ঢাকা, শনিবার   ১৮ এপ্রিল ২০২৬

পাবলিক পরীক্ষায় ‘নীরব বহিষ্কার’ প্রথা থাকছে না: শিক্ষামন্ত্রী

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৬:১৩, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

আসন্ন পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে ‘নীরব বহিষ্কার’ বা সাইলেন্ট এক্সপেলের কোনো সুযোগ থাকছে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

তিনি জানিয়েছেন, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া (ডিউ প্রসেস) ছাড়া কাউকে বহিষ্কার করা আইনসম্মত নয়। শিক্ষা বোর্ডের পুরনো এ সংক্রান্ত নীতিমালায় থাকা বিতর্কিত ২৯ নম্বর ধারাটি অবিলম্বে রহিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আজ শনিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আসন্ন এসএসসি, এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে আয়োজিত অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন।

এই বিধানের বিষয়ে বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘নীরব বহিষ্কার বলে কোনো শব্দ থাকতে পারে না। ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ আইন দিয়ে আমরা যখন পরীক্ষা পরিচালনা করেছিলাম, সেখানেও এমন কোনো নিয়ম ছিল না। এটি সম্পূর্ণ আইনবিরুদ্ধ।’

তিনি আরও বলেন, ‘কাউকে শাস্তি দিতে হলে ডিউ প্রসেস বা স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে দিতে হবে। আপনি পরীক্ষা কক্ষে নকল করেছেন কি করেননি, তা সেখানেই প্রমাণিত হতে হবে। নীরবে বাড়িতে বসে কাউকে বহিষ্কার করার বিষয়টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী বলেন, আমরা কনফিডেন্ট যে, বর্তমানে পরীক্ষা কেন্দ্রে গোলযোগ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তাই নীতিমালায় থাকা এই অনুচ্ছেদটি আমি ইমিডিয়েটলি সংশোধনের নির্দেশ দিয়েছি।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘নীরব বহিষ্কার’ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া উদ্বেগ ও শঙ্কার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা পরিচালনা সংক্রান্ত নীতিমালাটি ১৯৬১ সালের তৈরি করা। নীতিমালার পুরনো কোনো অসংগতিপূর্ণ কপি থেকে এই বিভ্রান্তি ছড়িয়ে থাকতে পারে।

ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এ বিষয়ে দ্রুত একটি স্পষ্টীকরণ বিজ্ঞপ্তি জারি করবে।

বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আগামী ২ জুলাই থেকে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হবে। পরবর্তী পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে পরীক্ষা সম্পন্ন করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, এ ছাড়া আগামী ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা সুষ্ঠু পরিবেশে অনুষ্ঠানের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘এবারের কড়াকড়ি আইনগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, বরং শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিবদের জন্য- যাতে তারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা পরীক্ষার্থীদের পেছনে ছুটছি না, বরং শিক্ষার গুণগত মান ও মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের দক্ষতা ও জবাবদিহিতার দিকে নজর দিচ্ছি।’

শিক্ষার মান উন্নয়নে সরকারের পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এনটিআরসিএ’র মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষ নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে, যা শিক্ষা ব্যবস্থার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সভায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং জুম প্ল্যাটফর্মে দেশের সব জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা ও শিক্ষক প্রতিনিধিরা যুক্ত ছিলেন।

এএইচ


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি