নয়াদিল্লির সঙ্গে ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা
ভারতের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে: রণধীর
প্রকাশিত : ২১:০৮, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ২১:২৫, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ১০১টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বাংলাদেশ সরকারের পর্যালোচনা করার বিষয়টি ভারতের নজরে এসেছে। তবে এ বিষয়ে ঢাকা এখনো নয়াদিল্লিকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কিছু জানায়নি বলে জানিয়েছে ভারত সরকার। একই সঙ্গে যেকোনো পরিস্থিতিতে ভারতের নিজস্ব স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এসব কথা বলেন। তিনি জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিগুলো পর্যালোচনার বিষয়ে গণমাধ্যমের প্রতিবেদন দেখেছে ভারত। তবে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য তারা পায়নি।
সংবাদ সংস্থা এএনআইয়ের এক সাংবাদিক জানতে চান, বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে করা ১০১টি চুক্তি পর্যালোচনা করছে, এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার ভারতকে কিছু জানিয়েছে কি না।
জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, তাঁরা এ বিষয়ে কিছু গণমাধ্যমের প্রতিবেদন দেখেছেন, তবে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। ভারতের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এর আগে ১১ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি জানিয়েছিলেন, শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে করা ১০১টি সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার। এসব চুক্তিতে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী কোনো বিষয় রয়েছে কি না, তা যাচাই করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
নুরুল ইসলাম মনি বলেন, ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় সরকার। তবে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন চিফ হুইপ। তাঁর দাবি, আগের সরকারের সময়ে এমন কিছু চুক্তি করা হয়েছিল, যাতে একই সময়ে একাধিক জাহাজ এলে বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের জাহাজ খালাসের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পেতে পারে।
তবে কোন কোন চুক্তি বহাল থাকবে, কোনগুলো সংশোধন বা বাতিল হতে পারে—এ বিষয়ে এখনো সরকার কোনো নির্দিষ্ট তালিকা বা সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেনি।
এদিকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। এ বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, গঙ্গার পানিবণ্টনসহ পানি-সংক্রান্ত দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য দুই দেশের যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি)-এর ব্যবস্থা রয়েছে।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিভিন্ন চুক্তি পর্যালোচনার ঘোষণা এবং গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার বিষয়টি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে নতুন করে আলোচনা চলছে।
এমএইচ
আরও পড়ুন










