লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত ৪
প্রকাশিত : ১৬:১৪, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সংঘাত বৃদ্ধির জেরে দক্ষিণ লেবাননে চালানো বিমান হামলায় অন্তত ৪জন নিহত এবং আরও ২০ জন আহত হয়েছেন।
লেবাননের সরকারি সংবাদ সংস্থা 'ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি' (এনএনএ)-র তথ্য অনুযায়ী, রবিবার ৯৬ সেপ্টেম্বর ) ভোরবেলা শুরু হওয়া এই হামলাগুলো নাবাতিয়েহ, আরব সালিম, নাবাতিয়েহ আল-ফাওকা এবং কাফার রেমান এলাকায় আঘাত হানে।
সংবাদমাধ্যম এনএনএ এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনী আরব সালিম শহরের একটি ভবন খালি করার নির্দেশ দেওয়ার পর সেখানে চালানো বিমান হামলায় দুজন নারী নিহত ও ছয়জন আহত হয়েছেন।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নাবাতিয়েহ আল-ফাওকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন।
নাবাতিয়েহ শহরে চালানো আরেকটি বিমান হামলায় লেবাননের এক সংসদ সদস্যের ভাইয়ের মালিকানাধীন একটি ঐতিহাসিক ভবন ধ্বংস হয়েছে এবং এর ফলে আশেপাশের বেশ কয়েকটি ভবনেরও ক্ষতি হয়েছে।
কাফার রেমান এলাকায় বিমান হামলায় শহরের প্রয়াত সাবেক মেয়রের বাড়িটি ধ্বংস হয়ে গেছে। আহত পাঁচজনকে নাবাতিয়েহের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
শহরের সাইয়িদা মাসুমা গার্ডেনেও আরেকটি হামলা চালানো হয়েছে; আগের দিন আঘাতের শিকার হওয়ার পর পৌর উদ্যানটির যা কিছু অবশিষ্ট ছিল, তা এই হামলায় ধ্বংস হয়ে গেছে।
ইসরায়েল জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে তাদের বাহিনীর উদ্দেশ্যে হিজবুল্লাহর দুটি ড্রোন ছোড়ার জবাবে তারা এই হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েল এই ঘটনাকে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে "সুস্পষ্ট লঙ্ঘন" হিসেবে অভিহিত করেছে।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের সময় হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে হামলা চালানোর পর—অর্থাৎ গত মার্চ মাস থেকে—ইসরায়েল লেবাননজুড়ে বিমান হামলা ও স্থল অভিযান চালিয়ে আসছে। লেবাননের তথ্যমতে, এসব হামলায় ৪,৩০০-এরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েলি বাহিনী এখনও লেবাননের অভ্যন্তরে প্রায় ১০ কিলোমিটার (ছয় মাইল) পর্যন্ত বিস্তৃত তাদের ঘোষিত একটি "নিরাপত্তা বলয়"-এর মধ্যে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। জুন মাসে বৃহত্তর সংঘাত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার পর থেকে হামলার সংখ্যা কমেছে; একই মাসের শেষের দিকে ইসরায়েল ও লেবানন একটি কাঠামো চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। তবে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় গ্রাম ও শহরগুলোতে ইসরায়েলি বিমান হামলা, কামানের গোলাবর্ষণ এবং বেসামরিক ভবন ব্যাপকভাবে ধ্বংস করার খবর এখনো পাওয়া যাচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুক্রবার দেশটির দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে ইসরায়েলি হামলায় ১৮ বছর বয়সী এক তরুণীসহ চারজন নিহত হয়েছেন। ইসরায়েল জানিয়েছে, তাদের সৈন্যদের লক্ষ্য করে ড্রোন ছোড়ার জবাবে তারা হিজবুল্লাহর বিভিন্ন অবস্থানে হামলা চালিয়েছে। এর আগে চলতি সপ্তাহে ইসরায়েল দাবি করে যে, তারা নাবাতিয়াহর কাছে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ ‘আলি আল-তাহের’ শৈলশিরার ওপর ‘কার্যকর নিয়ন্ত্রণ’ প্রতিষ্ঠা করেছে। হিজবুল্লাহ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
লেবাননের ভূখণ্ডে অবস্থানরত নিজেদের সৈন্যদের ইসরায়েলি সীমান্তের কাছাকাছি সরিয়ে আনার বিষয়টিও বিবেচনা করছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ‘কান’ (Kan) নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, সেনাবাহিনী তাদের উপস্থিতি কমিয়ে ইসরায়েলি সীমান্তের তিন থেকে চার কিলোমিটারের মধ্যে নতুন একটি ‘গ্রে লাইন’ (Grey Line)-এর দিকে সরে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে; সেখানে নতুন তল্লাশি চৌকি বা আউটপোস্ট স্থাপন করা হবে।
এর ফলে ‘ইয়েলো লাইন’এর কিছু অংশ থেকে সৈন্য সরিয়ে নেওয়া হবে; এই লাইনটি লিটানি নদীর উত্তরে বিস্তৃত। ‘কান’জানিয়েছে, ইসরায়েলের রাজনৈতিক নেতৃত্ব এখনো এই পরিকল্পনা অনুমোদন করেনি এবং লেবাননের সেনাবাহিনীর কাছে ভূখণ্ড হস্তান্তরের বিষয়টিও অমীমাংসিত রয়ে গেছে।
হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের এই অভিযানের নিন্দা জানিয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, “আন্তর্জাতিক মহলের সম্পূর্ণ নীরবতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশ্য মদত”-এর মধ্যেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে। ইসরায়েলের সঙ্গে বৈরুতের “ফলহীন সরাসরি আলোচনা”-র বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করার কথাও সংগঠনটি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
কাতার উত্তেজনা প্রশমনের জন্য জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে শনিবার কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান বিন জসিম আল থানি লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালামের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন বলে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
সত্র: আল জাজিরা// এমএইচ
আরও পড়ুন










