ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৭ আগস্ট ২০২৬

নেপালে বন্যা-ভূমিধসে নিহত বেড়ে ২৮৯ জন

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৬:৩৭, ২৭ আগস্ট ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী অঞ্চলে হিমবাহ ধসে তৈরি হওয়া ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৮৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় এখনও বিদেশি নাগরিক ও তীর্থযাত্রীসহ ১ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। 

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) নেপালভিত্তিক সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্টের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি।

সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্টের কাছে পুলিশের মুখপাত্র আবি নারায়ণ কাফলে নিহতের সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত চিতাওয়ানে ১০৯টি মরদেহ, পূর্ব নাওয়ালপারাসিতে ৬২, দাধিংয়ে ২৭, গোর্খা থেকে ২০, রাসুয়া থেকে ১৭, পশ্চিম নাওয়ালপারাসিতে ১৫, নুয়াকোট থেকে ১২ এবং তানাতুন নামে একটি জায়গা থেকে ৯টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমন ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের হিসাবে ৮২৬ জন নিখোঁজ আছেন। যারমধ্যে স্থানীয় বাসিন্দা, নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্য এবং দেশি-বিদেশি পর্যটক রয়েছেন।

সংস্থাটি আরও বিস্তারিত জানিয়ে বলেছে, নিখোঁজদের মধ্যে সেনাবাহিনীর ৪৪ সদস্য, ২৮ পুলিশ সদস্য এবং সশস্ত্র বাহিনীর আরও ১৩ জন আছেন। অরপরদিকে বাকি ৬৪৪ জন পর্যটকের মধ্যে ৫১৭ জনই বিদেশি এবং ১২৭ জন নেপালি।

এদিকে ধসে যাওয়া এলাকাগুলোতে নিখোঁজ শত শত মানুষের খোঁজে উদ্ধার অভিযান চালিয়েছেন উদ্ধারকারীরা।

চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম সিসিটিভি বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, তিব্বতের জিরং কাউন্টিতে নিখোঁজের সংখ্যা ৫৫৮, যার মধ্যে ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক। চীন জানিয়েছে, মৃতের সংখ্যা তিনেই রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, জীবন বাঁচাতে পালানোর চেষ্টাকালে ভেসে যাচ্ছে মানুষ, ভেঙে পড়ছে বাড়িঘর ও সেতু। বৃহস্পতিবার নেপাল থেকে ড্রোন ফুটেজে উঠে এসেছে এই ধ্বংসযজ্ঞের প্রকৃত চিত্র।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অঞ্চলের খাড়া উপত্যকাগুলো অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্র ও যোগাযোগের মূল পথ হলেও দুর্যোগের মুখে এগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। প্রলয়ঙ্কারী স্রোত বয়ে যাওয়ার পর নুয়াকোটের একাধিক ভবনের দোতলা পর্যন্ত কাদার আস্তরণে ঢেকে থাকতে দেখা গেছে। গাছের ডালপালা ও তারে ঝুলে আছে ধ্বংসাবশেষ, কাদার নিচে চাপা পড়েছে যানবাহন। 

কাদা মেখে স্তম্ভিত হয়ে বসে থাকতে দেখা গেছে কতিপয় বেঁচে যাওয়া মানুষকে। এই বন্যার কারণে বেশ কিছু এলাকায় যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। হঠাৎ করে নেমে আসা এই দুর্যোগে আত্মরক্ষার জন্য বাসিন্দারা খুব একটা সময় পাননি।

কাঠমান্ডুভিত্তিক সাংবাদিক নিরঞ্জন পৌডিয়াল জানান, প্রায় ২৫টি ঘরবাড়ি নিয়ে গঠিত নুয়াকোটের সোলি গ্রামটি একপ্রকার সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। নিখোঁজ পিতা-মাতা ও আত্মীয়স্বজনের খবরের আশায় বৃহস্পতিবার তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে যান। অত্যন্ত আকুল ও উদ্বিগ্ন হয়ে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। আমার আশঙ্কা, হয়তো আর কোনও খবরই পাওয়া যাবে না।

এএইচ


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি