ভাড়াটিয়ার হাতে বাড়ির মালিক খুন, পলিথিনে মোড়ানো খণ্ড খণ্ড মরদেহ উদ্ধার
প্রকাশিত : ১৪:১৪, ৯ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১৫:৫৩, ৯ আগস্ট ২০২৬
কুমিল্লার দেবিদ্বারে এক ভাড়াটিয়ার হাতে নৃশংসভাবে খুন হয়েছেন ফরিদা ইয়াসমিন (৫০) নামের এক বাড়ির মালিক। হত্যার পর ঘটনা আড়াল করতে মরদেহ টুকরো টুকরো করে পলিথিনে ভরে ৯টি প্যাকেট করে বাড়ির পেছনে ফেলে রাখে ঘাতক।
শনিবার (৮ আগস্ট) বিকালে কুমিল্লার দেবিদ্বার পৌর এলাকার ছোটআলমপুর পূর্বাসা আবাসিক এলাকার ভূঁইয়া হাউজ থেকে উদ্ধার করা হয় ৯ পলিথিনে মোড়ানো খণ্ড খণ্ড মরদেহ।
এই ঘটনায় ঘাতক ভাড়াটিয়া লাইলী আক্তারকে আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেন বিক্ষুব্ধ জনতা।
দেবিদ্বার থানার ওসি মোঃ মনিরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আটক লাইলী প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে আরও ৪ জনের সম্পৃক্ততার তথ্য দিয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
জানা গেছে, দেবিদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুরে স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে প্রায় ৩০ বছর ধরে বসবাস করছেন ফরিদা ইয়াসমিন। স্বামী মফিজুল ইসলাম জাহাজে চাকরি করেন এবং দুই মেয়ে রাবেয়া বসরী ও মরিয়ম আক্তারের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় বাড়িতে একাই বসবাস করতেন ফরিদা ইয়াসমিন। বাড়ির অন্য একটি ঘর ভাড়া দেওয়া হয় লাইলী আক্তরের নিকট।
শনিবার সকালে ছোট মেয়ে মরিয়ম আক্তার বাবার বাড়িতে এসে মাকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে শনিবার বিকালে ফরিদা ইয়াসমিনের বোনের ছেলে মামুন বাসার পেছনে পলিথিনের কয়েকটি প্যাকেটে তার খন্ডিত মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়।
ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ওই সময় বিক্ষুব্ধ জনতা ভাড়াটিয়া লাইলী আক্তারকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ফরিদা ইয়াসমিনকে হত্যার কথা স্বীকার করেন এবং তার সাথে রবিউল, সোহেল ও ইমন নামের আরো তিন যুবক ও লাইলীর স্বামী আবুল কালাম আজাদ জড়িত থাকার কথাও স্বীকার করেন তিনি।
রাত সাড়ে ৭টায় ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ফরিদার টুকরো করা লাশের প্যাকেট উদ্ধার ও ঘাতক লাইলী আক্তারকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
ঘাতক লাইলী আক্তার দেবিদ্বার পৌর এলাকার চাঁপানাঘর গ্রামের আবুল কালাম আজাদের স্ত্রী।
নিহতের স্বামী মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, আমি চট্টগ্রামে জাহাজে চাকরি করি। সকাল থেকে আমার স্ত্রীকে ফোনে পাওয়া যাচ্ছিলো না, পরে আমি আমার মেয়ে ছোট ও নাতিকে বাড়িতে খোঁজ নিতে বলি, তারা এসে বাড়ির বারান্দা পানিতে ভিজা দেখতে পেয়ে সন্দেহ হয়। পরে ভাড়াটে ওই নারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করায় তার কথাবার্তা সন্দেহজনক হলে পুলিশকে কল করে বিষয়টি জানানো হয়। পরে ওই নারীকে ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়।
তিনি আরও জানান, আমার স্ত্রীর গায়ে স্বর্ণলংকার ছিলো আমার ধারণা এই লোভে হত্যা করে। মরদেহ সব অংশ পাওয়া গেলেও মাথা ও পায়ের অংশ পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, পলিথিনের মোড়ানো ফরিদা ইয়াসমিনের টুকরো টুকরো মরদেহের ৯টি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়েছে, তবে পা এবং মাথা এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। আটককৃত লাইলীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে আরো চারজনের নাম উল্লেখ করেছেন। বাকী আসামিদের আটকের চেষ্টা চলছে।
এএইচ
আরও পড়ুন










