ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৬ নভেম্বর ২০২০, || অগ্রাহায়ণ ১২ ১৪২৭

Ekushey Television Ltd.

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪১ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১২:২১ ৩০ অক্টোবর ২০২০

প্রবাসী আয়ের ওপর ভর করে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দিন শেষে দেশের রিজার্ভ নতুন এ উচ্চতায় পৌঁছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। 

এতে রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪১ দশমিক শূন্য ৩ বিলিয়ন বা ৪ হাজার ১০৩ কোটি ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ৩ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকারও বেশি। বর্তমান রিজার্ভ দিয়ে দেশের প্রায় ১০ মাসের আমদানি ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব।

নভেল করোনাভাইরাসের তাণ্ডবে বড় ধাক্কা খেয়েছে দেশের আমদানি খাত। ব্যবসা, ভ্রমণ, চিকিৎসাসহ বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশীদের বিদেশ যাত্রাও প্রায় বন্ধ। অন্যদিকে রেমিট্যান্সে বড় উল্লম্ফনের পাশাপাশি রফতানি খাত ঘুরে দাঁড়ানোয় ক্রমেই বাড়ছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। গত জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত পাঁচ মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভে যুক্ত হয়েছে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার।

রেমিট্যান্সের বড় প্রবৃদ্ধি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী ভিতের ওপর দাঁড়াতে সহায়তা করেছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম। 

তিনি বলেন, জুন থেকে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। প্রবাসীরা আগের চেয়ে অনেক বেশি অর্থ দেশে পাঠাচ্ছেন। দেশের রফতানি খাতও করোনাসৃষ্ট বিপর্যয় কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের শীর্ষ দুটি খাতের প্রবৃদ্ধি অর্থনীতির জন্য আশীর্বাদ। পাশাপাশি বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, এডিবিসহ দাতা সংস্থাগুলোর ঋণসহায়তা বাড়ছে। এতে রিজার্ভের পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ। একই সময়ে রফতানি আয়ে ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ বেড়েছে। বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রধান দুটি উৎস ইতিবাচক ধারায় থাকলেও ব্যয়ের খাত সংকুচিত হয়েছে। অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে আমদানি ব্যয় কমেছে ১১ দশমিক ৪৭ শতাংশ। বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের তুলনায় ব্যয় কম হওয়ায় সরকারের চলতি হিসাবের ভারসাম্যে ৩৫৩ কোটি ডলার উদ্বৃত্ত থেকেছে। যদিও কয়েক বছর ধরে চলতি হিসাবে বড় ঘাটতি ছিল।

গত ৩ জুন দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো রিজার্ভ ৩৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়। তিন সপ্তাহের ব্যবধানে ২৪ জুন সেই রিজার্ভ আরো বেড়ে ৩৫ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে। এক সপ্তাহ যেতে না যেতেই ৩০ জুন রিজার্ভ ৩৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। এরপর ২৮ জুলাই রিজার্ভ ৩৭ বিলিয়ন ডলারের ঘরও অতিক্রম করে। তিন সপ্তাহ পর গত ১৭ আগস্ট রিজার্ভ ৩৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়। পরে তা আরো বেড়ে দাঁড়ায় ৩৯ বিলিয়ন ডলারে। ৮ অক্টোবর রিজার্ভ ৪০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলকও ছাড়িয়ে যায়। উন্নতির এ ধারাবাহিকতায় অক্টোবর শেষ হওয়ার আগেই বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪১ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল।

নভেল করোনাভাইরাস সৃষ্ট মহামারীতে আর্থিক বিপর্যয়ে পড়েছেন বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা এক কোটির বেশি বাংলাদেশি। মধ্যপ্রাচ্যসহ ইউরোপ-আমেরিকার অনেক দেশ থেকে আসা প্রবাসীদের বড় অংশই কর্মস্থলে ফিরে যেতে ব্যর্থ হয়েছেন। দেশের প্রধান শ্রমবাজার সৌদি আরবের নতুন ভিসা বন্ধ। ছুটিতে দেশে ফেরা ৫০ হাজারের বেশি বাংলাদেশী এখনো সৌদি আরবে ফিরতে পারেননি। অন্যতম শ্রমবাজার কুয়েতে ফিরতে পারছেন না ছুটিতে দেশে আসা বাংলাদেশীরা। তার পরও চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে দেশের রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ। প্রবৃদ্ধির এ ধারা অব্যাহত আছে চলতি মাসেও। মূলত প্রবাসীদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রার ওপর ভর করেই ৪১ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করেছে রিজার্ভ।

এমবি//


New Bangla Dubbing TV Series Mu
New Bangla Dubbing TV Series Mu

© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি