ঢাকা, শুক্রবার   ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভেনেজুয়েলার ৪০০ কোটি ডলারের স্বর্ণ সরিয়ে নেবে নিউইয়র্ক

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৮:৫৮, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

ভেনেজুয়েলার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রায় ৪০০ কোটি ডলার মূল্যের স্বর্ণের মজুত যুক্তরাজ্যের ব্যাংক অব ইংল্যান্ড থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে স্থানান্তরের বিষয়ে সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হতে যাচ্ছে। তবে চুক্তিটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স। আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চার ব্যক্তির তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, তারা স্বাধীনভাবে তথ্যগুলো তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করতে পারেনি।

প্রস্তাবিত সমঝোতা অনুযায়ী, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার স্বর্ণের ওপর আইনি নিয়ন্ত্রণ পেলেও তা সরাসরি বিক্রি করতে পারবে না। বরং দেশটির জন্য ঋণ সংগ্রহের ক্ষেত্রে এই স্বর্ণ জামানত হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ থাকতে পারে। জুনে হওয়া দুটি বড় ভূমিকম্পের পর পুনর্গঠনেও এ অর্থ ব্যবহার করা হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের ভল্টে বর্তমানে ভেনেজুয়েলার প্রায় ৩১ মেট্রিক টন স্বর্ণ রয়েছে। এর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দেশটির সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে কয়েক বছর ধরে আইনি বিরোধ চলছে। ২০১৯ সালে ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক সংকটের সময় যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি পশ্চিমা দেশ তৎকালীন বিরোধী নেতা হুয়ান গুয়াইদোকে সমর্থন দেওয়ার পর বিরোধটি আরও জটিল হয়।

স্বর্ণের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে আইনি প্রক্রিয়া চলছে। ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এ বিষয়ে কার নিয়ন্ত্রণ থাকা উচিত—তা নির্ধারণের আইনি প্রক্রিয়ায় সরকার কোনো পক্ষ নয়। দেশটির আদালত এবং ব্যাংক অব ইংল্যান্ড স্বাধীনভাবে বিষয়টি পরিচালনা করছে।

ব্যাংক অব ইংল্যান্ডও জানিয়েছে, স্বর্ণের হিসাবের ওপর কার বৈধ কর্তৃত্ব রয়েছে সে বিষয়ে যুক্তরাজ্যের আদালতের পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত তারা কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছে না। বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আদালতের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই যেতে হবে।

গত মাসে ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদের প্রধান হোর্হে রদ্রিগেজ জানিয়েছিলেন, লন্ডনে সংরক্ষিত স্বর্ণের মজুত ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। দেশটির ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় এই সম্পদ কাজে লাগানোর পরিকল্পনার কথাও তিনি জানিয়েছিলেন।

২০১৯ সালের শুরু থেকে ভেনেজুয়েলার স্বর্ণের মজুত নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। ওই সময় নিকোলাস মাদুরোর সরকারের বৈধতা নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে বিরোধ তৈরি হলে স্বর্ণের নিয়ন্ত্রণ নিয়েও আইনি জটিলতা শুরু হয়।

পরবর্তী সময়ে ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যেও লন্ডনে থাকা স্বর্ণের নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়নি। প্রস্তাবিত নতুন ব্যবস্থায় স্বর্ণ নিউইয়র্কে স্থানান্তরিত হলে সেটি ভেনেজুয়েলার আর্থিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে স্বর্ণ বিক্রির ওপর প্রস্তাবিত বিধিনিষেধ থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে নগদ অর্থে রূপান্তরের সুযোগ থাকবে না।

এদিকে ভেনেজুয়েলার জ্বালানি ও খনিজ খাত নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে অর্থনৈতিক যোগাযোগ বাড়ছে। সম্প্রতি দেশটির জ্বালানি ও খনিজ খাতে মার্কিন বিনিয়োগের কয়েকটি চুক্তি হয়েছে। এর আগে ভেনেজুয়েলার তেল খাত নিয়ে বড় ধরনের চুক্তির কথাও জানিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।

তবে ৪০০ কোটি ডলারের স্বর্ণ স্থানান্তরের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সমঝোতা ও যুক্তরাজ্যের আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়া এখনো বাকি।

এমএইচ 


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি