ঢাকা, রবিবার   ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, || পৌষ ১ ১৪২৬

Ekushey Television Ltd.

আপিল করেছেন শাহাদাত

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১১:১০ ২১ নভেম্বর ২০১৯

ঘরে ঘরের বাইরে একটার পর একটা ঝামেলা, ফিটনেসের সমস্যা, ফর্মহীনতা মিলিয়ে নিজেকে খুঁজে পেতে রীতিমতো ধুঁকছিলেন শাহাদাত হোসেন রাজীব। এর মধ্যে আস্তে আস্তে নিজেকে ফিরে পাচ্ছিলেন। গত বছর বাংলাদেশ সফরে আসা জিম্বাবুয়ে দলের বিপক্ষে অনুশীলন ম্যাচে ডাক পেয়েছিলেন। জাতীয় লিগে আগের রাউন্ডেই ৪ উইকেট নিয়েছেন।

ঠিক এই সময় আবার বিরাট ঝামেলায় জড়ালেন শাহাদাত। মাঠে সতীর্থকে পিটিয়ে পেলেন ৫ বছরের নিষেধাজ্ঞা। এর মধ্যে এখনই কার্যকর হবে তিন বছর। এখন তার বয়স যা, তাতে তিন বছর ক্রিকেটের বাইরে থাকা মানে, ক্যারিয়ার এখানেই শেষ। এই নিষেধাজ্ঞা পেয়ে ভেঙে পড়া শাহাদাত হোসেন রাজীব গতকালই শাস্তির বিপক্ষে আপিল করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কাছে। তিনি আশাবাদী যে, একটা ইতিবাচক বিচার পাবেন তিনি।

শাহাদাত বলছিলেন, তিনি ঐ ঘটনায় খুবই অনুতপ্ত। আর এই অনুতাপের কথা জানিয়েই আপিল করেছেন। আগামী ২৯ তারিখ তার আপিল আবেদনের শুনানি হবে বলেও জানালেন এই ফাস্ট বোলার। 

নিজের আশাবাদের কথা বলতে গিয়ে শাহাদাত বলছিলেন, ‘ক্রিকেটে আগে কখনোই বাজে কিছু করিনি। মাঠে খারাপ কিছুর রেকর্ডও নেই। উনারা নিশ্চয়ই এসব বিবেচনা করবেন। ক্রিকেট ছাড়া আর কিছু পারি না। ক্রিকেট খেলেই জীবন চালাতে হবে। আশা করি আমার ব্যাপারটি বোর্ড ভেবে দেখবে।’

জাতীয় লিগের দ্বিতীয় দিনের খেলা চলা অবস্থায় সতীর্থকে পেটানোর এই ঘটনা ঘটান শাহাদাত। বল ঘষে উজ্জ্বল করা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আরাফাতের ওপর ক্ষিপ্ত হন শাহাদাত। শুরু হয় কথা কাটাকাটি। এক পর্যায়ে সতীর্থ এই ক্রিকেটারকে চড়-থাপ্পড় মারা শুরু করেন শাহাদাত। আম্পায়ার এসে সরিয়ে দেওয়ার পরও শাহাদাত আবার গিয়ে মারতে থাকেন। পরে সতীর্থরা তাকে একরকম জোর করেই নিয়ে যায় মাঠের বাইরে।

খেলা চলাকালীন সতীর্থ বা অন্য কারো গায়ে হাত তোলা আচরণবিধির লেভেল ৪ ভঙ্গ করার অপরাধ। এই ধারা ভঙ্গ করলে সর্বনিম্ন এক বছর থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত নিষিদ্ধ করার বিধান রয়েছে। ঘটনার পর ম্যাচ রেফারি আখতার আহমেদ আইন অনুযায়ী ম্যাচের শেষ দুই দিনের জন্য বহিষ্কার করেন শাহাদাতকে। মঙ্গলবার টেকনিক্যাল কমিটির সভায় তাকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয় বোর্ড।

এর আগে নিজ বাসার শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের দায়ে জেলে যেতে হয়েছিল শাহাদাতকে। একই মামলায় জেলে ছিলেন তার স্ত্রীও। জামিনে জেল থেকে মুক্তির পর নিজের ভুল স্বীকার করে দেশ ও জাতির কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন শাহাদাত। সেবার এই পেসারকে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করেছিল বিসিবি। পরে তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জীবিকার কথা ভেবে আবার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল ক্রিকেটে ফেরার।

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি