ঢাকা, সোমবার   ২২ জুলাই ২০১৯, || শ্রাবণ ৭ ১৪২৬

Ekushey Television Ltd.

জয়টা কিন্তু আমাদেরই প্রাপ্য

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৮:০২ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | আপডেট: ১৮:৩৭ ১ অক্টোবর ২০১৮

‘তীরে এসে তরি ডুবল’। যে যাই বলুক- জয়টা কিন্তু আমাদেরই প্রাপ্য। ফাইনালে রুদ্ধশ্বাস লড়াই করেও এশিয়া কাপের স্বাদ পেল না বাংলাদেশ। শুক্রবার দুবাইয়ে থ্রিলার ফাইনালে বাংলাদেশকে তিন উইকেটে হারিয়ে সপ্তমবার এশিয়া সেরা ভারত। বিরাট কোহলিকে ছাড়ায় এশিয়ার চ্যাম্পিয়ন রোহিতবাহিনী৷

এ যেন নিদাহাস ট্রফি ফাইনালের পুনরাবৃত্তি। ফাইনালে প্রতিপক্ষ সেই বাংলাদেশ। থ্রিলার ফাইনাল জিতে চ্যাম্পিয়ন সেই ভারত। ছয় মাস আগে নিদাহাস ট্রফি ফাইনালে ভারতকে জিতিয়ে হিরো হয়েছিলেন দীনেশ কার্তিক। আর এদিন ‘মেন ইন ব্লু’-র খেতাব জয়ের নায়ক কেদার যাদব। হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট নিয়ে ফের মাঠে নেমে দলকে জেতান ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। ২৭ বলে ২৩ রানে অপরাজিত থাকেন কেদার। এর আগে বল হাতে দু’টি উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশ ইনিংসের ছন্দপতন ঘটান তিনি।
২২৩ রান তাড়া করতে নেমে দিনের শুরুটা ভালো হয়নি ভারতের। মাত্র ৩৫ রানে ফর্মে থাকা শিখর ধাওয়ানের উইকেট, এর পর দ্রুত অম্বাতি রায়ডু (২) এবং ক্যাপ্টেন রোহিত শর্মার (৪৮) উইকেট খুঁইয়ে চাপে পড়ে যায় ভারত। ৮৩ রানে তিন উইকেট হারানোর পর ভারতীয় ইনিংসকে টেনে নিয়ে যান ধোনি ও কার্তিক। চতুর্থ উইকেটে দু’জনে ৫৪ রান যোগ করেন। কিন্তু ব্যক্তিগত ৩৭ রানে কার্তিক ও ৩৬ রানে ধোনিকে প্যাভিলিয়নে ফিরিয়ে ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ।

দারুণ বোলিং করে ভারতের মিডল-অর্ডারকে চাপে রাখে বাংলাদেশ বোলাররা। কিন্তু ঠাণ্ডা মাথায় ব্যাটিং করে ভারতকে কাঙ্খিত লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে নিয়ে যান কেদার যাদব ও রবীন্দ্র জাদেজা। কিন্তু হ্যামস্ট্রিংয়ের টান ধরায় মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন কেদার। এ সময় জাদেজাকে সঙ্গ দিয়ে ৩১ বলে ২১ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন ভুবনেশ্বর কুমার। কিন্তু ভুবি ড্রেসিংরুমে ফেরার পর ফের মাঠ নেমে কুলদীপ যাদবকে সঙ্গে নিয়ে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন কেদার।

এর আগে এদিন টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিং করার আমন্ত্রণ জানান ভারত অধিনায়ক। টুর্নামেন্টে অপরাজিত থেকে ফাইনালে নামা রোহিতবাহিনী বাংলাদেশের বিরুদ্ধে রান তাড়া করার ব্যাপারে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী ছিল। শেষ পর্যন্ত লড়াইটা কঠিন হলেও সফল হন রোহিত। বাংলাদেশ এদিন শুরুটা দারুণ করেন। দুই ওপেনার লিটন দাস ও মেহেদি হাসান মিরাজ ১২০ রান যোগ করে বাংলাদেশের ইনিংসকে শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করিয়ে দেন। ১৭.৫ ওভারেই ১০০ রানের গণ্ডি টপকে যায় বাংলাদেশ।

ওপেনিং জুটি ভাঙতে ভারত সময় নেয় ২১ ওভার। ২০.৫ ওভারে অনিয়মিত স্পিনার কেদার যাদবের বলে আউট হেন মেহেদি। ব্যক্তিগত ৩২ রানে প্যাভিলিয়নে ফেরেন তিনি। জুটি ভাঙলেও দলকে এগিয়ে নিয়ে যান লিটন। ৮৭ বলে ১১টি বাউন্ডারি ও ২টি ওভার বাউন্ডারির সাহায্যে সেঞ্চুরি করেন এই ডানহাতি ওপেনার। দেশের জার্সিতে প্রথম সেঞ্চুরি লিটনের। শেষ পর্যন্ত ১১৭ বলে ১২১ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। বাংলাদেশ হারলেও ম্যাচের সেরা হন তিনি। তবে দু’টি সেঞ্চুরি-সহ টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি রান (৩৪২) করে সিরিজের সেরা ভারতের বাঁ-হাতি ওপেনার শিখর ধাওয়ান।

দুই ওপেনার ছাড়া মিডল-অর্ডারে ৩৩ রানের ইনিংস খেলে বাংলাদেশের ইনিংসকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন সৌম্য সরকার। এই তিন ব্যাটসম্যান ছাড়া আর কেউ দু’ অংকের রানে পৌঁছতে পারেননি। শুধু তাই নয় স্বপ্নের শুরু হওয়া বাংলাদেশ ইনিংস ৪৮.৩ ওভারে ২২২ রানে থেমে যায়।

স্পিনাররা ভারতকে ম্যাচে ফেরান। এক সময় মনে হচ্ছিল রোহিতদের সামনে ২৮০ রানের চ্যালেঞ্জে ছুঁড়ে দিতে পারেন মাশরাফিরা। কিন্তু ভারতীয় স্পিনারদের বিরুদ্ধে ইনিংসকে আড়াইশোর গণ্ডিতে পৌঁছতে পারেননি বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানরা।

ভারতের হয়ে সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন কুলদ্বীপ। ৪৫ রান খরচায় তিনি নেন ৩ উইকেট। ২ উইকেট ঝুলিতে ভরেন কেদার।

এ নিয়ে তৃতীয়বার স্বপ্নভঙ্গ হলো বাংলাদেশের। এর আগে ২০১২ সালে ওয়ানডে ফরম্যাটে এবং ২০১৬ সালে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলে টাইগাররা। প্রথমবার পাকিস্তানের বিপক্ষে ২ রানের হারে বেদনাদায়ক চিত্রনাট্য রচিত হয়। আর সবশেষ টি-টোয়েন্টি সংষ্করণে ভারতের কাছে ৮ উইকেটে হেরে দ্বিতীয়বার স্বপ্নভঙ্গ হয়। এবারো তার ব্যত্যয় ঘটল না।

তবুও বলতে হয়- একের পর এক চোট আর আঘাত সহ্য করে যে বাংলাদেশ টিম মরুর মাঠে লড়াই করেছে তা এক কথায় অসাধারণ। মাশরাফির প্রশংসিত নেতৃত্বে টিম টাইগার আবারও ফাইনালে ওঠার স্বাদ পায়। যদিও ব্যাটসম্যানরা ফাইনালে খুব একটা ভালো করতে পারেনি, তবে বল হাতে টাইগার টিম ছিল অপ্রতিরোধ্য। তাই তো জয়ের খুব কাছে গিয়েও ছুঁয়ে দেখা হলো না স্বপ্নের ‘এশিয়া কাপ’।
এসএ/

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি