অবকাঠামো ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে চীনের সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ
প্রকাশিত : ১৫:০৪, ২৭ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১৫:৩৭, ২৭ আগস্ট ২০২৬
অবকাঠামো উন্নয়ন, বন্দর ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ বিভিন্ন উন্নয়ন খাতে চীনের প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে আগ্রহী বাংলাদেশ। একই সঙ্গে এসব ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হবে বলে প্রত্যাশা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সচিবালয়ে মন্ত্রীর দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমও অংশ নেন।
আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায় রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা আধুনিকীকরণ, আবাসন উন্নয়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার এবং বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় ম্যান্ডারিন ভাষা চালুর সম্ভাবনা। পাশাপাশি দাশেরকান্দি স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের (এসটিপি) সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পাইপলাইন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের বিষয়টিও আলোচনায় আসে।
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, রাজধানীর কড়াইল, গুলশান ও মহাখালী এলাকার বস্তিবাসীর জন্য আধুনিক আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চীনের কাছে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ধাপে ধাপে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের বিষয়ে চীন প্রাথমিকভাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে বলেও জানান তিনি।
বৈঠকের শুরুতে নতুন দায়িত্ব নেওয়ায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও চীনের বিদ্যমান সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরির আগ্রহের কথা জানান তিনি।
ড. আবদুল মঈন খান বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে চীন গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে ভূমিকা রাখছে। পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নগর উন্নয়ন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে চীনের আধুনিক প্রযুক্তি, অভিজ্ঞতা ও বিনিয়োগ বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে পারে।
চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আরও জোরদার করার বিষয়েও চীন আগ্রহী।
মীর শাহে আলম বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে চীনের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে। এ বিষয়ে আগামী সেপ্টেম্বরে তার চীন সফরের সময় একটি চুক্তি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মনিরুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এমএইচ
আরও পড়ুন










