সমালোচনার মুখে ঢাবি নিয়ে মন্তব্য প্রত্যাহার ববি হাজ্জাজের
প্রকাশিত : ২১:০৫, ২৯ মে ২০২৬
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে (ঢাবি) ‘কোচিং সেন্টার’ হিসেবে উল্লেখ করে দেয়া বক্তব্য নিয়ে সমালোচনার মুখে ব্যাখ্যা দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
তিনি বলেছেন, তার বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং এ কারণে সৃষ্ট ভুল বোঝাবুঝির জন্য তিনি বক্তব্য সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন।
শুক্রবার (২৯ মে) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিশেষ পোস্টে তিনি এই বক্তব্য প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।
সম্প্রতি একটি পডকাস্টে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে প্রতিমন্ত্রীর করা কিছু মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী শিক্ষকদের সংগঠন ‘সাদা দল’ এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়।
সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান, যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম এবং অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে ববি হাজ্জাজকে বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করা হয় এবং অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। এই প্রতিবাদের পরই মূলত প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্য প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন।
ফেসবুক পোস্টে ববি হাজ্জাজ স্পষ্ট করেন, পডকাস্টের ওই মন্তব্যগুলো ছিল সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত মতামত, যা কোনোভাবেই সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান বা নীতির প্রতিফলন নয়। তিনি দাবি করেন, তার মূল উদ্দেশ্য ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও বেশি বিশ্বমানের একটি গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করার তাগিদ দেওয়া, ঐতিহ্যকে খাটো করা নয়।
পডকাস্টের আলোচনাটি সম্পূর্ণ অনানুষ্ঠানিক ও স্বতঃস্ফূর্ত কথোপকথন ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি যদি কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা নীতিগত আলোচনার পরিসর হতো, তবে বক্তব্যের ভাষা ও উপস্থাপনা অবশ্যই আরও কাঠামোবদ্ধ ও নির্দিষ্ট হতো।
ফেসবুক পোস্টে দেশের উচ্চশিক্ষা খাত নিয়েও কিছু সমালোচনামূলক মূল্যায়ন তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তার মতে, গত ১৭ বছরে দেশের উচ্চশিক্ষা খাত নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে যেখানে একাডেমিক উৎকর্ষের পরিবর্তে স্বৈরাচারী সরকারের রাজনৈতিক বিবেচনা প্রাধান্য পেয়েছে এবং শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মেধাভিত্তিক মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ ছাড়া প্লেজারিজমের মতো অনৈতিক একাডেমিক চর্চার অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে যার কঠোর সমালোচনা করেন তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও জাতি গঠনে অবদানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, তিনি চান এই বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বমানের গবেষণা, উদ্ভাবন ও জ্ঞানচর্চার একটি স্বীকৃত কেন্দ্র হিসেবে আরও শক্তিশালী অবস্থান অর্জন করুক।
তিনি বিশ্বাস করেন, বর্তমানে যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে রয়েছেন তারাও এই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন।
সবশেষে তিনি উল্লেখ করেন, তার আংশিক বক্তব্যের কারণে যেহেতু কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়েছে এবং অনেকেই অসন্তুষ্ট ও মর্মাহত হয়েছেন, সেজন্য তিনি বক্তব্যটি সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন এবং আশা করেন এরপর আর কোনো বিতর্ক থাকবে না।
এমআর//
আরও পড়ুন










