশফিকুর রহিমের ব্যাটে ভর করে স্বস্তিতেই দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ। দিন শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে ৩০১ রান তুলেছে টাইগাররা।

শুক্রবার (৮ মে) মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম-এ টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আলী আঘা।

এদিকে ওপেনিংয়ে নামা মাহমুদুল হাসান জয় ও সাদমান ইসলাম কেউই ইনিংস বড় করতে পারেননি। বিশেষ করে জয়কে বেশ অস্বস্তিতে দেখা যাচ্ছিল। দলীয় ৩১ রানেই ফিরে যান দুই ওপেনার। সাদমান করেন ১৩ রান, আর জয় থামেন ৮ রানে।

শুরুর ধাক্কা সামলাতে এরপর ক্রিজে আসেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিংয়ে দুটি দৃষ্টিনন্দন অন-ড্রাইভ খেলে জানান দেন বড় ইনিংস খেলার প্রস্তুতির কথা।

শেষ পর্যন্ত সেটিই সত্যি হয়েছে। মিরপুরের উইকেটে দারুণ নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিংয়ে একের পর এক চমৎকার শট খেলতে খেলতে ক্যারিয়ারের নবম টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নেন শান্ত। মোহাম্মদ আব্বাসের মিডিয়াম পেস কভার দিয়ে বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে স্পর্শ করেন তিন অঙ্কের মাইলফলক। যদিও সেঞ্চুরির পর ইনিংস বড় করতে পারেননি তিনি। আব্বাসের ভেতরে ঢোকা বলে এলবিডব্লিউ হওয়ার আগে ১৩০ বলে ১০১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন বাঁহাতি এই ব্যাটার।

এর আগে মুমিনুল হককে সঙ্গে নিয়ে গড়েন পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ তৃতীয় উইকেট জুটি। দুজন মিলে যোগ করেন ১৭০ রান। পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবেও ছুঁয়েছেন বেশ কয়েকটি মাইলফলক। শুক্রবারের আগে শান্তর টেস্ট ক্যারিয়ারে ছিল ৮টি সেঞ্চুরি ও ৫টি ফিফটি। অর্থাৎ ১৪ বার পঞ্চাশ পেরিয়ে ৮ বারই সেটিকে সেঞ্চুরিতে রূপ দিয়েছিলেন তিনি। এবার সেই সংখ্যা দাঁড়াল ৯-এ।

টেস্টে শান্তর সেঞ্চুরি কনভারশন রেট এখন প্রায় ৬৪ শতাংশ। এই তালিকায় তার সামনে আছেন শুধু জর্জ হেডলি ও স্যার ডন ব্র্যাডম্যান। অধিনায়ক হিসেবেও ছাড়িয়ে গেছেন মুশফিকুর রহিমকে। মুশফিক নেতৃত্বে ৬১ ইনিংসে করেছিলেন ৪টি সেঞ্চুরি, আর শান্ত মাত্র ৩০ ইনিংসেই তুলে নিয়েছেন ৫টি সেঞ্চুরি।

শান্ত আউট হওয়ার পর মুমিনুল ও মুশফিক আবারও এগিয়ে নিতে থাকেন দলকে। চতুর্থ উইকেটে দুজন যোগ করেন ৭৫ রান। তবে দিনের শেষ দিকে কিছুটা অস্বস্তিতে পড়েন মুমিনুল। সর্বশেষ ২১ ইনিংসে চারবার নব্বইয়ের ঘরে গিয়ে সেঞ্চুরি হাতছাড়া করেছিলেন তিনি। হয়তো সেই আক্ষেপই তাড়া করছিল তাকে। শেষ পর্যন্ত ২০০ বলে ১০ চার ও ৯১ রানের ইনিংস খেলে থামেন এই বাঁহাতি ব্যাটার।

মুমিনুল আউট হওয়ার সময় দিনের খেলা বাকি ছিল আরও ১৭ ওভার। তখন ক্রিজে আসেন লিটন দাস। আগে থেকেই সেট হয়ে থাকা মুশফিককে সঙ্গে নিয়ে শেষ বিকেলের কঠিন সময়টা সামলে দেন তিনি। বিশেষ করে ৮০ ওভারের পর পাকিস্তান নতুন বল নেওয়ায় কিছুটা শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে দ্বিতীয় নতুন বলের মাত্র ৫ ওভার পরই দিনের খেলা শেষ ঘোষণা করেন আম্পায়াররা।

দিন শেষে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় স্বস্তি, দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার এখনও অপরাজিত। মুশফিক ৪৮ ও লিটন ৮ রানে ক্রিজে আছেন। শনিবার দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশন নিজেদের করে নিতে পারলে, ঢাকা টেস্টের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি বাংলাদেশের হাতেই চলে যেতে পারে।

এমআর// 


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি